রেবাউল মন্ডল, টিডিএন বাংলা, মালদা : ঈদ এসেছে। কিন্তু ঈদের আনন্দ নেই কালিয়াচকের শ্রমিক আফরাজুলের পরিবারে। হয়নি কেনাকাটা। আর কিনবেই বা কে। সেই মানুষটিই তো আর নেই। তাই তো চোখের জল আর বুকফাটা হাহাকার নিয়েই এবারের ঈদ কাটাচ্ছেন আফরাজুল খানের পরিবার। আজ আর কেউ খোঁজ রাখেনা এই অসহায় পরিবারটির। সাত মাসেই ভুলে গেছে বাংলা।

ঈদে খুশির দিনে স্বামী সন্তান নিয়ে যখন আনন্দে আত্মহারা হবার কথা ছিল। সেখানে আজ শুধুই চোখের জল। ঈদে কেমন প্রস্তুতি নিলেন জানতে চাইলে এদিন আফরাজুলের স্ত্রী গুলবাহার বিবি টিডিএন বাংলাকে জানান, কিছুই কিনি নি। মামা কাকাদের দেওয়া ঐ পুরাতন জামা কাপড়ই আছে।

ছোট মেয়ে হাবিবা প্রতি বছরই ঈদে বাবার সাথে ঈদগাহে যেত। কিন্তু এবার আর বাবা ফেরেনি কাজ থেকে। কাঁদতে কাঁদতে হাবিবা বললো, বাবা থাকলে আজ কত মজা হত। আমাকে নতুন জামা ও মেহেন্দি এনে দিত। আজ বাবা নেই তো আমার আনন্দও নেই।

আফরাজুল মারা যাবার পর এটাই পরিবারের প্রথম ঈদ। তিন মেয়ের দুই মেয়ে বিবাহিতা। ছেলে নেই। আর রোজাগারও নেই এই এতিম পরিবারে। মেজো মেয়ে রোজিনা খাতুন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বললো, সব সময় মনে পড়ে বাবার কথা। আজ সবাই যখন হাতে মেহেন্দি দিয়ে নতুন কাপড় পরে লাচ্চা সীমাই খাবে তখন আমরা কাকে নিয়ে আনন্দ করবো?

আফরাজুলের স্ত্রী জানালেন, সাত মাস হয়ে গেল মেয়ের চাকরি ও ভাতা আজও কার্যকর হয়নি। তাহলে কিভাবে হবে এই পরিবারের ঈদ? কেন আজ আফরাজুলের বাড়ি ঈদের সওগাত নিয়ে কেউ গেলনা? কেন আজ পরিবারটিকে শুধুই কাঁদতে হবে? প্রশ্নগুলি কিন্তু রয়েই যাচ্ছে।