পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা ও সংখ্যালঘু দপ্তরগুলি অভিভাবকহীনের ন্যায় : কামরুজ্জামান

0

জিল্লুর রহমান, টিডিএন বাংলা, হাড়োয়া : গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিমকোর্টে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মামলায় রাজ্য সরকারের আইনজীবীর উপস্থিত না থাকা ও পুনরায় শুনানির দিন প্রায় দেড় মাস পিছিয়ে যাওয়া নিয়ে রাজ্য জুড়ে চলছে তীব্র সমালোচনা। এএ ব্যাপারে সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমানে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন সহ সংখ্যালঘু দপ্তরগুলি অভিভাবকহীনের মত। ফলে সরকার পক্ষের আইনজীবীর সুপ্রিমকোর্টে  উপস্থিত না থাকাটাই স্বাভাবিক।’ তিনি আরও বলেন, ‘মুসলিমদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের যে সদিচ্ছা নেই তা এই সমস্ত ঘটনার পর মানুষের কাছে দিনের আলোর মত ফুটে উঠছে।’ তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, ‘মুখে সংখ্যালঘু উন্নয়নের কথা বললেও সংখ্যালঘুদের কাজ ও সংখ্যালঘুদের সমস্যা সমাধানে সরকারের কোনো  আন্তরিক প্রচেষ্টা নেই।’


টানা প্রায় ছ’বছর ধরে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন নিয়ে মামলা চলতে থাকায় ও মাদ্রাসাগুলিতে প্রায় দশ হাজার শুন্যপদ তৈরী হওয়ায় বা শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা কতটা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে জানতে চাওয়া হলে তিনি টিডিএন বাংলাকে বলেন, ‘পুরো মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাটাই ভেঙ্গে পড়েছে। এখন যারা মাদ্রাসায় পড়াশুনা করছে তারা শিক্ষার ক্ষেত্রে যে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, এদের একটা প্রজন্ম তার ফল ভোগ করবে এবং বর্তমান মাদ্রাসা শিক্ষার মাধ্যমে পড়াশুনা করে তাদের কোনো উচ্চস্তরে যাওয়া সম্ভব হবে না। শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের অনীহা এবং মুসলিমদের শিক্ষার পরিকাঠামো ধ্বংস হওয়ার পরেও সরকারের যে না দেখার অভিনয় অত্যান্ত দুর্ভাগ্যজনক।’

সরকার কোর্টে মামলা চলছে বলে জনসাধারণকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও আসলে তারা সমস্যা সমাধানে আগ্রহী নয়, এই বিষয়ে তিনি সরকারের একহাত নেন। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে সত্তর বছর ধরে যে দলই ক্ষমতায় এসেছে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলিমদের পিছিয়ে রেখেছে। এই সরকার তার ব্যতিক্রম নয়। এই সরকারের আমলা ও তার প্রশাসনও ব্যতিক্রম নন। একটা গোষ্ঠীকে পিছিয়ে রাখার জন্য যা করার দরকার এরা তাই করছে। এবং এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যা করনীয় তা একটাও করা হচ্ছে না।’