ঝাড়খণ্ডে পপুলার ফ্রন্টকে নিষিদ্ধ ঘোষনার প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন 

0
এদিন সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো অভিযোগ করা হয়, ঝাড়খণ্ড সরকার পপুলার ফ্রন্টকে ক্রিমিনাল ল আমেন্ডমেন্ট আইন-১৯০৮-র ১৬ ধারা অনুসারে ওই রাজ্যে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ফেব্রুয়ারি মাসের ২০ তারিখে যে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে তাতে পপুলার ফ্রন্টকে রাজ্যে নিষিদ্ধ করার কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দক্ষিণ ভারতে পপুলার ফ্রন্টের কিছু সদস্য নাকি সিরিয়া-  ইরাকের আইএস আইএস-এর দ্বারা প্রভাবিত। নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর ঝাড়খণ্ডে পপুলার ফ্রন্টের কাজ বন্ধ আছে। কিন্তু কিছু সদস্য ও নেতাদের বিরুদ্ধে সংগঠনের কাজ জারি রাখার অভিযোগে কেস করা হয়েছে এবং অনেককে হেনস্তা করা হচ্ছে। পুলিশ দ্বারা আমাদের সদস্যদের হেনস্থা করার নিন্দা জানাচ্ছি এবং ঝাড়খণ্ড সরকারের নিকট আবেদন করছি যে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক। ফ্রন্টের নেতারা এদিন দাবি করেন, ঝাড়খণ্ডে সংগঠনের বিরুদ্ধে সরকার কোন অভিযোগ তুলতে পারে না। অভিযোগের ক্ষেত্রে তারা দক্ষিণ ভারতের কিছু মিথ্যা অভিযোগের উপর নির্ভর করছে। তারা আরো বলেন, সাম্প্রতিককালে কেরালা ও কর্ণাটক সরকার ঘোষণা দিয়েছে যে, নিষিদ্ধ করা যাবে এমন কোন কারণ পপুলার ফ্রন্টের বিরুদ্ধে পাওয়া যায়নি এবং পপুলার ফ্রন্টকে নিষিদ্ধ করার জন্য কোন আবেদন কেন্দ্র সরকারের নিকট পাঠানো হয়নি। ফলে দক্ষিণ ভারতের সংবাদের ভিত্তিতে ঝাড়খণ্ড সরকার যদি পপুলার ফ্রন্টকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তাহলে সেটা অযৌক্তিক হবে। আইএস-এর যে অভিযোগ করা হয় সেটাও ভিত্তিহীন কারণ সংগঠন তার জন্মলগ্ন থেকেই সকল সদস্য ও দেশবাসীকে আইএস-এর মত রহস্যজনক সংগঠনের ভয়াবহতা সম্পর্কে বারবার সজাগ করে আসছে। তাহলে ঝাড়খণ্ড সরকার কেন পপুলার ফ্রন্টকে ওই রাজ্যে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ? এই প্রশ্নও তুলেছে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
পপুলার ফ্রন্টের অভিযোগ, ২০১৫ সালে পপুলার ফ্রন্টকে ঝাড়খণ্ডে ঘোষণা করার পর থেকেই পপুলার ফ্রন্টের সদস্যরা পিটিয়ে হত্যা, বিদ্বেষ বিষে বিষাক্ত ভাষণ, পুলিশী নির্যাতন ইত্যাদি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন কাজের বিরোধিতাতে প্রথম সারিতে থেকেছে। এটা স্পষ্ট যে, হিন্দুত্ববাদী ঝাড়খণ্ড সরকার ও তার পুলিশ পপুলার ফ্রন্টের এই কাজে সন্তুষ্ট নয়, কারণ ওই রাজ্যে পিটিয়ে হত্যার একাধিক ঘটনার বিরুদ্ধে তারা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পপুলার ফ্রন্ট পিটিয়ে হত্যার শিকার মানুষদের পরিবারের দ্বারাতে কেস করানোর ক্ষেত্রে সফল হয়েছে। পাঁকুড়ে বিজেপি নেতা হিসাবী রায়ের বিরুদ্ধেও একটি কেস করা হয়েছে তার বিদ্বেষপূর্ণ ভাষণের জন্য। সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার সময় পর্যন্ত পপুলার ফ্রন্ট ছয়টি পিটিয়ে হত্যার কেস লড়ছে এবং দুইটি কেস লড়ছে পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে। এই দুইটি কেসের মধ্যে একটি হল পাঁকুড়ের এস পি-র বিরুদ্ধে এবং অপরটি হল জামতারার এস পি-র বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার মানুষকে আইনী ও গণতান্ত্রিক পন্থায় কেস করার ক্ষেত্রে সক্ষম করার মাধ্যমে সমাজের দুর্বল ও নির্যাতিত শ্রেণীর মধ্যে একটি আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করতে পেরেছে এবং ন্যায়ের জন্য সংগ্রামের ক্ষেত্রে একটি নমুনা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। এটাই হল মূল কারণ যার জন্য পপুলার ফ্রন্টকে ঝাড়খণ্ডে নিশানা বানানো হচ্ছে। আমাদের সংগঠনকে তাদের জন্য একটি বড় সমস্যা মনে করে তাদের কেসগুলিকে পানি করার মাধ্যমে তারা তাদের অপরাধ থেকে বাঁচতে চায়। এর জন্য তারা যারা কেস করেছে তাদেরকেই সরিয়ে দিতে চাচ্ছে।
এদিকে সাংবাদিক সম্মেলন শেষে সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক ড.মিনারুল ইসলাম টিডিএন বাংলা কে বলেন,সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা মাধ্যমে  ঝাড়খণ্ড সরকার চক্রান্ত চালানোর পাশাপাশি গণতান্ত্রিক মত প্রকাশ ও বিরোধ প্রদর্শনের রাস্তাকে বন্ধ করার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন। অবিলম্বে তিনি তা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।