প্লাস্টিক-রাসায়নিক পোড়া বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাব থাকবে কিছুদিন, মত বিশেষজ্ঞদের

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: একের পর এক আগুন লাগার ঘটনায় পুড়ছে প্লাস্টিক থেকে নানা ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য। বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে কার্বন মনোক্সাইড থেকে ডাইঅক্সিন— অত্যন্ত বিষাক্ত ধরনের গ্যাস। পোড়া ধ্বংসস্তূপ থেকে অনেক দূর পর্যন্ত অজান্তেই শ্বাস প্রশ্বাসের সঙ্গে তা মিশছে মানুষের শরীরে।

রবি ও সোমবার বাগরি মার্কেটের ভয়াবহ বিষাক্ত ধোঁয়ায় এভাবেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন আশেপাশের বহু মানুষ। সেখানে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে রয়েছে চারদিকে। আগুন নিভলেও আরও কয়েকদিন ধরে চলবে এই দূষণ। এভাবেই বিভিন্ন আগুন লাগার ঘটনায় মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় জঞ্জাল পোড়ানোর নামে কোনও নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে পোড়ানো হয় পলিপ্যাক। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে বিশেষ করে কলকাতা একেই ভয়াবহ দূষণের কবলে রয়েছে। ক্রমশ বাড়ছে এর পরিমাণ।

বিভিন্ন গুদাম বা মার্কেটে আগুন লাগলেই প্লাস্টিকজাত ও রাসায়নিক দ্রব্য পুড়ে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে বিষাক্ত গ্যাসে। সেগুলি শরীরের সঙ্গে বিক্রিয়ার ফলে শ্বাসকষ্ট, বমি থেকে শুরু করে ভবিষ্যতে ফুসফুস সংক্রমণ ও ক্যানসার পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসক ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। বড়বাজারসহ বিভিন্ন ঘিঞ্জি এলাকার বাজারে ও গুদামে নানা ধরনের দাহ্য পদার্থ মজুত থাকে। সেইসব গুদামে আগুন লাগলে কোন রাসায়নিক পদার্থের জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত তার গাইডলাইন থাকলেও তা মানা হয় না কোনও ক্ষেত্রেই, বলছেন রাসায়নিক বিশেষজ্ঞরা।

বাগরি মার্কেটের আগুনে বিভিন্ন কসমেটিকসগুলি পুড়ে তৈরি হয়েছে অ্যারোমেটিক পি এ এইচ জাতীয় মারাত্মক ভেপার। শুধু তাই নয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিদ্ধার্থ দত্তের বক্তব্য, প্লাস্টিক পুড়ে কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস বেরিয়েছে প্রচুর পরিমাণে। এছাড়া পলিমারের মধ্যে ক্লোরিনেটেড থাকে। থাকে ডাইঅক্সিন যা অত্যন্ত ক্ষতিকারক, ক্যানসার পর্যন্ত ঘটায়। বাগরি মার্কেটের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এখানে কিছু কসমেটিকস এখনও না পুড়ে অক্ষত রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তাহলে সেখানে আগুনের উত্তাপে সেগুলি ভেপারে বা গ্যাসীয় অবস্থায় পরিণত হবে ধীরে ধীরে। সেক্ষেত্রে ফাটা দেওয়াল বা ছাদ দিয়ে বেরিয়ে এসে ওই ভেপারও ভয়ংকর ক্ষতি করবে মানুষের। আর কোনও অগ্নিকাণ্ডের পর ধিকি ধিকি আগুন জ্বলতে থাকলে তা থেকে প্রচুর পরিমাণে কার্বন মনোক্সাইড বের হয়। সেখানে উপস্থিত সবারই শ্বাসকষ্টসহ ফুসফুস সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। আগুন নিভে গেলেও ক্ষতিকর গ্যাসের হাত থেকে সহজে রক্ষা নেই শহরবাসীর।

দিনে দিনে কলকাতা চলে যাচ্ছে মারাত্মক দূষণের কবলে। গোটা শহর জুড়ে মেট্রোর নির্মাণ কাজ বা ভেঙে পড়া ব্রিজ, বাড়ির ধ্বংসাবশেষ থেকে ধূলিকণা বাতাসে মিশে বাতাস ভারী করে তুলছে। এর ওপর জ্বালানির, কাটা তেলের পোড়া গ্যাস তা ক্রমশ বাড়িয়ে তুলছে। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে এবছর গোড়ার দিকে দূষণের মাত্রা ছিল ব্যাপক। জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি কাউন্ট ছিল ৫৬৫ যা সহনশীলতার মাত্রা ৬০ এর ৯গুনেরও বেশি। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে বর্ষাকালে বা গরমকালে এই দূষণের পরিমাণ অতটা বোঝা না গেলেও বর্ষার পর থেকে মালুম হয় এর প্রকোপ। এর ওপর রয়েছে যেখানে সেখানে প্লাস্টিক, পলিপ্যাক পোড়ানো। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকায় রয়েছে প্লাস্টিক এবং প্লাস্টিকবিহীন আবর্জনা আলাদা ভাবে সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু তা না করে যদি ওই প্লাস্টিক পুড়িয়ে দেওয়া হয়, তা আইন বিরোধী। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, দূষণ রোধে সরকারের এক বড় ভূমিকা রয়েছে। কিন্ত তা ঠিকমতো মানা হচ্ছে না। তার ওপর হঠাৎ করে বড় আগুন লেগে প্লাস্টিক ও রাসায়নিক পুড়লে তা শহরবাসীর পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। তবে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের এসব কোনও তথ্যই না মেনে কিছুদিন আগে মেয়র শোভন চ্যাটার্জি জানিয়েছিলেন কলকাতায় তেমন পরিবেশ দূষণ নেই। খবর গণশক্তির