অসমের ভয়াবহ অবস্থা নিয়ে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট, চাঞ্চল্যকর সেই প্রতিবেদন এলো টিডিএন বাংলার হাতে

0

সামাউল্লাহ মল্লিক, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : অসমের নাগরিকত্ব ইস্যু, ডি ভোটার, ডিটেনশন ক্যাম্প সহ একাধিক ইস্যুতে সাংবাদিক সম্মেলন করল দিল্লির ‘ইউনাইটেড এগেইনস্ট হেট’ নামক একটি সমাজসেবী সংগঠন। বুধবার অনুষ্ঠিত এই সাংবাদিক সম্মেলনে অসমের জ্বলন্ত সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। এই রিপোর্টে অসমের নানাবিধ সমস্যা বর্ণনা করা হয়েছে। সেই তথ্যানুসন্ধান রিপোর্টের সারমর্ম তুলে ধরা হল টিডিএন বাংলার পাঠকদের জন্য।

এনআরসি-র বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

টিডিএন বাংলার হাতে আসা ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, Bodoland Territorial Area Districts (BTAD) -এর চিরাং জেলার অ্যাংকরবাড়ি গ্রামের পঞ্চানন্দ রায় তাঁর স্ত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। “৫ দিন আগে বর্ডার পুলিশ আমার স্ত্রী অলাবিলা রায়কে গ্রামের মন্দির থেকে তুলে নিয়ে যায়। উনি ওইদিন ওখানে পূজা করছিলেন। আমি জানিনা কেন ওরা আমার স্ত্রীকে নিয়ে গেল। ৫-৬ দিন তিনি কোকড়াঝাড় জেলে ছিলেন, যদি তারপর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।”

গৌহাটি হাইকোর্টের আইনজীবী মইজুদ্দিন মাহমুদ (যিনি এই বিষয়ে বহু মামলা লড়েছেন) – এর বক্তব্য অনুযায়ী হজই জেলার মুরাঝার নিবাসী অতয়ার রহমানকে কোনও নোটিস ছাড়াই বাংলাদেশি বলে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 8 বছর জেলে বন্দি থাকার পর কিছুদিন আগে তাঁর জামিন হয়। মইজুদ্দিন মাহমুদ-এর দাবি এই ধরনের প্রচুর মানুষ আছেন, যাঁদের বিনা নোটিসে অথবা বাধ্যতামূলক সময়সীমা উল্লঙ্ঘন করে দেরিতে নোটিস দিয়ে “Doubtful Voter (D-Voter)” অথবা “বিদেশি”বলে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে।

বড়পেটার কলগাসিয়া টাউন -এর বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার ১৯৯৭ সালে হথাত জানতে পারেন যে তাঁকে “D-Voter” করে দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে তিনি এই বিষয়ে নোটিস পান। আব্দুলবাবু-এর বক্তব্য, “এমন কোনও ডকুমেন্ট নেই যা আমার কাছে নেই। আমি সরকারি চাকরি করেছি। অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে যে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী হিসেবে আমি পেনশন-ও পাই। আমার কাছে সরকারের দেওয়া “প্রবীণ নাগরিক” সার্টিফিকেট আছে, নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট আছে। আমি নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ হই, কিন্তু আদালত হাত তুলে দেয়।”

NRC-র কর্মপ্রক্রিয়া নিয়ে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন একটি দুটি নয়, অসংখ্য। NRC-র বক্তব্য তারা ইন্টারনেট -এর মাধ্যমে জনগণকে সময়সীমার মধ্যেই নোটিস পাঠিয়েছে। কিন্তু অসম-এর মতো প্রদেশে, যেখানে ইন্টারনেট পরিষেবার ব্যাপ্তি এবং সাক্ষরতা – এই দুটি-ই সীমিত, সেখানে এই পদ্ধতিতে নোটিস পাঠানো নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অসমের ৬৭% মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে।

টিডিএন বাংলার হাতে আসা ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বহু মানুষ যারা NRC -র নোটিস হয় পাননি, অথবা দেরিতে পেয়েছেন, তাঁরা সময়ে সমস্ত নথিপত্র জোগাড় করে foreigners tribunal -এ উপস্থিত হতে পারেননি। এর ফলে এঁদের প্রত্যেককে “বিদেশি”ঘোষণা করে দেওয়া হয়। লাখ লাখ “D-Voter”ঘোষিত হয়ে যাওয়া মানুষ কাগজপত্র-সার্টিফিকেট নিয়ে ঘুরে মরছেন। ভোট দিতে গিয়ে, অথবা সোজা গ্রেপ্তার হওয়ার পরেই এনারা যানতে পারেন যে এনাদের “D-voter”বলে দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলি, মুখ্যত BJP-RSS -এর চাপে NRC-র দৈনন্দিন কাজে বহু ভুলভ্রান্তি তো হচ্ছেই, বহু মানুষ প্রতারিত-ও হয়ে চলেছেন।

NRC -র রায়কে অসমে প্রায় সমস্ত গোষ্ঠীর মানুষই স্বাগত জানিয়েছিলেন – তা তাঁরা বাংলাভাষী-ই হোন বা অহমিয়া। তাঁদের আশা ছিল NRC একবার সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়ে গেলে রাজ্যে ৫০ বছর ধরে ছলতে থাকা ভাষা সংক্রান্ত বিবাদ শেষমেশ শেষ হবে।

কিন্তু বাস্তবে ঘটল অন্য কিছু। অসমের সেই সমস্ত মানুষ যারা অস্তিত্বের শেষ ধাপে কোনওক্রমে দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁদের কাছে NRC, ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করার ভার মৃত্যুদণ্ডের সমান। এর ফলে এখন অবধি দু’টি আত্মহত্যাও হয়েছে বলে জানা গেছে। উদলগুড়ি জেলার নিশলামারি গ্রামের ৬৫ বছরের প্রৌঢ় গোপাল দাস এর মধ্যে একজন। গোপাল দাসের জীবিকা ছিল দিনমজুরি, এবং নাগরিকত্ব প্রমাণ করা নিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে আত্মাহুতি দেন তিনি।

কছার জেলার ৪০ বছর বয়সী হানিফ খান জানতে পারেন যে NRC -র প্রথম তালিকায় তাঁর নাম নেই, এবং তাঁকে “বাংলাদেশি”ঘোষণা করা হয়েছে। কাশিপুরে নিজের বাড়ির সামনে একটি গাছে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন হানিফ। বোঙ্গাইগাও জেলার অবহর আলিকে “বিদেশি”ঘোষণা করে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। এর ফলে মানসিক চাপের বশে তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যা করেন বলে টিডিএন বাংলার হাতে আসা ওই রিপোর্টে জানা গিয়েছে।

দেখা গেছে যে NRC -র তরফ থেকে নাগরিকত্ব প্রমাণ করার যে নোটিস পাঠানো হয়েছে, বহু মানুষ হয় তা পাননি, বা পেলেও অনেক দেরিতে পেয়েছেন। এরপর NRC তাদের হাতে থাকা অসম্পূর্ণ নাগরিক তালিকা foreigners tribunal কে পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে যারাই কোন কারণবশত নোটিসের জবাব দেননি, বা হাজিরা দেননি, tribunal থেকে ex-party নির্দেশ জারি করে তাঁদের সকলকে “বিদেশি”ঘোষণা করে দেওয়া হয়।

যেকোনো মানুষের ক্ষেত্রেই নাগরিকত্বের প্রশ্ন বাঁচা-মরার প্রশ্ন। কিন্তু বিশেষতঃ এক্ষেত্রে মানুষ জানেনই না যে নাগরিকত্ব প্রমাণ করার জন্য কি করতে হবে, কোথায় যেতে হবে, কি প্রমাণপত্র জমা করতে হবে, নোটিসের জবাব কি করে দিতে হবে, ইত্যাদি। দিনে দুবেলা পেটের ভাত জোটানোর লড়াইয়ে জেরবার কৃষক, শ্রমিক, গরীব মানুষ “প্রমাণপত্র”বিষয়ে অতশত খোঁজ রাখেন না।

অসমে যদি NRC -র পরিসংখ্যান ঠিক ঠিক আসত, তাহলে বিভিন্ন বিবাদের সত্য-মিথ্যা যাচাই হওয়ার প্রেক্ষিত তৈরি হতে পারত। সে ক্ষেত্রে BJP-RSS -এর পক্ষে অসমে ‘হিন্দুত্ব কার্ড’খেলতে সমস্যা হত। উল্টো দিকে AIDUF -ও নিজের ‘মুসলমান কার্ড’খেলতে পারত না। অতএব BJP-RSS চায় না যে NRC -র কাজ নিরপেক্ষভাবে চলুক।

নোটিস পাঠানো নিয়ে বড় রকম গণ্ডগোলের প্রশ্নে NRC আধিকারিক অজুপি বরুয়া বলেন যে সবাইকে ইন্টারনেট -এর মাধ্যমে নোটিস পাঠানো হয়েছে, এবং এই বিষয়ে কোনরকম গণ্ডগোল নেই। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে কোন রকম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার প্রশ্নই নেই। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায় যে, গ্রামীণ অসমে কত শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন।

NRC -র গুরুত্ব

যদি অসমে বেআইনি ভাবে বসবাস করা বাংলাদেশি নাগরিকদের সঠিক পরিসংখ্যান নির্ণয় করতে হয়, তবে NRC সঠিকভাবে হওয়া দরকার। গৃহমন্ত্রক থেকে NRC কে পাঠানো পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৫০ থেকে এখন পর্যন্ত ৮০০০০ বাংলাদেশি অসমে আসেন, জার মধ্যে ৪০০০ এখনো অসমে রয়েছেন। বাকিরা হয় ফেরত চলে গেছেন, অথবা তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।

অসমে সামাজিক স্তরে মূল বিবাদ হিন্দু-মুসলমানের নয়, বরং ভাষাভিত্তিক বিবাদ। অহমিয়া মানুষ সাধারণভাবে চান না যে বাংলাভাষী, বিশেষত বাংলাভাষী মুসলমান মানুষ সেখানে থাকুন। এখানে বসবাসকারী প্রতিটি মুসলমানকে সারাক্ষণ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে দেখা হয়। তাই অসমের মুসলমানেরাও NRC চান। যাতে ৫০ বছর ধরে তাঁদের উপর লেগে থাকা এই স্ট্যাম্প পাকাপাকিভাবে ধুয়ে যায়। NRC -ই একমাত্র মাধ্যম যার ফলে তালিকাভুক্ত মানুষ ভারতীয় নাগরিকত্ব দাবী করতে পারবেন।

টিডিএন বাংলার হাতে আসা ওই রিপোর্টে অনুযায়ী, NRC আধিকারিক অজুপি বরুয়া বলেন, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী মাত্র ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ “D-Voter”। সুপ্রীম কোর্টের নজরদারিতে ৬ ডিসেম্বর ২০১৩-এ অসমে NRC -র কাজ শুরু হয়। সর্বমোট ১২২০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে মোট ৫০০০০ সরকারি কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবী যুক্ত।

২০১৪-র মধ্যে NRC রাজ্যে নিজের পরিকাঠামো তৈরি করে ফেলে। ২০১০ সালে একটি পাইলট প্রোজেক্ট-ও নেওয়া হয়, যেটি ব্যর্থ হয়। এই নিয়ে বড়পেটা জেলায় হিংসাত্মক ঘটনাও ঘোঁটে, যার ফলে ৪ জন মারা যান।

বরিষ্ঠ আইএএস আধিকারিক প্রতীক হাজেলা কে এর আহবায়ক নিযুক্ত করা হয়। সারা রাজ্যে ২৫০০ NRC সেবাকেন্দ্র তৈরি হয়। সেবাকেন্দ্রগুলির কাজ হল সাধারণ মানুষকে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে উপস্থিত হওয়ার আহবান জানানো, এবং তাঁদের পরিচয় সুনিশ্চিত করা। এই বিষয়ে অসমের সঙ্গে বাকি দেশের মূল ফারাক এই যে, দেশের অন্যত্র যখন জনগণনা অথবা নাগরিকত্ব সম্পর্কিত তথ্য আদায় করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের আধিকারিকরা মানুষের বাড়ি-বাড়ি যান, অসমে সেখানে সাধারণ মানুষকে নিজে NRC সেবাকেন্দ্রে গিয়ে প্রমাণ করতে হয় যে তাঁরা এদেশের নাগরিক।

যদি ১৯৫১-র জনগণনাকে NRC -র প্রথম ড্রাফট বলা হয়েছে, কিন্তু ওই জনগণনা এবং এখনকার NRC -র মধ্যে আকাশ পাতাল তফাত। বর্তমান NRC র তালিকা রীতিমত তদন্ত করে তৈরি করা হচ্ছে। প্রত্যেক জেলায় ডিসি অফিসকে ১৯৫১ থেকে ১৯৭১ অবধি সমস্ত ভোটার তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
– আবেদনকারীর সংখ্যা কোটির ঘরে হওয়ায় ফটোকপির সমস্যা এড়াতে সবকিছু ‘ডিজিটাইজ’করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রত্যেককে ‘Legacy Data Card’মারফত ২.৩ কোটি ইউনিক আইডি দেওয়া হয়। এর জন্যে উইপ্রো কর্তৃক NRC র জন্য ৮০টি সফটওয়্যার তৈরি করা হয়। এর ফলে আবেদনকারী NRC সেবাকেন্দ্রে গিয়ে অনলাইন নিজের সমস্ত নথিপত্র পেতে পারেন। ২০১৫-র মধ্যে NRC এই সব (পরিকাঠামোগত) কাজ শেষ করে। এর মাধ্যমে ৬৮.২৯ লাখ পরিবারভুক্ত ৩.৩৯ কোটি মানুষ আবেদন দাখিল করেন।

NRC আধিকারিক বড়ুয়া-র বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা অনুমান করেছিলেন ৬৪ লাখ পরিবার আবেদন দাখিল করবেন। এই অনুমানের ভিত্তি ২০১১-র জনগণনা। ৩.৩৯ কোটি মানুষের সাকুল্যয়ে ৬.৬ কোটি নথিপত্র তাঁদের দফতরে জমা পড়ে। জমা হওয়া নথির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সেগুলিকে ৭৯০০০টি ভিন্ন ভিন্ন সরকারি অফিসে পাঠানো হয়। অজুপি বড়ুয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের সূচির ভিত্তিতে “D-Voter”ঘোষিত মানুষের মামলা foreigners tribunal -এ নিষ্পত্তি হওয়া অবধি তাঁদের স্ট্যাটাস “হোল্ড”-এ রাখা হবে।

টিডিএন বাংলার হাতে আসা ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, NRC র এক আধিকারিক স্বীকার করেন যে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চলছে। কারণ NRC তালিকা এলে রাজ্যে এত বছর ধরে চলতে থাকা ভয় দেখানোর রাজনীতি বন্ধ হয়ে যাবে।

অসম সমেত সারা ভারতবর্ষে foreigners act 1946 লাগু আছে। কিন্তু Citizenship (Amended) Act 1955 -এর ধারা 6A শুধু অসমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এতে বলা আছে এই যে ২৪ মার্চ ১৯৭১-এর পর পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে বেআইনি ভাবে আসা মানুষদের ফিরে যেতে হবে। Tribunal Order 1964 অনুযায়ী অসমে foreigners tribunal গঠন করা হয়। বর্তমানে সারা রাজ্যে foreigners tribunal -এর সংখ্যা ১০০। Foreigners Act -এর ধারা 9 অনুসারে অসমে কোনও নাগরিকের নাগরিকত্ব নিয়ে সরকার সন্দেহ প্রকাশ করে, তবে তাঁর দায়িত্ব সরকারের কাছে প্রমাণ করা যে তিনি সত্যিই নাগরিক। রাজ্যের এতে কোনও দায় নেই।

মহিলাদের পরিস্থিতি

বিয়ের সূত্রে বা অন্য কোনও কারণে যেসব মহিলারা অন্য গ্রামে চলে গেছেন, তাঁদের legacy linkage নথিপত্র নিয়ে ঘোরতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিয়ের পড়ে তাঁদের নাম পরিবর্তনও ঘটে। স্বামীর পদবি লাগাতে হয়। এই অবস্থায় NRC যদিও নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য পঞ্চায়েত সার্টিফিকেট চলবে বলে জানায়, কিন্তু গৌহাটি হাই কোর্ট এতে আপত্তি জানায়। শেষমেশ সুপ্রীম কোর্ট এই মামলায় রায় দেন যে পঞ্চায়েত সার্টিফিকেটকে নাগরিকত্ব প্রমাণের কাজে বৈধ ডকুমেন্ট বলে ধরা হবে। যদি কোর্ট এও বলেন যে সেরকম সার্টিফিকেট -এর সত্যতা যাচাই করতে হবে।

টিডিএন বাংলার হাতে আসা ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, NRC তে নাম লেখানো ৩.২০ কোটি মানুষের মধ্যে ৪৮ লাখ নাগরিক পঞ্চায়েত সচিবের দেওয়া প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের দাবী জানিয়েছেন। এঁদের মধ্যে বেশিরভাগই মহিলা আবেদনকারী। ২৬ মার্চ ২০১৮-এ অসম বিধানসভায় ওঠা একটি প্রশ্নের উত্তরে বলা হয় অসমের এই ৬টি ‘ডিটেনশন সেন্টার’-এ ‘বিদেশি’মহিলাদের সংখ্যা এইরকম: গোয়ালপাড়া – ২৫৩ জন, কোকরাঝাড় – ১৬০ জন, সিলচর – ৯১ জন, জোরহাট – ১২০ জন, ডিব্রুগঢ় – ৪৮ জন, এবং তেজপুর – ২৭৯ জন।

বর্তমানে foreigners tribunal -এ এই বিষয়ে ৩ লাখ মামলা দায়ের হয়ে আছে। ২০১১-র জনগণনা অনুযায়ী অসমে মুসলমানদের সংখ্যা ৩৪%, ১৯৫১-এ এই সংখ্যা ছিল ২৪%। অহমিয়া মানুষের সংখ্যা ৪৮.৩%, এবং বাংলাভাষী মানুষের সংখ্যা ২৪%। গৌহাটি ইউনিভার্সিটির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবদুল মান্নান জানান, অসমে ৫৭% মুসলমান মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন। গ্রামীণ এলাকায় অবস্থা আরও খারাপ। আবদুল বাবুর মতে,অশিক্ষা এবং দারিদ্র্য-ই মুসলমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির মূল কারণ, ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ’ নয়।