দারিদ্রতা : বিড়ি বেধে ফের স্কুল যেতে শুরু করলো মুর্শিদাবাদের সাবিয়া খাতুন

0
নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ :  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্যাশ্রীর হাত ধরে পড়াশুনা ছাড়ার পরেও ফের শিক্ষার আঙিনায় এসে সকলের নজর কাড়লো সামশেরগঞ্জের সাহেবনগর গ্রামের নাবালিকা মেয়ে সাবিয়া খাতুন। মা মারা যাওয়ার পরে বাবা আর প্রতিবন্ধী ভাই ককে নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে  ক্লাস এইটে’ই পড়াশুনা ছেড়ে দিয়েছিলো সাবিয়া।পড়ার ইচ্ছেটা থাকলেও পারিবারিক দারিদ্রতার কারণে আর এগিয়ে যেতে পারেনি সে। সকাল বিকাল বিড়ি বেধে অসুস্থ বাবা ও প্রতিবন্ধী ভাই এর খেদমত করতে গিয়েই তার শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন উধাও হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু দিন কয়েক আগে ফের বাবা মারা যাওয়ার পরে খাঁ খাঁ সংসার সেই বারানো ইচ্ছেটাই ফের সামনে এনে দিয়েছে তার। তাই সে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে ফের জানতে চেয়েছিলো স্কুলে আর পড়া যাবে কি না? তার কথায় সায় দিয়েছিলো স্কুল। তাই নতুন করে ফের স্কুলে যাচ্ছে সাবিয়া।
সাবিয়াদের বাড়িতে নয় বোন আর দুই ভাই। মা রিজিয়া বিবি মারা গিয়েছেন বছর সাতেক আগে। বাড়ির বড় দিদিদের সকলের যেমন বিয়ে হয়েছে ঠিক তেমনি বড় দাদার বিয়ে হয়ে সেও অন্যত্র ঘর পেতেছে। তাই বাবা অসুস্থ হওয়ার পর তার কাধেই পড়েছে সংসারের ভাড়। অসুস্থ বাবা আর প্রতিবন্ধী ভাই এর খেদমতের জন্য পড়াশুনা ছাড়তে বাধ্য হয় সাবিয়া। তার কথায়, সকাল রান্না, নড়তে চড়তে না-পারা দাদাকে দেখভাল আর শয্যাশায়ী বাবা, এর পরে আর স্কুলে যাব কখন! তাই আর স্কুল যেতে পারিনি। অস্টম শ্রেণীতেই গন্ডি শেষ করেছি। হঠাত আবার গত ১২ ফেব্রুয়ারি  বাবা মুর্তজা আলি মারা যাওয়ায় কাজ অনেক টা হালকা হয়েছে সাবিয়ার। ফলে  তার আবার স্কুলে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছা তৈরি হয়।
তাই কিছুটা ইতস্তত করেই চাচন্ড বিজে হাইস্কুলে ফের পা রাখে সাবিয়া। প্রধান শিক্ষক মিজাউর রহমানের ঘরে প্রবেশ করেই তার ইচ্ছার কথা জানাতেই অবাক হয়ে যান শিক্ষক মহাশয়। সঙ্গে সঙ্গে সাবিয়াকে ভর্তি করে নেন নবম শ্রেণিতে। প্রধান শিক্ষকের কথায়, সাবিয়া বেশ ভাল ছাত্রী। সব বই দেওয়া হয়েছে ওকে। সঙ্গে স্কুলের পোশাক, খাতাপত্র কেনার জন্য কিছু টাকাও দিয়েছি।
এদিকে সাবিয়ার অদম্য ইচ্ছার দেখে এলাকার সকল মানুষই ব্যপক খুশি। গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রফিক তাকে সবরকম ভাবে সাহায্য করার আশ্বাসও দেন।