হিন্দু মুসলিম ভাগ নয়, আসামে বাঙালি জাতি সত্তাকে টিকিয়ে রাখার ডাক 

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : হিন্দু মুসলিম ভাগ করে সমস্যা জিইয়ে রাখা নয়, আসামে বাঙালি জাতি সত্তাকে টিকিয়ে রাখার ডাক দিলেন বুদ্ধিজীবীরা। শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে আসামের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন আসামের অধ্যাপক তপতী ভট্টাচার্য, আইনজীবী অরুণাভ ঘোষ, সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য, কলকাতা করপোরেশনের প্রাক্তন মেয়র বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, আসামের উদ্বাস্তু নেতা সাধনপুরকায়স্থ, নীতিশ বিশ্বাস প্রমুখ।

মূলত নাগরিক রক্ষা সমন্বয় সমিতির পক্ষ থেকে প্রেস ক্লাবে এই সভা হয়। তপতী বাবু দুঃখ করে বলেন, “আমরা কারও চেয়ে কম বাঙালী নই, তা আমাদের জোর করে বলতে হয়। এটা লজ্জাজনক। আমরা প্রাণ দিয়েও বাঙালী হিসেবে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে পারিনি, এটা দুর্ভাগ্যজনক। কে নাগরিক, কে নাগরিক নয় তার চুড়ান্ত খসড়া প্রকাশ করা হবে। আমার বাবা স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন। তিনি আসাম বিধানসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি নিজে আমাকে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগপত্র দিয়েছিলেন। কিন্তু চুড়ান্ত খসড়া প্রকাশের পর আমাদের নাম আসেনি কেন? এর জবাব কে দেবে?”

Advertisement
head_ads

ওই জনপ্রিয় বাঙালি নেতা ও অধ্যাপকের আরও মন্তব্য, “অসমে বাংলা ভাষায় যারা কথা বলেন তাদের মশা মাছির মতো মনে করা হচ্ছে। কেন, কে ঠিক করে দিল তারা ভারতীয় নয়? সনোয়াল যদি ভারতীয় হতে পারেন তাহলে তপতী নয় কেন? বাংলা ভাষাকে হেয় করতেই কি এই দ্বিচারিতা? বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাঙালী না। বাংলাদেশী শব্দ গালাগাল হলে হাসিনাকে কেন ডাকা হয়? কেন চুক্তি করা হয়, তাকেও ইগনোর করুন। নিহারচন্দ্র রায়ের লেখা বইয়ে বাংলা সংস্কৃতির কথা উল্লেখ আছে। সুপ্রিমকোর্ট সম্বন্ধে কিছু বলবনা। তবে সুপ্রিমকোর্ট এর জুজু দেখিয়ে একের পর এক আইন জারী করা হচ্ছে যেভাবে, সেটা অনৈতিক। আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে, কিন্তু বাংলার মিডিয়া আমাদের নিয়ে কিছুই লিখছেনা, বলছেনা। ৪০ লাখ মুসলমানের নামতো বাদ যাবে? এটাই গুরুত্বপূর্ণ কথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৩৩-৪৫ এর মধ্যে হিটলারের জার্মানিতে যে নারকীয় ঘটনা ঘটেছিল, আগামীর অসমে হয়তো বাংলাভাষীদের সেই অবস্থা হতে পারে। গুয়াহাটির বৈদুতিন গণমাধ্যম সেই আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়ে চলেছে। তারা জাতি বিদ্বেষ, ব্যক্তি আক্রমণ করে চলেছে। হিন্দু বাঙালী, মুসলিম বাঙালী বলে প্রচার চালানো হচ্ছে। জাতির পরিচয় হয় ভাষা দিয়ে,ধর্ম দিয়ে নয়।”

সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, “অসমে থেকে অসমিয়া বলা যাবে, হিন্দি বলা যাবে আর বাংলা বললে দোষ কিসের? বাংলা ভাষার চাপে অসমিয়া আইডেন্টিটি হারাচ্ছি, জাতির আইডেন্টিটি হারাচ্ছি এটা তাদের অভিযোগ। আসামে যারা ট্রি প্লানেটেশেনএর কাজ করছে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিলে সে কাজ কে করবে? চাষের কাজ কে করবে? আইডেন্টিটি ক্রাইসিস বন্ধ করার জন্য সব দলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। কংগ্রেস এবিষয়ে একটি বৈঠক করবে শীঘ্রই। গোপনে গোপনে একটা ষড়যন্ত্র চলছে এবং সমাজকে ক্ষয়িষ্ণু করে দিচ্ছে। ভোট লড়াইয়ে জয়ের জন্য আমরা আমাদের বুকে কুড়াল মারছি। মহারষ্ট্রে, বিহারে বাঙালী থাকতে পারলে গুয়াহাটিতে কেন থাকতে পারবেনা?”

অন্যদিকে উদ্বাস্তু নেতা সাধন পুরকায়স্থ জানান, “অসমে নাগরিকপঞ্জি উন্নতিকরন প্রক্রিয়ায় বংশবৃক্ষ পরীক্ষা নিয়ে শুরু হয়েছে এক তুঘলকী কান্ড। বাঙালীদের আজকের এই দুর্দিনে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে পাশে থাকতে হবে। সব বাঙালিকে এক হতে হবে।” এদিন প্রায় সকলেই আসামের নাগরিকত্ব সমস্যা নিয়ে জাতপাত বা ধর্মীয় রাজনীতি না করার অনুরোধ জানান।

head_ads