আরএসএস-এর স্কুল কিভাবে বুঝব? বিধানসভায় দায় এড়ালেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ব শিক্ষার স্কুলগুলির বাড়বাড়ন্ত আটকাতে ব্যর্থ শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি বিধানসভায় সাফাই গাইলেন, ‘কিভাবে বুঝবো কোনটা আর এস এস চালিত স্কুল?’

মঙ্গলবার বিধানসভায় স্কুল শিক্ষা দফতরের বাজেট বরাদ্দ নিয়ে বিতর্কের সময় সিপিআই (এম) বিধায়ক আমজাদ হোসেন প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘এরাজ্যে আগে যা কখনও হয়নি, এখন সেই ঘটনা ঘটছে, আরএসএস-এর স্কুলের সংখ্যা বাড়ছে। শিক্ষামন্ত্রী বলুন আরএসএস-এর কটা স্কুল তিনি বন্ধ করতে পেরেছেন।’

পশ্চিমবঙ্গে আর এস এস চালিত স্কুলগুলি থেকে যে শিক্ষার্থীদের মনে সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়ানো হচ্ছে, তা এখন সবাই জানেন। রাজ্য গত কয়েক বছরের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও হিংসার ঘটনাগুলির পিছনে এই স্কুল এবং আরএসএস শিবিরগুলির ভূমিকার কথা পুলিশ প্রশাসনের রিপোর্টেও রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় একটি স্কুলের শিবিরে অস্ত্র প্রশিক্ষণের সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু স্কুল ও শিবির বন্ধের কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই পরিপ্রেক্ষিতেই এদিন বিধানসভায় বামফ্রন্ট বিধায়ক পক্ষে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে প্রশ্নটি ছোঁড়া হয়।

বিতর্কের শেষে জবাবি ভাষণ দেওয়ার সময় পার্থ চ্যাটার্জি স্বীকার করে নেন যে রাজ্যে আরএসএস এর স্কুল ব্যাপক সংখ্যায় চলছে। এগুলির বিরুদ্ধাচরণও তিনি করেছেন। কিন্তু বন্ধ করার ক্ষেত্রে নিজের অপারগতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আরএসএস-এর স্কুল কিভাবে বুঝবো? বিদ্যাচর্চার বদলে লাঠিচর্চা তাও বোঝা যায়। কিন্তু বইপত্র নিয়ে কি হচ্ছে বোঝা মুশকিল। তবুও আমরা ভিতরে ভিতরে ১২৫ টার খবর নিয়ে দেখেছি, সেগুলি বেশির ভাগই উত্তরবঙ্গের। এগুলি আমাদের থেকে নো অবজেকশেন সার্টিফিকেট নেয়নি। তাই আমরা বলছি চালানো যাবে না। কিন্তু ওরা চালাচ্ছে, তার জন্য আদালতে গেছে।’

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেছেন, ডাইস থেকে তথ্য পেয়েছি ৪৯৩টি স্কুল সম্পর্কে, এগুলি নিয়ে আমরা তদন্ত চালাচ্ছি। স্কুল চালাতেই পারে, কিন্তু উগ্রধর্মান্ধতা দেখলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

সঙ্ঘ পরিবারের স্কুল বন্ধ করতে না পেরে যেরকম আদালতকে দেখিয়েছেন, সেভাবেই সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের ব্যর্থতার জন্যও আদলতকে দেখিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। সিপিআই (এম) বিধায়ক মহাসিন আলি বিতর্কে অংশনিয়ে বলেন, ‘নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে শিক্ষক নিয়োগ করতে পারছেন না কেন? মাধ্যমিক স্কুলে ছাত্রপিছু শিক্ষক অনুপাত ক্রমশ কমছে, আর ব্যাঙের ছাতার মতো বেসরকারি স্কুল বাড়ছে।’ পার্থ চ্যাটার্জি এর জবাব না দিয়ে দায় ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বিরোধীদের দিকেই। তিনি বলেন, ‘শিক্ষক নিয়োগে এত বাধা কেন? আমরা শিক্ষক নিয়োগে তৈরি। কিন্তু কেউ কেউ আদালতে চলে যাচ্ছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে দিচ্ছে। আপনারা খুঁজে বের করুন কারা আদালতে যাচ্ছে, তাঁদের বিরত করুন। চলুন না সবাই মিলে প্রধান বিচারপতির কাছে গিয়ে বলি শিক্ষক নিয়োগের বাধা সরানোর ব্যবস্থা করুন।’
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের প্রতি বিশ্বাস থাকলে অভিযোগ নিয়ে সরকারের কাছে আসুন, আদালতে কেন যাচ্ছেন!’

বিরোধীদের অভিযোগ, এদের ওপর কার ভরসা থাকবে! রাজ্য সরকার আইন এবং বিধি মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালাচ্ছে না বলেই আদালতে তা আটকে যাচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী নিজেদের গাফিলতি দূর করে স্বচ্ছ নিয়োগের ব্যবস্থা করার বদলে মামলাকারীদের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে দিচ্ছেন। বোঝায় যাচ্ছে, মামলার কারনে নিয়োগের দায় থেকে রেহাই পেয়ে রাজ্য সরকার আসলে খুশিই হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যেও এমন ইঙ্গিত মিলেছে। প্যারাটিচার ও ভোকেশনাল শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি না হওয়া এবং শিক্ষকদের মহার্ঘ্যভাতা না মেলার বিষয়টিও তোলেন কংগ্রেস বিধায়ক অসিত মিত্র এবং সিপিআই (এম) বিধায়ক আমজাদ হোসেন। এসব শুনে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়ন নয়, আপনাদের নজর শিক্ষাক্ষেত্র থেকে কিভাবে কিছু পাওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। ছাত্র-ছাত্রীদের কথা না বলে, শিক্ষক নিয়োগের কথা এত বলেন কেন?

আমজাদ হোসেন স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্যও দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘হুগলি জেলায় ৮টি প্রাথমিক এবং ২০টি উচ্চপ্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। সরকারি স্কুলের বদলে বেসরকারি স্কুলে ভিড় বাড়ছে। সিজার এ গেল হল কি করে? পার্থ চ্যাটার্জি বলেন, ‘স্কুল কেন বন্ধ হয়েছে সুদর্শনবাবুকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন। স্কুলে ছাত্র না থাকলে আমরা র্যাশনালাইজ করছি।

তৃণমূল বিধায়ক কালিপদ মন্ডল বলেছেন, বামফ্রন্ট সরকারের সময়কালে শিক্ষাক্ষেত্রের ৫ জন মন্ত্রী যা করতে পারেননি, এখন একজন শিক্ষামন্ত্রী একই সাফল্যের সঙ্গে সবকিছু করে বেড়াচ্ছেন। এদিন বিধানসভায় ওয়েস্টবেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০১৮ পাশ করিয়ে সরকার অনগ্রসর শ্রেণী কমিশনের সদস্য সচিবের কাজের মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর থেকে আট বছর অথবা ৬৮ বছর বয়স অবধি করেছে।