নিজস্ব প্রতিনিধি, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : মাদ্রাসায় শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ ক্ষমতা কার হাতে থাকবে ‘মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটি’ নাকি ‘মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন’ এ নিয়ে মামলা গড়িয়েছে হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিমকোর্টে। হাইকোর্ট ২০১৪ সালে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। তারপর এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হয় ‘বেঙ্গল মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরাম’ নামক অরাজনৈতিক সংগঠন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত শুনানি চলছে।

ইতিমধ্যে সুপ্রিমকোর্ট মাদ্রাসায় পাঠরত ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থের কথা ভেবে চলতি বছরের ১৭ই মে একটি অর্ডার পাশ করে এবং ইচ্ছুক মাদ্রাসাগুলিতে শর্তসাপেক্ষে নিয়োগের কথা বলা হয় সার্ভিস কমিশনকে। সেই মত কমিশন ষষ্ঠ এসএলএসটি উত্তীর্ণ প্রায় ২৫৭০ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ করেছে। কিন্তু যেহেতু সুপ্রিমকোর্ট শর্তসাপেক্ষ নিয়োগের কথা বলেছে এবং নব নিযুক্ত শিক্ষক শিক্ষিকাদের ভবিষৎ নির্ভর করবে ফাইনাল রায়ের উপর।

এই অবস্থায় সুদীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মাদ্রাসায় পাওয়া চাকরি হারানোর আশঙ্কায় অনেকেই যারা এসএসসির নবম-দশম বা একাদশ-দ্বাদশে পাশ করেছে তারা আবারো এসএসসির কাউন্সেলিংয়ে উপস্থিত হচ্ছে তুলনামূলক কম বা সম বেতন কাঠামোয়। ফলে একদিকে যেমন স্কুলের সিট গুলো ব্লক হচ্ছে, তেমনই পাশাপাশি মাদ্রাসায় পুনরায় সেই শিক্ষক বিহীন বেহাল অবস্থা ফিরে আসার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। সুতারং ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ রক্ষার যে বিষয়টি সুপ্রিমকোর্টের পর্যবেক্ষণে তা ব্যার্থ হচ্ছে।

আবার এমন অনেক ক্যান্ডিডেট বাড়ির কাছাকাছি অনার্স পিজি স্কেলে মাদ্রাসায় জয়েন্ট করে বেতন পাওয়া সত্ত্বেও আশঙ্কা হেতু স্কুলে নবম-দশমের কাউন্সেলিংয়ে উপস্থিত হয়ে কয়েক মাসের জন্য সিট টি ব্লক করে ততদিনে সুপ্রিমকোর্টের রায়ের আভাস নেবার চেষ্টা করছে। এদিকে এমন ঘটনায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন এসএসসির ওয়েটিংয়ে থাকা চাকরিপ্রার্থীরা।

তারা প্রত্যেক দিন কাউন্সেলিংয়ে উপস্থিত থেকে কোন বিষয়ে কতটা সিট খালি হল বোঝার চেষ্টা করছেন।
ওয়েটিংয়ে থাকা এক চাকরিপ্রার্থী এদিন ক্ষোভের সুরে টিডিএন বাংলাকে বলছিলেন, চাকরিতে জয়েন্ট করে হারিয়েছে এমন ঘটনা রাজ্যে বিরল। ওরা স্কুলে জয়েন্ট করবে না, অকারণ একটা সিট ব্লক করে একজন বেকারের চাকরি নষ্ট করে দিচ্ছে যা আমাদের জন্য মেনে নেওয়া কষ্টকর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নব নিযুক্ত এক মাদ্রাসা শিক্ষকের কথায়, “চাকরি পেয়েও হারানোর আতঙ্কে দিন কাটছে আমাদের মত অনেকেরই। মাদ্রাসায় অনার্স-পিজিতে জয়েন্ট করছি। তবুও এসএসসির নবম-দশমে কাউন্সেলিংয়ে স্কুল চয়েস করে রাখতে হয়েছে। কারণ রেকমেন্ডেশন লেটার, তারপর এপয়েন্টমেন্ট লেটার ইস্যু ও জয়েন্ট করার সর্বোচ্চ সময়সীমা পর্যন্ত বেশ কয়েকমাস আমরা সময় পাবো সুপ্রিমকোর্টের রায় দেখার।”

অন্য একজন বলছিলেন, আমরা তো সুপ্রিমকোর্টের অর্ডার অনুযায়ী শর্ত সাপেক্ষে নিয়োগ পেয়েছি মাত্র। এদিকে রাজ্য সরকারও হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের পক্ষে তারা। আর আমাদের চাকরিও কমিটির সিদ্ধান্তের উপরেই নির্ভর করবে ফলে স্বভাবতই ভয়টা থেকেই যাচ্ছে।