নিশানায় প্রেম! শহরের ৬৮ যুগলকে হুমকি কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের

0
কালনার বাসিন্দা এক ব্যক্তি প্রথম ওই তালিকা একটি ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার করেন। তিনি এখন অবশ্য কলকাতাতেই থাকেন।

অর্ক ভাদুড়ি, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : ‘লাভ জিহাদ’ রোখার নামে খুনের হুমকি এবার এই শহরে!
কলকাতা এবং শহরতলির মোট ৬৮ জন প্রেমিক-প্রেমিকাকে চিহ্নিত করে, তাঁদের ছবি-সহ ফেসবুক প্রোফাইলের লিঙ্ক শেয়ার করা হয়েছে একাধিক ফেসবুক গ্রুপে। প্রেমিকারা হিন্দু হলেও প্রেমিকেরা ভিন্ন সম্প্রদায়ের। আজ, শুক্রবার লালবাজারে তাঁর লিখিত অভিযোগ জানানোর কথা। তাঁর সঙ্গী হওয়ার কথা তালিকায় নাম থাকা আরও কয়েকজনের। ওই যুবক বলেন, ‘‘ওরা মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা কাড়তে চাইছে। কিন্তু মাথা নোয়াতে পারবে না। খুনের হুমকি পাওয়ায় আমি মেল করে অভিযোগ করেছি। লালবাজারে যাব। ওদের মনে রাখা উচিত, বাংলা এত সহজ নয়। আমরা ভয় পাব না।’’


কারা করছে এমন প্রচার?
সূত্রের খবর, কালনার বাসিন্দা যাঁরা প্রোফাইল লিঙ্ক শেয়ার করেছেন তাঁদের অভিযোগ, ওই প্রেমিকেরা ‘লাভ জিহাদে’র উদ্দেশ্যেই হিন্দু মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। প্রেমিকদের আসল লক্ষ্য প্রেমিকাদের ধর্মান্তরিত করা।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই তালিকায় নাম থাকা একাধিক যুবককে ফোন এবং ইনবক্স করে হুমকি দেওয়া হয়েছে। যাদবপুরের বাসিন্দা এক যুবক ইতিমধ্যেই লালবাজারের সাইবার ক্রাইম বিভাগে ই-মেল করে অভিযোগ জানিয়েছেন।

Advertisement
head_ads

আজ, শুক্রবার লালবাজারে তাঁর লিখিত অভিযোগ জানানোর কথা। তাঁর সঙ্গী হওয়ার কথা তালিকায় নাম থাকা আরও কয়েকজনের। ওই যুবক বলেন, ‘‘ওরা মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা কাড়তে চাইছে। কিন্তু মাথা নোয়াতে পারবে না। খুনের হুমকি পাওয়ায় আমি মেল করে অভিযোগ করেছি। লালবাজারে যাব। ওদের মনে রাখা উচিত, বাংলা এত সহজ নয়। আমরা ভয় পাব না।’’

অভিযোগ: লালবাজারের সাইবার ক্রাইম বিভাগে পাঠানো ই-মেল।

কারা করছে এমন প্রচার?
সূত্রের খবর, কালনার বাসিন্দা এক ব্যক্তি প্রথম ওই তালিকা একটি ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার করেন। তিনি এখন অবশ্য কলকাতাতেই থাকেন। ওই তালিকাটি দ্রুত বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী বলে পরিচিত ‘সিক্রেট’ গ্রুপে ছড়িয়ে
দেওয়া হয়।


তালিকায় যে যুবকদের নাম রয়েছে, তাঁদের বাসস্থান অনুযায়ী মোট আট’টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ফেসবুকে কালনার বাসিন্দা ওই ব্যক্তি নিজেকে বজরং দলের কর্মী এবং অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) প্রাক্তন কর্মী হিসাবে দাবি করেছেন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ছবিও রয়েছে তাঁর। ইনবক্সে প্রশ্ন করা হলে তিনি অবশ্য কোনও উত্তর দিতে চাননি। পরে তিনি ফোনে ‘এবেলা’কে বলেন, ‘‘লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিরোধ করবই। সে নিয়ে সর্বত্র প্রচারও চলছে।’’
ওই ব্যক্তি একা নন। হিন্দুত্বের বার্তা-সহ একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের ফেসবুক পেজে ওই যুগলদের নাম এবং প্রোফাইল লিঙ্ক দেওয়া হয়েছে। সেখানে ‘লাভ জিহাদি’দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হিন্দু মেয়েদের উদ্ধার করে হিন্দু ধর্মকে বাঁচানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
ওই ব্যক্তি নিজেকে এবিভিপি’র প্রাক্তন কর্মী হিসাবে দাবি করলেও সংগঠনের রাজ্য সভাপতি সুবীর হালদার বলেন, ‘‘ওই ব্যক্তিকে আমি চিনি না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ এবং কেরলে লাভ জিহাদ ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়েছে। এ নিয়ে অবশ্যই আইনি পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। কিন্তু কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চান, তাহলে আমরা তা সমর্থন করি না।’’
এই প্রসঙ্গে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা সচিন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, ‘‘আমাদের সংগঠনে তো অনেকেই আছেন।

প্রত্যেককে চেনা সম্ভব নয়। তবে লাভ জিহাদ করে হিন্দু ধর্মকে শেষ করে দেওয়ার যে চেষ্টা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ হওয়া স্বাভাবিক। একে রুখতেই হবে। কিন্তু আইন হাতে তুলে নেওয়া ভুল। আমি খোঁজ নেব।’’

প্রতীকী: ‘১৯৪৭ আর্থ’ ছবিতে নন্দিতা দাস এবং রাহুল খন্না।

(এবেলার সৌজন্যে)

head_ads