ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্ত না থাকলে সাম্প্রদায়িক শক্তি সুযোগ পাবে : আসাদুজ্জামান

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্ত না থাকলে সাম্প্রদায়িক শক্তি সুযোগ পাবে। স্টেট ব্যাঙ্ক অডিটোরিয়ামে কলকাতা আন্তর্জাতিক বই মেলায় ‘বাংলাদেশ দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সেমিনারে শনিবার বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, “সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়ায়ের দায়িত্ত্ব দুই দেশের। কেননা, এপারে সাম্প্রদায়িক ঘটনা হলে বাংলাদেশে প্রভাব পড়ে আবার ওখানে সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটলে এপারে তার প্রভাব পড়ে। দুই দেশের মধ্যে ভুলবোঝাবুঝি থাকলে ঠিক করে নিতে হবে, কেননা আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ত না থাকলে সাম্প্রদায়িক শক্তি সুযোগ পাবে।” বাংলাদেশ ধর্মান্ধকে প্রশ্রয় দেয়না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তাঁর আরও মন্তব্য, ‘দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশটা যে ভাগ হলো তার জন্য কে দায়ী সে বিতর্কে আমি যেতে চাইনা। কিন্তু এই তত্ত্ব যে ভুল ছিল তা আমরা মানি। বাংলাদেশের মানুষ এই দ্বিজাতি তত্ত্বের বাইরে এসে ভাষার ভিত্তিতে একটি দেশ তৈরি করেছে।”

Advertisement
head_ads

তিনি হাসিনার সময় বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়ায়ের কথা বলেন।”

তিনি দুঃখ করে বলেন, “বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতের মানুষের মধ্যে জানার কম আছে। শুধু মাত্র বই মেলা ছাড়া বাংলাদেশের বই পাওয়া যায়না বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে সকলকে ভাবতে হবে।” তিনি বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের আয়তন সংকুচিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
এদিন কলকাতার বাংলাদেশ উপ হাইকমিশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশের সাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক সেমিনারে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপরাষ্ট্রদূত তৌফিক হাসান। মুক্তি যুদ্ধের পঞ্চাশ বছরে কলকাতা বই মেলার থিম করার জন্য বাংলাদেশের কাছে আহ্বান জানান কলকাতা পাবলিশার্স এন্ড বুক সেলার্স গিল্ডের সম্পাদক ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায়। বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশ সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম মুক্তি যুদ্ধে সাহিত্য, নাটক, কবিতার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ এমপি বলেন, “বঙ্গবন্ধু ভাষাভিত্তিক একটি রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন। বাংলা ভাষার রাষ্ট্র। কলকাতার মানুষ বলতেই পারেন বঙ্গবন্ধু আমাদের তৈরি।

হ্যাঁ, আপনারা মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করেছেন।” তিনি তিস্তা নদীর জল সমস্যার সমাধান করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের মহিলা ও শিশু বিকাশ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মেহের আফরোজ চুমকি বক্তব্য রাখতে বলেন, “মুক্তি যুদ্ধের বিরাট ভূমিকা ছিল ভারতের। আমরা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে স্মরণ করি কেননা তিনি এক লক্ষ বাঙালিকে মুক্তিযুদ্ধের সময় জায়গা দিয়েছিলেন। অনেকেই বলেন, আমরা নাকি বাংলাদেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি।কিন্তু সেটা সম্ভব নয়।”

পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, “বই যেমন প্রিয়, এই রকম প্রিয় কিছু হয় বলে জানা নেই। মানুষের মধ্যে বাংলাদেশের বই পড়ার আগ্রহ বাড়ছে।

আমরা নই, বাংলাদেশের মানুষ লড়াই করে বাংলাকে সারা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করেছে।
এদিন অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমি ঢাকার মহাপরিচালক সামসুজ্জামান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুনতাসির মামুন প্রমুখ।

head_ads