ইব্রাহিম মন্ডল, টিডিএন বাংলা, নদিয়া: একদিকে যখন জ্বলছে বাগরি মার্কেট। এক দিন পার হলেও নেভানো যায়নি আগুন। এবার আরও এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নদিয়া জেলার গাংনাপুরে বাজি কারখানায়। রবিবার দুপুরে আচমকা বিকট শব্দে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে বাজি কারখানা। কারখানায় প্রচুর পরিমানে দাহ্যবস্তু থাকায় মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। বিস্ফোরণের তীব্রতা যে এতটাই ছিল যে কারখানার ছাদ একবার উপরে উঠে আবার নেমে যায়। আশেপাশের বাড়ি ও গাছ গুলোতে ফাটল ধরেছে দাবি বাসিন্দাদের। বিস্ফোরনে কারখানা ধ্বংস্তূপের চেহারা নিয়েছে। আশপাশের অন্তত দশটি বাড়ি কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকটি বাড়ির জানলার কাচ ভেঙে পড়েছে। সামনে দাঁড় করানো ছিল একটি গাড়ি। সেটিও পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনের খবর পেয়ে প্রথমে রানাঘাট থেকে দমকলের ইঞ্জিন যায়। পরে কৃষ্ণনগর এবং কল্যাণী থেকেও ইঞ্জিন আসে। চারটি ইঞ্জিন বহুক্ষণের চেষ্টায় আগুন আয়ত্তে আনে।


ঘটনায় মৃত্যু হয় কারখানার দুই মালিকের। মৃতেরা হলেন মিঠু মণ্ডল (৫৫) ও রঞ্জিত বিশ্বাস (৫৩)। আহত একাধিক শ্রমিক। আহতদের রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

পুজোর মরশুমে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন কারখানায়। স্বভাবতই দুর্ঘটনায় আহত হতে হয় তাঁদেরকে।
কারখানার ৩৫ জন কর্মীর প্রায় সকলেই দুপুরের খাবার খেতে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। না হলে হতাহতের সংখ্যা অনেক বাড়তে পারত।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দমকলকে খবর দেওয়া হলেও দেরিতে আসে দমকল। থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে বাজি কারখানার বে-আইনি কারবারে হতভম্ব স্থানীয় বাসিন্দারা। বিস্ফোরনের আওয়াজ এতটাই মারাত্মক আকার ধারণ করে যে বাসিন্দাদের মধ্যে এখনও কাটছেনা আতঙ্ক।