সদ্যোজাত শিশুকে কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন মা

0
নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, ভাঙড় : সদ্যোজাত শিশুকে কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন মা। এমন ঘটনারই সাক্ষী থাকল ভাঙড়। তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এলাকর জনপ্রতিনিধিরা, ফলমূল দিয়ে তাকে উজ্জীবিত করেন।
সাবানা খাতুন  উত্তর ২৪  পরগনার সন্দেশখালীর জেলিয়াখালী হাই স্কুলের ছাত্রী। তার পরীক্ষা সেন্টার পড়েছিল ধুচনিখালী হাই স্কুলে। সেখানেই সে গত শনিবার পর্যন্ত পাঁচটি পরীক্ষা দিয়েছে।শনিবার রাতে হঠাৎই সে  অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।সেখান থেকে বাসন্তী হাইওয়ের পাশে কাঁটালিয়াতে নিউ লাইফ নার্সিংহোম ভর্তি করা হয়। রবিবার রাতে একটি ফুটফুটে শিশু কন্যার জন্ম দেয়।পড়াশোনার প্রতি তাঁর অদম্য ইচ্ছার জন্য নার্সিংহোম হোমে বসে পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি । জেলিয়াখালী স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি পর্ষদে জানান।
ঘটকপুকুর হাইস্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, পর্ষদের পরীক্ষা কন্ট্রোল রুম থেকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক কে ফোন করে তড়িঘড়ি ওই ছাত্রীর পরীক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার মাধ্যমিক পরীক্ষার শেষ দিনেও সে নার্সিংহোমের বেডে শুয়ে পরীক্ষা দেয়। পরীক্ষা দেওয়ার মাঝেও পাশে থাকা সদ্যোজাত শিশুকে কোলে নিয়ে আদর করতে ও দেখা যায়। এ দিন সাবানা বলেন, আমি গরিব ঘরের মেয়ে পড়াশোনা করে একটা কিছু করতে চাই তাই সদ্যোজাত সন্তান কে কোলে নিয়ে ইচ্ছা শক্তির জোরে পরীক্ষা দিয়েছি। গত এক বছর আগে সাবানার সঙ্গে জীবনতলার আঠারোবেকির আবুল কালামের বিয়ে হয়। বিয়ের পরে এটাই তাঁদের প্রথম সন্তান। ঘটকপুকুর হাইস্কুলের পর্ষদ প্রতিনিধি কৃষ্নপদ মাহাতো জানিয়েছেন ওই ছাত্রীর যাতে কোনও রকম অসুবিধে না হয় সে  বিষয়ে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। ভালোই পরীক্ষা দিয়েছে ঐ ছাত্রী। ভালো আছে তার সদ‍্যজাত সন্তান।এদিন পরীক্ষা শুরু আগে তাঁকে দেখতে যান ভাঙড় ২ নং পঞ্চায়েত সমিতির মৎস্য ও প্রাণী সম্পদের কর্মাধ্যক্ষ আব্দুল অদুদ ।তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং ফলমূল উপহার দেন। এর পাশাপাশি যে কোন অসুবিধায় পাশে থাকার বার্ত দেন। এ বিষয়ে আব্দুল অদুদ বলেন, ওই ছাত্রী  সদ্যোজাত শিশুর জন্ম দেওয়ার পরেও যে ভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে তা নজিরবিহীন।আমারা ওই মা কে কুর্নিশ জানাই।সমস্ত বাধা পেরিয়ে ঐ ছাত্রী যাতে তার কাঙ্খিত  লক্ষ্যে পৌঁছোতে পারে তার শুভ কামনা জানিয়েছেন তিনি।