রিম্পা খাতুন,টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার ডাক দিয়ে উদার আকাশ পত্রিকার সম্পাদক,লেখক ফারুক আহমেদ বলেন,”সরকার যদি বিশ্ব বিদ্যালয় না গড়েন তবে ভুগতে হবে।”

তিনি বলেন,”২০০৭ সাল থেকে মুর্শিদাবাদ জেলায় একটি পুর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য প্রতিনিয়ত সামাজিক আন্দোলন হচ্ছে ৷সাধারণ ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কেন জরুরী তা বোঝা দরকার।মুর্শিদাবাদ এক সময় সারা ভারতবর্ষের রাজধানী ছিল। মুর্শিদাবাদে যদি একটি নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার নামে বিশ্ববিদ্যালয় করা যায়– এটা উত্তম প্রস্তাব ৷ বিশ্ববিদ্যালয়টা হোক কলকাতা এবং যাদবপুরের মতো সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় ৷ মুর্শিদাবাদ জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার জন্য তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের সত্যসাধন চৌধুরী এবং মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কাছে দীর্ঘদিন আবেদন করা হয়েছে এবং গোটা রাজ্যের বিভিন্ন পত্র পত্রিকার মধ্যমে এবিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে ৷ আম্বানীকে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, এছাড়া প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ও গড়ে উঠেছে ।কিন্তু গভর্নমেন্টের তৎপরতায় যদি মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা যায় সেটা আবেদন করা হয়েছে ৷কারন মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষকে যদি শিক্ষিত না করা যায়, কোন জাতি, কোনো সমাজ যদি পিছিয়ে থাকে তাহলে পশ্চিমবাংলা তথা ভারতবর্ষ এগিয়ে যেতে পারেনা ৷ মুর্শিদাবাদে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলে তাতে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার পাশাপাশি ধর্মীয়, সামাজিক, কৃষ্টি, কালচার, দর্শন সমস্ত বিভাগ চালু করা উচিত।
লেখক ফারুক আহমেদ আরও বলেন,”বর্তমান রাজ্য সরকারের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী  মমতা ব্যানার্জী ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসেন ৷ এখন অবধি গোটা রাজ্যে ৪৫ টি ডিগ্রি কলেজ এবং ১৫ টি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছেন ৷ স্বাধীনতার পরে এতগুলি বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজ্যে গড়ে ওঠেনি ৷ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন,মুর্শিদাবাদ জেলায় ৬৮% মুসলমানের বসবাস ৷ মুসলিমরা চাকরি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান সহ সবদিক থেকে পিছিয়ে ৷মুর্শিদাবাদ হল পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে বঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া জেলা।এই পিছিয়ে পড়ার কারন,আধুনিক শিক্ষায় পরিবারের ছেলেমেয়েদের মানুষ করতে না পারা।আসলে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার উপযুক্ত কাঠামো যদি না দেওয়া যায় তাহলে সমাজ পিছিয়ে পড়বেই ৷”
টিডিএন বাংলার এক প্রশ্নের উত্তরে ফারুক আহমেদ বলেন,”তৃণমূল সরকার যদি বামেদের মত বিশ্ব বিদ্যালয় না করে তবে আমরা আন্দোলনে ফের নামবো।আর এর ফল ভুগতে হবে সরকারকে।”
উল্লেখ্য ইতিমধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে উনিভার্সিটির দাবিতে একাধিকবার বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্র সংগঠন এসআইও।এতদিন নীরব থাকলেও, এখন কংগ্রেস, সিপিআইএম, তৃণমূলও বিশ্ববিদ্যালয় চাইছে।কিন্তু কোনও এক অদৃশ্য কারণে বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে না বলে মত অনেকের।
#টিডিএন বাংলা