নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা: এ দল থেকে সে দল গেলে হবেনা,মুসলিম জাতিকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। এমনই মন্তব্য করলেন জামায়াতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতি মুহাম্মদ নুরুদ্দিন।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মহেশতলার চট্টা ফোট এলাকার একটি হল রুমের সেমিনারে বুদ্ধিজীবীদের সামনে এই কথা বলেন তিনি।
মুহাম্মদ নুরুদ্দিন বলেন, কংগ্রেস মুখোশ পরে সাম্প্রদায়িকতা করেছে আর বিজেপি মুখোশটা খুলে দাঙ্গা করছে। মুসলিমদের সব অর্গানাইজারদের নিজেদের করে নিয়েছে তৃণমূল। জামায়াতে ইসলামী হিন্দের অফিসেও তৃণমূল নেতারা অফার দিয়েছে। আমরা বিধায়ক, সাংসদ পদ নিয়ে পরনির্ভরশীল হইনি। কোনও জাতি নিজস্ব সত্তা হারিয়ে টিকে থাকতে পারেনা। আজ মুসলিমদের একটা অংশ নিজস্ব আদর্শ, নিজস্ব কালচার ভুলে তৃণমূল, সিপিআইএম, কংগ্রেসের দাসত্ব করছে। কেউ কেউ বিজেপিও করছে।
মমতা বন্দোপাধ্যায় আসার পরে আরএসএসের স্কুলগুলি অনুমোদন পেলো। অথচ মাদ্রাসায় নিয়োগ বন্ধ। আরএসএস এখন শক্তিশালী হয়েছে। মুসলিমরা দিদির উপর ভরসা রেখেছে, অথচ দিদি ভিতরে ভিতরে আরএসএস কে শক্তিশালী করছে। মোদী বলেছেন, ‘আমি দিল্লিতে আছি, দিদি বাংলায় আছেন।’ এমন হতে পারে রাজ্যে বিজেপি না এসেও বিজেপির কাজ করবে। ত্রিপুরায় সিপিআইএমের সৌজন্যে সাম্প্রদায়িক শক্তি জায়গা পেয়েছে। আমি বলবো, মুসলিম জাতিকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। এই জন্য নিজেদের মিডিয়া করতে হবে,নিজেদের আইআইটি থাকতে হবে, নিজেদের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থাকতে হবে। নিজেদের সব কিছু থাকতে হবে। তুরস্কের নাজমুদ্দিন এরবাকান নিজের পায়ে দাঁড়াবার মন্ত্র শিখিয়েছেন। আজ তাই এরদোগান পৃথিবীতে শান্তির জন্য বড়ো ভূমিকা রেখেছে।”
মুহাম্মদ নুরুদ্দিন বলেন,”প্রতিটি কাজের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকা উচিৎ। সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠতে হয়। কিছু নিয়ম ও পদ্ধতি মেনে আন্দোলন করতে হয়।”
এদিনের আলোচনা সভায় জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু বুদ্ধিজীবী ও সমাজদরদী মানুষ এসেছিলেন।