প্রিয় ডাক্তারের সৎকার সহ শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে অগণিত মুসলিম, সম্প্রীতির নজির পন্ডিতপুরে

0

রেবাউল মন্ডল, টিডিএন বাংলা, করিমপুর: ভালোবাসার কাছে জাতি-ধর্ম যে চিরকালই হার মেনেছে তা আবারো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল নদিয়ার থানারপাড়ার পন্ডিতপুরের মানুষজন।প্রত্যন্ত এই গ্রামটির একমাত্র গ্রামীণ ডাক্তার ছিলেন গঙ্গাপদ রায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বহু বছর আগে ডাক্তার বাবুর বাবা মতিলাল রায় সম্পুর্ন মুসলিম অধ্যুষিত এই এলাকায় সপরিবারে আসেন। কর্মসূত্রে তিনি ছিলেন একজন কাঠের সুদক্ষ মিস্ত্রি। পিতা গত হবার পরও এলাকা ছেড়ে যাননি ছেলে গঙ্গাপদ রায়। পন্ডিতপুরে তার পরিবারটিই একমাত্র হিন্দু পরিবার। ভালোবেসে ফেলেছিলেন গ্রামবাসীদের। তারপর থেকে এই গ্রামেই দীর্ঘকাল মানুষদের চিকিৎসা করে আসছেন তিনি। রোগ বালাই হলে তিনিই ছিলেন একমাত্র ভরসা। গ্রামের লোকের কাছে তিনি ‘গঙ্গা ডাক্তার’ বলেই পরিচিত ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ই জানুয়ারি ৮০ বছর বয়সে বার্ধক্য জনিত কারণে মারা যান তিনি। প্রিয় ডাক্তারকে শেষ বিদায় জানাতে হিন্দু ভাইদের পাশাপাশি সেদিন শ্মশান যাত্রায় অংশ নিয়েছিল অর্ধশতাধিক মুসলিম গ্রামবাসী।

আজ মঙ্গলবার তার শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে পরিবারের পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত আছে প্রায় ৪০০ মুসলিম। ডাক্তার বাবুর ছেলে গৌতম রায় (৩৮) বলেন, “বাবার সৎকারে এখানকার মানুষদের আপ্রাণ সহযোগিতা ভুলবার নয়। দাদুর আদি বাড়ি শিকারপুরে। ছুতোর মিস্ত্রি হিসেবে দাদুর সুনাম ছড়িয়েছিল এলাকায়। তার কাজে খুশি হয়ে এখানকার মানুষরাই থাকতে জায়গা দেন। আমার জন্মও এখানে, এখানেই থাকতে চাই আজীবন।”

পল্লী চিকিৎসক সংযুক্ত সংগ্রাম কমিটির স্থানীয় সভাপতি শরৎচন্দ্র মন্ডল বলেন, “সহকর্মীর সৎকারে পন্ডিতপুর বাসীর আন্তরিকতা দেখে আমি অবাক হয়েছি। আমাদের হিন্দু সমাজে সাধারণত দাহ কাজে একটি লরিই ভর্তি হয়না, সেখানে এখানকার মুসলিম ভাইয়েরা নিজেরাই ৩টি লরি ভাড়া করে শ্মশানে গিয়েছিলেন- যা সত্যিই বিরল। নিজের ভাইয়ের চেয়েও ভালো ব্যবহার দেখলাম এখানে যা আমাকে মুগ্ধ করেছে।” সম্প্রীতির এই অনন্য নজির দেখে এলাকার প্রবীণ শিক্ষক আব্দুল মতিন বিশ্বাস টিডিএন বাংলাকে বললেন, “সৌভ্রাতৃত্বের এই বিরল দৃশ্যে ডাক্তার বাবুকে হারানোর বেদনার সাথে সাথে গর্ব ও অহংকারে বুক ভরে গেল। গঙ্গাদা অমর রহে। তাঁর পরলৌকিক জীবন সুখের হোক।”

গঙ্গাপদ রায় আজ আর নেই। কিন্তু তাকে ঘিরে সম্প্রীতির যে বাতাবরণ তৈরি হয়েছে  তা আজীবন বজায় রাখতে চান বলে জানালেন স্থানীয় যুবক আব্দুস সবুর বিশ্বাস। সম্প্রীতির এই বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক সারা বাংলায় এমনটাই চাইছেন আট থেকে আশি সকল পন্ডিতপুর বাসী।

tdn_bangla_ads