মহ: আসিফ আহমেদ, টিডিএন বাংলা, উত্তর ২৪ পরগানা : মাস খানেক আগে স্কুলের হোস্টেল থেকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার শ্রীরামপুর এগ্রিকালচার উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র শরিফুল গাজীর  ছিন্নভিন্ন দেহ উদ্ধার হয়েছিল। আর সেই ঘটনার চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে বাংলার সর্বত্র এলাকায়।
প্রসঙ্গত, শরিফুলের খুনের সাক্ষ্যদাতা পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না থানার শ্যামগঞ্জের বাসিন্দা নবম শ্রেণীর ছাত্র সৌরভ গুড়ির দেহ একই কায়দায় স্কুলের তালাবন্ধ ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার। আর এই দুই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শুক্রবার শরিফুলের পরিবারের সাথে দেখা করেন ফ্র্যাটারনিটি মুভমেন্টের রাজ্যে প্রতিনিধি দল।
স্কুলের আবাসিক হোস্টেল থেকে দু’-দুটো ছাত্র হত্যা ঘটনায় রীতিমতো মুখে কুলুপ স্কুল কর্তৃপক্ষের। আর এই দুই ঘটনায় হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তির ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহলে।
পরিকল্পিত হত্যার উদ্বেগ প্রকাশ করে ফ্র্যাটারনিটি মুভমেন্টের সাধারন সম্পাদক আবু জাফর মোল্লা বলেন, “আমাদের সামনে যে সব তথ্য উঠে আসছে তাতে এটাই প্রমানিত হল সৌরভ ও শরিফুলের মৃত্যু পরিকল্পিত হত্যা। সব থেকে বড়ো প্রমান শরিফুলের পর সৌরভ গুড়ির মৃত্যু। শরিফুলের মৃত্যুর দিন সন্ধ্যায় হোস্টেলের রাঁধুনি স্ত্রীর শরীর খারাপ বলে বেরিয়ে যান, তিনি চলে যাওয়ার পর ছাত্ররা নিজেরাই রান্না করে খাওয়ার জন্য এবং সেই সময় হোস্টেলের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার কিছুক্ষণ পরেই শরিফুলের লাশ তিন তলার একটি ঘর থেকে উদ্ধার হয়। আসলে এতগুলো ঘটনা কাকতালীয় ভাবে হয়েছে বলে যুক্তির বিচারে মানা সম্ভব নয়৷ আমরা এই নৃশংস সিরিয়াল হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই।”
আবার ফ্র্যাটারনিটি মুভমেন্টের রাজ্য সম্পাদক জুলফিক্কার আলি মোল্লা বলেন, “দেশের জনগণ তাঁর প্রিয় প্রজন্মকে ভবিষ্যতের কারিগর করতে শিক্ষাঙ্গনে পাঠায়। কিন্তু তাকে মানুষ করার পরিবর্তে চক্রান্ত করে হত্যা দেশের জন্য অশনি সংকেত।” তিনি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, “সৌরভ ও শরিফুলের খুনিদের অবিলম্বে খুঁজে বার করে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।”
হোস্টেলে দুই হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা সারা দেশবাসীকে যেন আতঙ্কের প্রহরে ফেলে দিয়েছে। অনেকেই বলেন, মানুষ ছেলে-মেয়েকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য স্কুলে পাঠায়। আর সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি ছাত্র-ছাত্রীদের নারকীয় লাশ হয়ে ঘরে ফিরতে হয় তার থেকে দুঃখ আর উদ্বেগ কি হতে পারে! শরিফুল খুনের তীব্র ব্যাথা জানিয়ে ছেলে হারা বাবা বলেন, ‘আমার ছেলেকে স্কুলে পাঠিয়েছিলাম  শিক্ষা অর্জনের জন্য। কিন্তু আমার ছেলে শিক্ষা নিয়ে আর ঘরে ফিরলোনা, ফিরলো কিন্তু লাশ হয়ে! ভগবান কারোর ছেলে – মেয়েকে যেন এমন করুন অবস্থা না করেন।’
আর এই দুই ঘটনায় মূলত আঙুল উঠছে স্কুল কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে। আর প্রশাসনের গাফিলতিকেও সহজেই উড়িয়ে দিতে পারছেননা অনেকেই!