ইসলামী আদৰ্শ প্রতিষ্ঠার জন্যই হাই মাদ্রাসা তৈরি হয়েছে : মুহাম্মদ নুরুদ্দিন

0

সাফানা মন্ডল, টিডিএন বাংলা, ঢোলা : ইসলামী আদৰ্শ প্রতিষ্ঠার জন্যই হাই মাদ্রাসা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করলেন জামায়াতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতি মুহাম্মদ নুরুদ্দিন। শুক্রবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ঢোলাহাটের মাদার পাড়া উচ্চ মাধ্যমিক হাই মাদ্রাসার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব উপলক্ষ্যে তিনদিনের আয়োজিত উৎসবের প্রথম দিনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতি মুহাম্মদ নুরুদ্দিন বলেন,”ইসলামী সংস্কৃতি, মাদ্রাসার সাথে আমাদের আত্মার সম্পর্ক আছে। একদল মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মাদ্রাসা তৈরি করেছেন। ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী আদৰ্শ প্রতিষ্ঠার জন্য মাদ্রাসা হয়েছে। বর্তমান শিক্ষক, কমিটির লোকদের উচিৎ তাঁদের স্বপ্নকে পূরণ করার জন্য কাজ করে যাওয়া।

ভারতের সংবিধান আমাদের মৌলিক অধিকার এই দিয়েছে যে সংখ্যালঘুরা নিজেদের পছন্দ মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে। মাদ্রাসায় তাই গান বাজনা বা অশ্লীলতা থাকবে না। এখানে ইসলামী কালচার থাকবে, এটাই মাদ্রাসার ঐতিহ্য।” তিনি আরও বলেন,”মাদ্রাসার ছেলেমেয়েরা কোনও অংশে মেধার দিক দিয়ে পিছিয়ে নেই। মাদ্রাসার ছেলেমেয়েরা যতই বড়ো হোক, তাদের কখনই শেকড়কে ভুলে যাওয়া উচিৎ নয়। জীবনে তুমি যতই বড়ো হও, কোনও এক মুহূর্তের জন্যও যেন সৃষ্টি কর্তা ভুলে না যাওয়া হয়। তেমনি পিতামাতা ও শিক্ষক শিক্ষিকা সর্বদাই শ্রদ্ধার পাত্র। এক মুহূর্তও তাদের অবজ্ঞা করা উচিত নয়। প্রতিটি কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করতে হবে।”

Advertisement
head_ads

এদিন জামায়াতে ইসলামীর রাজ্য পরামর্শ পরিষদের সদস্য মুফতি তাহেরুল হক বলেন,”হাই স্কুল থাকা সত্ত্বেও হাই মাদ্রাসা এই কারণে হয়েছে যাতে মুসলিমরা ইসলামী শিক্ষা পেতে পারে। আমাদের সংস্কৃতি, তামাদ্দুনকে মজবুত করতে হবে মাদ্রাসা থেকে, এখানে নামাজের ব্যবস্থা হয়। ইসলামী কালচার থাকে।” তিনি অভিযোগ করে বলেন,”বর্তমান সরকারের সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষার অবস্থা ভালো নেই।”

মাদ্রাসার প্রথম প্রধান শিক্ষক নূর আলম হালদার ১৯৬৮ সালের সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে বলেন,”এই মাদ্রাসা তৈরি করতে অনেককে চোখের পানি ফেলতে হয়েছিল, কাঁধে করে বাঁশ বইতে হয়েছে, রোদে পুড়তে হয়েছে। এলাকার মানুষ আর ছাত্ররা বিরাট অবদান রেখেছে। এই মাদার পাড়ার বিশেষ বিশেষ লোক যারা মাদ্রাসা গড়তে ভূমিকা রেখেছেন তাঁরা আজ নেই। আমার সহ কর্মীরা কেউ বেঁচে নেই। যাঁরা জমি দান করেছে, টাকা দিয়েছেন, শ্রম দিয়েছেন আল্লাহ তাঁদের দানকে কবুল করুন। তোমরা বড়ো হয়ে মাদ্রাসার উন্নতির জন্য প্রচেষ্টা করবে।”

এদিন সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও প্রভাত ফেরীর মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। সারাদিন চলে নানা অনুষ্ঠান। ছাত্রছাত্রীরা কবিতা, ইসলামী সংগীত, নাটক পরিবেশন করে। মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব মীর অতিথিদের স্বাগত জানান। টিডিএন বাংলাকে দীর্ঘ ৫০ বছরের ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে অনেক প্রবীণ ব্যাক্তি এদিন আবেগের সুরে অতীতের স্মৃতি মেদুর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢোলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অসীম কুমার হালদার, বিশিষ্ট সমাজসেবী সমীর কুমার নাইয়া, মিল্লাত গার্লস একাডেমির সাবিনা ইয়াসমিন, মডেল গার্লস হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন সুলতানা প্রমুখ।

head_ads