জামিয়া মিলিয়ার মতো আলিয়া ইউনিভার্সিটিকে মাইনোরিটি মর্যাদা দেবার দাবিতে বৈঠক

0
নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া ইউনিভার্সিটির মতো আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে মুসলিম মাইনোরিটি মর্যাদা দেবার দাবিতে বৃহস্পতিবার পার্কসার্কাসের একটি হোটেলে বৈঠক করেন রাজ্যের মুসলিম নেতারা। মূলত আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু অধ্যাপক ও ছাত্রদের উদ্যোগেই এই মিটিং ডাকা হয়েছিল। এদিন রাজ্যের প্রায় সকল মুসলিম সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এসেছিলেন শিক্ষানুরাগী একাধিক ব্যাক্তি।
আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে মাইনোরিটি স্ট্যাটাস দেবার দাবি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেবার সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে। মুসলিম নেতারা বলছেন, আলিয়া মাদ্রাসা প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই মাদ্রাসা বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নতি হলেও মাইনোরিটি স্ট্যাটাস নিয়ে সমস্যা আছে। যদিও ২০০৭ সালের রাজ্য সরকারের নোটিফিকেশন অনুযায়ী আলিয়ায় মাইনোরিটিদের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। মুসলিম বুদ্ধিজীবীরা এদিন বলেন, বিধান সভায় বিল এনে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে মাইনোরিটি স্ট্যাটাস দেবার উদ্যোগ মুখ্যমন্ত্রীকে নিতে হবে। এক্ষত্রে সংবিধানের ৩০ নম্বর ধারা,জাতীয় মাইনোরিটি কমিশনের নির্দেশ ও রাজ্য সরকারের ২০০৭ সালের নোটিফিকেশনকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন আলিয়ার আরবী বিভাগের অধ্যাপক ডঃ মশিউর রহমান থেকে শুরু করে জামায়াতে ইসলামি হিন্দের মুহাম্মদ নুরুদ্দিন, সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মাদ কামরুজ্জামান, শিক্ষাবিদ মুন্সি আবুল কাসেম, মাইনোরিটি কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলি শাহ, আমানত ফাউন্ডেশনের সম্পাদক শাহ আলম প্রমুখ।
আলিয়ার বর্তমান সমস্যা ও তা থেকে উত্তরণের জন্য কী পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিৎ, সব কিছুই আলোচনা হয় এদিন। আলিয়া ইউনিভার্সিটিতে ইসলামিক কালচার যাতে বজায় থাকে তার জন্য একটি গাইডলাইন তৈরির পরামর্শও দেন মুসলিম নেতারা। বেশ কিছু মুসলিম বুদ্ধিজীবী দুঃখের সাথে বলেন, খ্রিস্টান সমাজ যেভাবে সংবিধানের অধিকার নিয়ে প্রতিষ্ঠান গড়েছে, সংখ্যালঘু মুসলিমরা সেই ভাবে মাইনোরিটি স্ট্যাটাস প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বাংলায় বেশি তৈরি করতে পারেনি। আলিয়া মাদ্রাসা থেকে যেহেতু ইউনিভার্সিটি হয়েছে তাই প্রতিটি বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ইসলামিক নলেজ তৈরির মতো পাঠ্যসূচি বানানোর পরামর্শ আসে এদিন।
বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সদস্য মাওলানা আবু তালিব রহমানী, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ক্বারী সামসুদ্দিন, জমিয়তে আহলে হাদিসের রাজ্য সম্পাদক আলমগীর সরদার, শিশু বিকাশ একাডেমির নুরুল হক, আল্লামা রুহুল আমীন বসিরহাট দরবার শরীফের  মুহাম্মাদ খুবাইব আমীন, মামুন ন্যাশনাল স্কুলের সম্পাদক কাজী মুহাম্মদ ইয়াসিন, ফুরফুরার কাজী সাজ্জাদ হোসেন, এসআইও-র গণসংযোগ সম্পাদক সুজাউদ্দিন আহমেদ, হাফেজ আজিজুদ্দিন, আলুমনি এসোসিয়েশন আলিয়ার সভাপতি আবু সালেহ রেজানুল করিম প্রমুখ একাধিক মুসলিম ব্যাক্তিত্ব।
head_ads