ছাত্রের রহস্যমৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা ডোমকলের বসন্তপুরে

0
কিবরিয়া আনসারী, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : ছাত্রের রহস্যমৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা ছড়ালো ডোমকলের বসন্তপুরে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবারডোমকলের বসন্তপুর মডেল স্কুলের হোস্টেলে। মৃত ছাত্রের নাম সামাউল সেখ (১০)। বাড়ি ডোমকল থানার নাজিরপুরে। ছাত্রের মৃত্যু ঘিরে উত্তেজিত জনতা বহরমপুর জলঙ্গী রাজ্যসড়ক অবরোধ করে বসে। প্রায় ঘন্টা দুয়েক ধরে অবরোধ চলে স্থানীয়দের।
জানা গিয়েছে, সামাউল কে গত ডিসেম্বর মাসে বসন্তপুর মডেল স্কুলে পঞ্চম শ্রেনীতে ভর্তি করে তার বাবা। ছেলের সঙ্গে প্রতি মাসে একবার করে দেখা করতে যায় বাবা মা। সামাউলের সাথে সোমবার দেখা করে আসেন বাবা মা। সামাউল বাবা কে অভিযোগ করে বলে, আমার ঘরে এসে স্কুলের বড়ো দাদারা প্রতিদিন মদ খায়। তারা মদ খেয়ে আমাকে গালাগালি, মারধরও করে। আমি আর স্কুলে পড়ব না। তারপর তার বাবা সামাউল কে বুঝিয়ে আবার ওই হোস্টেলেই রেখে আসেন। হঠাং আজ সকালে স্কুল কর্তৃপক্ষ ফোন করে বলেন তাদের ছেলে গলাই দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
মৃত শিশুর বাবা মহম্মদ আলী বলেন, হঠাৎ আজ সকালে স্কুল থেকে ফোন করে বলেন তাদের ছেলে গলাই দড়ি দিয়ে মারা গিয়েছে। আমরা সংবাদ পেয়ে দ্রুত স্কুলে গিয়ে দেখি প্রচুর পুলিশ রয়েছে। আমরা আর ভেতরে ঢুকতে পারিনি। ছেলে কে থানায় নিয়ে আসলে তখন দেখি ছেলের সারা শরীরে একাধিক মারের চিহ্ন। আমার ছোটো ছেলে সে অত উঁচু গলাই দড়ি দিয়ে পারবে না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ চক্রান্ত করে মেরে ঝুলিয়ে দিয়েছে। ছেলের পায়ে পেরেক পোতা, সারা শরীর পেন দিয়ে খোঁচানো হয়েছে, শরীরে একাধিক ক্ষতের চিহ্ন, সারা শরীর দেখার মতো নয়। তারাই মেরে ঝুলিয়ে দিয়েছে। হোস্টেল সুপার আবুল বাসার রুহুল আমিন সব জানে। তিনিও চক্রান্ত করে মেরেছে ছেলে কে।
পুরো ঘটনা অস্বীকার করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান জানান, যেটা ঘটেছে তার জন্য আমরা শোকাহত। ওই ছাত্রকে কেউ মারেনি। সে নিজেই আত্মহত্যা করেছে। ডোমকল থানার আইসি নিহার রঞ্জন রায় জানিয়েছেন, পরিবারের তরফে এখনও কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। আমরা হোস্টেল সুপার আবুল বাসার রুহুল আমিন কে আটক করেছি। তাকে জিজ্ঞাবাদ করা হচ্ছে।