বাবা-মা নেই, নিজে বিড়ি বেধে সংসার সামলে এবারে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসছে মুর্শিদাবাদের ঝুমা খাতুন

0
নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ  : মা সেতারা বিবি মারা গেছেন তেরো  বছর আগে, বাবা লুতফল হকও  বছর সাতেক আগে চলে গেছেন পরপারে। তিন ভাই, ছয় বোন। বড় চার বোনের বিয়ে হয়ে এখন তারা শ্বশুর বাড়িতে। বাড়ির বড় ভাইও বিয়ে করে আলাদা সংসার পেতেছেন। ছোট দুই ভাই ও এক মানশিক ভারসাম্যহীন বোন কে নিয়ে এখন বিড়ি বেধে সংসার সামলে এবারে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসছে সামশেরগঞ্জের মধ্য চাচন্ড গ্রামের ঝুমা খাতুন।
          চাচন্ড বাসুদেবপুর জালাদিপুর হাইস্কুল থেকে এবারে মাধ্যমিকে বসছে ঝুমা খাতুন। সেন্টার পড়েছে তিন কিলোমিটার দুরত্বে জয়কৃষ্নপুর এ বি এস বিদ্যাপীঠে। সহপাঠীরা পরীক্ষা দিতে যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া সবুজ শ্রীর সাইকেল নিয়েই পরীক্ষা দিতে যাওয়ার কথা ঝুমার।
      কদিন পরেই মাধ্যমিক পরীক্ষা  । মাথায় বড় চাপ। প্রতিদিন সকালে উঠে বাড়ির সব কাজ সেরে একটু বই খাতা নিয়ে বসলেও সংসারের তাগিদে বিড়ির ‘কুলা’ নিয়ে বসতে হচ্ছে তাকে। দশটা অবধি বিড়ি বেধে স্কুল যাওয়ার পাশাপাশি এসেও রান্না করার চাপ। স্কুল গেলেও টিফিনের সময় বাড়ি চলে এসে রান্না করতে হয় ঝুমাকে। তাই কোনোদিন স্কুল যেত আবার কোনোদিন যেত না সে। টিউশন যেমন পড়ে নি ঠিক তেমনি বাড়ির কারো কাছে পড়তে সাহায্যও পাইনি। তাই নিজে নিজেই কস্ট করে মাধ্যমিক পর্যন্ত এসে কোনোরকমে মাধ্যমিক দিচ্ছে সে। ঝুমা খাতুন জানায়, যখন ছোট ছিলাম তখনই মা মারা গিয়েছিলো। আব্বা দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগছিলো। দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভোগার পর সাত বছর আগে আব্বাও মারা যায়। দাদাও বিয়ে হয়ে আলাদা খাচ্ছে। বোনেরা বিয়ে হয়ে শ্বশুর বাড়ি চলে গেছে। ছোট দুই ভাই সরিফুল ইসলাম, রেকাবুল হক ও এক মানশিক ভারসাম্যহীন বোন সুখিমন খাতুন কে নিয়েই কস্ট করে দিন কাটছে। কোনোদিন স্কুল যায় আবার কোনোদিন যায় নি।মাঝপথে পড়া ছাড়ার উপক্রম হলেও  কন্যাশ্রীর টাকা পাওয়ার পর পড়াশুনা করতে ইচ্ছেটা বেড়ে গেছিলো  আগামীতে শিক্ষিকা হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক অনটন আর সাংসারিক চাপে  মাধ্যমিক দিয়েই মনে হচ্ছে পড়া ছেড়ে দিতে হবে।
       মুর্শিদাবাদের বিড়ি শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা সামশেরগঞ্জের এই দারিদ্র, অসহায় ছাত্রীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কি আসবে বিশেষ সরকারী সুবিধা? উত্তর সময়ই দেবে।
head_ads