লায়লাতুল কদরের খোঁজে রাত জাগেন এয়ারপোর্ট গোপালপুরের শতশত মানুষ

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: রমজানের শেষ দশ দিনের বিজোড় রাতে লায়লাতুল কদরের খোঁজে সারারাত জাগেন এয়ারপোর্ট থানার সলুয়া মুসলিম পাড়ার মানুষ। পুরুষরা গোপালপুর মসজিদে ও মহিলারা সলুয়া মাদ্রাসার কাছে কমিউনিটি হলে রাত্রি জাগরণ করে।

এখানকার রোযাদাররা তারাবি নামাজ পড়ে বাড়ি যান। তারপর মসজিদ বা মাদ্রাসায় ফিরে এসে শুরু হয় আল্লাহর কাছে নিজের আবেদন নিবেদন করা। অনেকে আবার সন্ধ্যা রাত থেকে সাহরী পর্যন্ত থাকেন মসজিদে। এখানে শতশত মুসলিম যৌথ ভাবে রাত জাগেন। গভীর রাত পর্যন্ত কুরআন, হাদিসের আলোচনা হয়। তারপর ব্যাক্তিগত উপাসনার জন্য মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়। মসজিদের ইমাম, সম্পাদক সহ সকলেই রাত জাগেন। অনেকে এতেকাফ করছেন। ইমাম মাওলানা সাহার আলি সাহেব বলছেন, রমজান মাস পাপ মোচনের মাস। নিজেকে পরিশুদ্ধ করার এটি একটি সুযোগ।

আর মসজিদের সম্পাদক শাজাহান শাহ ও সভাপতি মুহাম্মদ আলি জানান, প্রতি বছরই এমনটি হয়। আমরা এক সাথে আল্লাহর দরবারে নিজেদের মনের কথা বলি। গোটা গ্রাম রাত জাগেন, খুব ভালো লাগে।
হেঁসেল সামলিয়ে মহিলারাও রাত জাগেন। শিশুরাও মায়েদের সাথে যান। অনেকে আবার শিশুদের ঘুম পাড়িয়ে যিকিরে মশগুল হোন, সারারাত আল্লাহকে ডাকেন। এখানেও ইসলামী আলোচনা হয় ও শেষে ব্যাক্তিগত যিকির ও দুআ।

ছোট বড় সব বয়সের মানুষ লায়লাতুল কদরের খোঁজে রাত জাগেন। মাঝে মাঝে ইসলামী সংগীত হয়। ফলে ঘুম তেমন আসেনা। প্রতিটি মুহূর্ত নতুন কিছু বার্তা দিয়ে আকর্ষণ বাড়ায় মুসলিমদের। ইসলামী সংগীত শিল্পী সাইয়াজ হোসেন টিডিএন বাংলাকে বলেন, আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর আগে আমাদের এলাকার গুটিকতক যুবক মিলে কদরের সন্ধানে পাঁচটি রাত জাগা শুরু করি। তারপর আজও চলছে। তবে এখন গোটা এলাকা কদরের রাতের সন্ধানে জাগছে, খুব ভালো লাগে। এক সময় প্রচলিত ছিল ২৭ রমজানই লায়লাতুল কদরের রাত। কিন্তু আমরা জেনেছি, শেষ দশ দিনের বিজোড় রাতের যেকোন একটি রাত কদরের রাত হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কোনও একটি রাত নয়, প্রতিটি বিজোড় রাত জাগছি যাতে কদরের রাত হাত ছাড়া না হয়। আল্লাহর ইচ্ছা হলে কদর পেয়ে যেতে পারি। এই এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর প্রভাব খুব বেশি। মূলত ওই সংগঠনের পরিকল্পনাতেই ‘মোডেল এলাকা’ হয়েছে সলুয়া মুসলিমপাড়া।’এই মসজিদে রাত ১ টা বাজলেই মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতি মুহাম্মদ নূরুদ্দিন। একুশ, তেইশ ও পঁচিশের রাতে ইসলাম, মুসলিমদের দায়িত্ব কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করেন। আসলে সলুয়া মুসলিম পাড়ায় রোজার মাসে উৎসবের রূপ নেয়। আগে থেকেই রমজান কে স্বাগত জানিয়ে দেওয়ালে দেওয়ালে কুরআনের বাণী লেখা থাকে। প্রতিদিন গোটা পাড়া এক সাথে মসজিদে ইফতার করে। আবার রোজার মধ্যেই ঈদ মিলনী নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রতি বছরের মতো এবারও আগামী ৩০ জুন সলুয়া মাদ্রাসাতে মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে ঐক্য আনতে ঈদ মিলনী সভা করবে এলাকার মানুষ।