সন্তান প্রসব, হাসপাতালেই মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন মুর্শিদাবাদের সুতির জাসমিরা খাতুন 

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ :  সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিলো। গত পাচ টি পরীক্ষায় ভালো ভাবে দিয়ে অঙ্ক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো সুতি ব্লকের অরঙ্গাবাদ বালিকা বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী জাসমিরা খাতুন। নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে হওয়ার সুবাদে পেটে সন্তান নিয়েই কস্ট করে নিজ বাড়ি থেকে পাচ কিলোমিটার দুরত্বে পরীক্ষা দিচ্ছিলো সে। হঠাত রবিবার পেটে ব্যাথা শুরু হলে পরিবারের লোকজন তাকে মহেশাইল গ্রামীন হাসপাতালে ভরতি করা হয়। সোমবার সকালে সন্তান প্রসব করলেও তার শিক্ষার প্রতি জেদে হাসপাতালে বসেই মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলো জাসমিরা খাতুন।

সুতির অরঙ্গাবাদের জাসমিরা খাতুনের সাথে দুই বছর আগে প্রতিবেশি এক যুবকের সাথে বিয়ে হয়।  শ্বশুরবাড়ি থেকেই পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছিলো সে। নিজ সংসার সামলে পড়াশুনা করে মাধ্যমিক পরীক্ষায়ও বসে জাসমিরা। পেটে সন্তান নিয়েই কস্ট করে প্রতিদিন মুরলিপুকুর হাইস্কুলে পরীক্ষা দিতেও আসতো। আগের পাচটি পরীক্ষা ভালো করে দেওয়া হলেও পেটে ব্যাথার কারণে তাকে মহেশাইল হাসপাতালে ভরতি করা হয়।

সন্তান প্রসবের জন্য সোমবার তার পরীক্ষা দেওয়া এক প্রকার অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কিন্তু তার প্রবল ইচ্ছার কথা পরিবারের লোকজন কে জানালে তারা প্রধান শিক্ষকের কাছে বিষয় টি উত্থাপন করতেই প্রধান শিক্ষক সাথে সাথে উদ্যোগ নিয়ে তার পরীক্ষায় বসার নিশ্চয়তা প্রদান করেন। তড়িঘড়ি তিনি পুলিশি প্রহড়া ও স্কুলের এক শিক্ষিকার উপস্থিতি তে  হাসপাতালে বসে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

এবিষয়ে মুরলিপুকুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আনওয়ারুল হক বলেন, জাসমিরার হাসপাতালে ভর্তি থাকার কথা আমাদের কাছে আসার ও তার  পরীক্ষা দেওয়ার আগ্রহের খবর শুনার পর  তড়িঘড়ি তার পরীক্ষার ব্যবস্থা করি।  পুলিশ ও শিক্ষিকা পাঠিয়ে তিন ঘন্টার কড়া প্রহরায় পরীক্ষা দেয় জাসমিরা।