একই দিনে চার নাবালিকা ও তিন নাবালকের বিয়ে বন্ধ করে নজীর ফারাক্কায়

0
নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : এক আদিবাসী নাবালিকা সহ একই দিনে মোট চারজন নাবালিকা ও তিনজন নাবালকের বিয়ে বন্ধ করে রাজ্যে নজীর গড়লো ফারাক্কা ব্লক প্রশাসন। হোলির সরকারী ছুটে বাদ দিয়ে নাবালিকাদের বিয়ে বন্ধ করতে দিনভর ব্লকের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ছুটে বেড়ালেন ফারাক্কার বিডিও বিডিও কেশাঙ ডান্ডুপ ভুটিয়া এবং আইসি উদয় শঙ্কর ঘোষ। প্রশাসনিক আধিকারিকরা এই প্রথম এত গুলো বিয়ে বন্ধ করার পাশাপাশি নাবালিকার মেয়েদের নিয়ে বন্ধে অভিভাবক দের সচেতনার পাঠও দিলেন অভিভাবকরাও খুশি হয়ে অল্প বয়সে বিয়ে না দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মুচলেকাও দিলেন প্রশাসনকে।
বৃহ:বার হোলির দিন সকালে ফারাক্কার  আইনি সহায়তা কেন্দ্রের পিএলভি মহুয়া মুখোপাধ্যায়ের কাছে নাবালক ও নাবালিকার বিয়ের খবর পান বিডিও এবং আইসি । খবর পেয়েই বিডিও ও আইসি আইনি সহায়তা কেন্দ্রের পিএলভিকে সঙ্গে করে প্রথমেই ছুটে যান ফিডার ক্যানেলের পশ্চিম পাড় ঝাড়খন্ড সংলগ্ন বাহাদুরপুর গ্রামপঞ্চায়েতের বাগদাবড়া তুরি পাড়ায়। সেখানে এক আদিবাসি পরিবারের মেয়ের বিয়ের ব্যস্ততা তুঙ্গে। গঙ্গাসাগর তুরির বড় মেয়ে নাবালিকা তথা বাহাদুরপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অস্টম শ্রেণীর ছাত্রী সোনামুনি তুরির (১৪) সাথে ঝাড়খণ্ডের  ঝলুকা তুরির ছেলে নাবালক পাত্র মঙ্গল তুরি (১৯)-র শনিবারই ছিলো বিয়ের দিন। গোপনে প্রশাসনের কর্তারা জানতেই হাজির হয়ে যান ওই নাবালিকার বাড়ি। এই প্রথম  আদিবাসি সম্প্রদায়ের নাবালিকা বিয়ে বলে কিছুটা চিন্তিত ছিলেন ব্লক প্রসাশনের  দুই আধিকারিক। বিয়ের ব্যস্ততা পরিবারে যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে  ঠিক বাড়িতে দুই আধিকারিকের উপস্হিতিতে সকলে হতভম্ব হয়ে পড়েন। নাবালিকা সোনামুনির সঙ্গে কথা বলেন দুই আধিকারিক। সোনামুনিকে পড়াশোনার সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দিলে সোনামুনি ও তার বাবা মা রাজি হলে নিজেদের নাবালিকা মেয়ের বিয়ে বন্ধের আশ্বাস দিয়ে মুচলেকা দেন তারা।
আবার এদিনই ফারাক্কার আলাইপুর গ্রামের বুদ্ধ প্রামানিকের মেয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী নাবালিকা দিপীকা প্রামানিকের (১৬) সাথে রামরামপুরের রাজমিস্ত্রি যুবক চৈতন্য সরকারের বিয়ে ঠিক হয়েছিলো রবিবার। প্রশাসনিক আধিকারিক রা তাদের বিয়ে বন্ধ করতে গেলে মেয়ের বাবা দারিদ্রতার কারণেই তার নাবালিকা মেয়ের বিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ জানান। বিডিও তাকে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিলে সে বিয়ে বন্ধ করে দেয়। এদিকে ফারাক্কার কুলিগ্রামের সামাউল মোমিনের নাবালক পুত্র আলম মোমিনের (১৯) সাথে ঝাড়খণ্ড এর দিশানপুরের তাহির সেখের নাবালিকা মেয়ে সাজিয়া খাতুনের (১৭) সাথে বিয়ে হচ্ছিলো। প্রশাসনিক আধিকারিক রা তাদের বাডি পৌছে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করতে গেলে তাদের সাথে তর্কাতর্কি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের কাছে হার মেনে বিয়ে বন্ধের আশ্বাস দেন ছেলে ও মেয়ে পক্ষ।
অন্যদিকে একই কায়দায় ফারাক্কার বেনিয়াগ্রামের নজরুল সেখের নাবালিকা কন্যা মজিদা খাতুনের (১৫) সাথে পাশের গ্রামের এনামুল সেখের নাবালক পুত্র ফেকারুল সেখের (১৯) বিয়ে ঠিক হয়েছিলো। শনিবার বিয়ের জন্য সওদাপত্র সব কেনাকাটা সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি প্যান্ডেল নির্মাণ ও সম্পন্ন হয়েছিলো। কিন্তু গোপনে খবর পেয়ে তাদের বাড়িতেও পৌছে যান ফারাক্কার বিডিও, আইসি এবং পিএলভি নেত্রী মহুয়া মুখোপাধ্যায়। উভয় পরিবারের অভিভাবক দের ডেকে বুঝিয়ে তাদের বিয়ে বন্ধ করতে রাজি করানো হয়। আধিকারিক দের বার্তায় নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে বিয়ে বন্ধ করে মুচলেকাও দিন উভয় পরিবার।
হোলির দিনে সরকারী ছুটিকে উপেক্ষা করে এভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে সকলের নজর কেড়েছে ফারাক্কার আইসি উদয় শঙ্কর ঘোষ ও বিডিও কেডি ভুটিয়া। এভাবে নাবালক নাবালিকা দের বিয়ে বন্ধ করতে পারায় খুশি তারাও। এবিষয়ে বিডিও কে ডি ভুটিয়া জানান, আমরা নাবালক নাবালিকার বিয়ে বন্ধে জোরদার প্রচারাভিযান চালাচ্ছি। তারপরেও যেখানে লুকিয়ে বা অসচেতনতার কারণে বিয়ে দেওয়ার চেস্টা হচ্ছে সেটা সাধারণ মানুষই আমাদের জানিয়ে দিয়ে সেই বিয়ে ভন্ডুল করে দিচ্ছে। বৃহ:বারও আমাদের পিএলভি নেত্রী মহুয়া মুখোপাধ্যায় এর কাছে এই নাবালিকা দের বিয়ের খবর আসতেই আইসি, পিএলভি নেত্রী, সিনি সহ সকল কে নিয়ে আমরা সাতজন নাবালক নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করেছি। ব্লকে এই প্রথম এতগুলো বিয়ে একসাথে বন্ধ করা হলো।