কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ হলে অর্থ ও রক্ত দুই যাবে, বুদ্ধিজীবী সম্মেলনে অভিযোগ ফোরামের

0
তোহাদ্দেশ আলি, টিডিএন বাংলা, মালদা : আইনি জটিলতা কাটিয়ে কিভাবে মাদ্রাসায় দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ করে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাঁচানো যায় তার জন্য সমাজের সকল শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ কে এগিয়ে আসতে হবে। সেই লক্ষ্যেই বুদ্ধিজীবী ও মাদ্রাসা প্রধান শিক্ষক দের নিয়ে রবিবার এক সম্মেলনের আয়োজন করে মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরাম।
১ম উত্তরবঙ্গ বুদ্ধিজীবী ও মাদ্রাসা প্রধান শিক্ষক দের নিয়ে ঐ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় মালদা টাউন হলে। রাজ্যের সরকারি অনুমোদিত ও অনুদান প্রাপ্ত ৬১৪টি মাদ্রাসা গুলিতে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ হয়ে আছে। এই প্রেক্ষিতে শিক্ষকের অভাবে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অথচ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের ষষ্ঠ এসএলএসটি উত্তীর্ণ সফল প্রার্থীদের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সম্পন্ন হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্টে চলছে। গত ২২/০২/১৮ তারিখ উক্ত মামলার শুনানির দিন ছিল কিন্তু সরকারি আইনজীবী অনুপস্থিত থাকার জন্য মামলার শুনানী হয়নি বলে ফোরাম দাবি করে।
 
সভায় বক্তব্য রাখেন কালিয়াচক কলেজের অধ্যক্ষ ড.নজিবর রহমান। তিনি বলেন, “কমিটির  মাধ্যমে নিয়োগ হলে অর্থ ও রক্ত দুই যাবে, সুতারাং অনতিবিলম্ব না করে মুখ্যমন্ত্রীকে  দ্রুত হস্তক্ষেপ  করা উচিত।” সামসি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তথা স্কুল সার্ভিস কমিশনের উত্তরাঞ্চল শাখার প্রাক্তন চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল ওয়াহাব বলেন “রামকৃষ্ণমিশন মাইনোরিটি হলে ওদের নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে হয়, মাদ্রাসার নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে উচিত নয়,কারন ওদের মত হতে পারিনি। কমিসনের মাধ্যমে যে জাতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছিল,সেটাকে বন্ধ করা জন্য গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।”
 সামসি কলেজের অধ্যাপক ওয়ালিউল্লাহ বলেন, “উওরবঙ্গের তিনটি জেলার মাদ্রাসা গুলি সম্পূর্ন  ধ্বংসের মুখে, মুসলামানদেরকে রাজনৈতিক দাবার বোর্ড হিসাবে  ব্যবহার  করা হয়।” দেওয়ান আবদুল গণি কলেজের অধ্যাপক ড.মহম্মদ ইসমাইল বলেন, “মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা  কোন বিচ্ছিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা  নয়। এইভাবে প্রাচীন শিক্ষা ব্যবস্থাকে নষ্ঠ হতে দেওয়া যায় না। শিক্ষার স্বার্থে আমাদের সকল শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকে অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এগিয়ে আসার সময় এসেছে।”
 
মানিকচক এন বি হাই মাদ্রাসার প্রধানশিক্ষক মোঃ রইসুদ্দিন সাহেব ফোরামের মাদ্রাসা শিক্ষাকে বাঁচার লড়াই কে সমর্থন করে বলেন, “এটা আমাদের হকের লড়াই, এটা আমাদের রাজনীতি লড়াই নয়,মাদ্রাসা বাঁচাতে গনআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করব।” ভগবানপুর গার্লস হাই মাদ্রাসার প্রধানশিক্ষিকা সাহানাজ পারভিন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “আমি ৩৫০ টাকার বিনিময়ে চাকুরি  পেয়েছি, কিন্ত আমি কাউকে ৩৫০ টাকার বিনিময়ে  চাকুরি দিতে পারব না। মুখ্যমন্ত্রীর এই দিকটা বেশি করে নজর দিয়া উচিত।” কালিয়াচক কলেজের অধ্যাপক ড: মোঃ আলমগির মুসলিম জাতির উদ্দেশ্যে বলেন, “আল্লাহ কোন জাতিকে নিজে থেকে ধ্বংস  করে না, তাঁরা যদি নিজে থেকে সচেতন না হয়। সীমা লঙ্খন করলে তখন আল্লাহর গজব আমাদের উপর নেমে আসবে।”
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন মালদা কলেজের অধ্যাপক আতাউর রহমান, মাহফুজুর রহমান, লালগোলা কলেজের অধ্যাপক সাইদুর রহমান, হিঙ্গলগঞ্জ কলেজের অধ্যাপক গোলাম মোর্তজা,গাজোল কলেজের অধ্যাপক আকিদুল ইসলাম প্রমুখ।
 
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সুজাপুর নৌমোজা হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আদিল হোসেন, মহাম্মদিয়া হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মহম্মদ মাহিবর রহমান, ললিয়া বাড়ি সিনিয়র মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান, বুধিয়া হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান সহ বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও সহ শিক্ষকগণ। সভা সঞ্চালনা করেন ফোরামের রাজ্য কোষাধ্যক্ষ কায়সার রশিদ।