মাতৃভাষা দিবসে সংবিধানকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানালেন পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী

0

সেখ সাদ্দাম হোসেন, টিডিএন বাংলা, হাওড়া : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিনে সংবিধানকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানালেন ফুরফুরা শরীফ আহলে সুন্নাতুল জামাতের কর্নধার পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী। বুধবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের উদ্যেশ্যে ফুরফুরা শরীফ আহলে সুন্নাতুল জামাতের ব্যবস্থাপনায় হাওড়া জেলার মৌখালীতে এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এই সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি একথা বলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন যে, “গণতন্ত্র আজ বিপন্ন। দেশের সংবিধানের অপব্যবহারের ফলেই তা হচ্ছে। কারন সাধারণ মানুষের মধ্যে সংবিধানের জ্ঞান না থাকার ফলে তারা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই সংবিধানের সঠিক প্রয়োগ করতে হলে প্রয়োজন এটার সম্বন্ধে সকলের অবগত হওয়া। তাই আমি অনুরোধ করবো সংবিধানকে ধাপে ধাপে আবশ্যিক বিষয় হিসাবে পাঠ্য সূচীতে অন্তর্ভুক্ত করে সকলকে জানার সুযোগ করে দেবার। তাহলেই সংবিধানের ঐতিহ্য রক্ষা হবে। মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পাবে।” 

১৪ই ফেব্রুয়ারি হিন্দু সংহতির সদস্যদের দ্বারা সাংবাদিক নিগ্রহের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি তাদের উপযুক্ত শাস্তির দাবী করে বলেন, “বাংলার অভিভাবক মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করবো এই সম্প্রীতির বাংলায় সন্ত্রাসসৃষ্টি কারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করার।” এই পীরজাদা আরও বলেন, “বাংলার মাতৃভাষা বাংলা ভাষা। এই বাংলা ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই স্বীকৃতি পাওয়া আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ পালিত হচ্ছে সর্বত্র। অথচ এই বাংলারই একসময়ের রাজধানী মুর্শিদাবাদ স্বাধীনতার সত্তর বছর পরেও একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য হাপিত্যেস হয়ে রয়েছে। তাই দেশের নাগরিক অধিকারের দাবিতে বাংলার অবিভাবকের কাছে মুর্শিদাবাদে একটা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার দাবী জানাবো।”

দেশের বর্তমান অসহিষ্ণু পরিবেশের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “ছদ্মবেশী গেরুয়া সন্ত্রাসের কবলে বর্তমান ভারতবর্ষ। সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার, সফিউলেরা নিজের মাতৃভাষাকে রক্ষার জন্য বুকের তাজা রক্ত দিয়ে লিখে গেছে এক অনন্য ইতিহাস। দেশকে এই গেরুয়া সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করতে, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে প্রয়োজন হলে তাদের মতই প্রাণ দিতে প্রস্তুত দেশের মুসলমানরা।”

এদিনের সভায় পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সম্পাদক পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী, প্রাক্তন বিচারপতি মির দারা শিকো, আদ্যাপীঠের সাধারণ সম্পাদক ব্রহ্মচারী মুরাল ভাই, ডাঃ ময়নুল হাসান, আবমার সভাপতি আবু আফজল জিন্না, সমাজকর্মী জয়তু দেশমুখ, তথ্যচিত্র পরিচালক সৌমিত্র ঘোষদস্তিদার, সুজিত মুখার্জী, তন্ময় দে, জে.এন.ইউ-এর গবেষক ছাত্র আব্দুল মতিন, মুফতি আলাউদ্দিন, শামসুর রহমান মল্লিক, হাজী ইব্রাহিম, আফতাব উদ্দিন মন্ডল সহ সংগঠনের অন্যান্য কর্মীবৃন্দ ও অসংখ্য ভক্তবৃন্দ।

বিশিষ্ট সমাজ কর্মী জয়তু দেশমুখ বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি চারন করে বলেন, “২১শে ফেব্রুয়ারি এক মিলন-ঐক্যের দিন। এদিন বাঙালি হিন্দুরাও বাংলা ভাষার জন্য শহীদ পাঁচ জন মুসলিম যুবককে জানায় সালাম।” তিনি আরও বলেন যে, “বর্তমানে হিন্দু-হিন্দি-হিন্দুস্থান আওয়াজ উঠেছে। যা ধর্ম নিরপেক্ষতাকে ধ্বংস করেছে। এর জন্য সকল বাঙালিকে এক হতে হবে।”

তথ্যচিত্র পরিচালক সৌমিত্র ঘোষদস্তিদার বাংলা ভাষার কথা বলতে গিয়ে বাংলা ভাষার জন্য  স্বাধীনতা সংগ্রামী যুগসংস্কারক পীর আবুবকর সিদ্দিকী(রহঃ)-এর  অনবদ্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বাংলা ভাগের মূল কান্ডারি হিসাবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাম বলে বলেন ‘বাংলার মুসলমানরা চাইনি বাংলা ভাগ হয়ে যাক।’ আর গুজরাট নিয়ে তার নির্মিত তথ্যচিত্রর কথা বলতে গিয়ে বলেন, “গুজরাটে দাঙ্গা হয়নি, যা হয়েছিল তা হল গণহত্যা।”

অদ্যাপীঠের সাধারণ সম্পাদক ব্রহ্মচারী মুরাল ভাই বলেন, “ধর্ম একটাই তা হল মানব ধর্ম। আর জাতিও একটাই তা হল মানব জাতি। তিনি স্বামীজীর বাণী উদ্ধৃতি করে আত্ম শ্লাঘ্যা ত্যাগ করে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়র বাংলার জন্য, মানুষের জন্য কাজ করার কথা বলেন।” সবশেষে বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনা করে মহান স্রষ্টার কাছে দুয়া চাওয়া হয়।