সামাউল্লাহ মল্লিক, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : অসমের নাগরিকত্ব ইস্যু, ডি ভোটার, ডিটেনশন ক্যাম্প সহ একাধিক ইস্যুতে সাংবাদিক সম্মেলন করল দিল্লির ‘ইউনাইটেড এগেইনস্ট হেট’ নামক একটি সমাজসেবী সংগঠন। এদিনের এই সাংবাদিক সম্মেলনে অসমের জ্বলন্ত সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। এই রিপোর্টে অসমের নানাবিধ সমস্যা বর্ণনা করা হয়েছে।

‘ইউনাইটেড এগেইনস্ট হেট’ এর কনভেনর নাদিম খান জানান, অসমে একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে সেখানকার হালহকিকত সরেজমিনে খতিয়ে দেখার পর এই রিপোর্ট তৈরী করা হয়েছে। এই প্রতিনিধি দলটি অসমে গিয়ে প্রায় ৫০০ জন আইনজীবী, অধ্যাপক, সমাজকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ, প্রতীক হাজেলাদের মতো নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

নাদিম খান বলেন, ‘আমরা পুরো অসম ঘুরেছি। আমরা আমাদের রিপোর্ট আগেই প্রকাশ করেছি। হায়দরাবাদ, দিল্লি এবং কেরলেও আমাদের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট রিলিজ হয়েছে। রিপোর্ট দেখে সহজেই বলা যায় যে, বিজেপি নিজ এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। ১০২ বছরের লোকের ব্যাপারে সন্দেহ করা হচ্ছে সে নাগরিক কিনা এবং তাকে জেলে পাঠানো হচ্ছে। স্বাধীনতা সংগ্রামীকে পর্যন্ত জেলে পাঠানো হচ্ছে। যেন এক অদ্ভুত খেলা চলছে।’

এদিনের প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত প্রবীণ সাংবাদিক অমিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘অসমে প্রায়ই বন্যা দেখা দেয়। তাদের পক্ষে বেঁচে থাকাই দায়, তাঁরা জমির কাগজপত্র সংরক্ষণ করে রাখবে কিভাবে? ছেলে নাগরিক মা নয়, বাবা নাগরিক কিন্তু ছেলে নয়। হাস্যকর বিষয়। মুসলিম মহিলাদের নামের ক্ষেত্রে সমস্যা। বিয়ের আগে বিবি, বিয়ের পর বেগম, বিধবা হলে বেওয়া। সেক্ষেত্রেও সমস্যা। অসমে সবথেকে বেশি মুসলিম বাঙালিরা সমস্যায় পড়ছে। কেউ আন্দোলন করলে তাঁদের পুলিশি হেনস্থা পোয়াতে হচ্ছে।’

প্রবীণ সাংবাদিক দেবাশীষ আইচ বলেন, ‘অসম যেন নরকে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যাবেলা মানুষ বাড়ির বারান্দায় বসে ভয় মাখা চেহারা নিয়ে আলোচনা করছে। যেন ৪৭ আবারও ফিরে এসেছে। তাদের আশা ছিল বাংলার মানুষ, বাংলার সাংবাদিকরা, বাংলার নেতারা তাঁদের হয়ে কথা বলবে। কিন্তু তাঁদের সে গুড়েও বালি।’ এদিনের এই প্রেস কনফারেন্স থেকে বিজেপি সরকারকে সমস্ত সমস্যার জন্য মূল দায়ী বলে অভিযুক্ত করেন উপস্থিত বক্তারা।