কৌশিক সালুই, টিডিএন বাংলা,  বীরভূম : সালিশি সভা ডেকে গণধর্ষণের মামলা তুলে নিতে চাপ, সেই  সেই মামলা তুলতে অস্বীকার করায় সামাজিকভাবে বয়কটের ডাক নির্যাতিতা ও তার পরিবারকে। নদী এবং পুকুরে নামা বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি কুয়ো এবং নলকূপ থেকে ও জল নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। জেলা শাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার সুবিচার চাইলেন নির্যাতিতা ও তার পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে গত ১১ জুলাই বীরভূমের মহম্মদ বাজার থানার ভূতুরা গ্রাম পঞ্চায়েতের দুবুনি গ্রামের আদিবাসী গৃহবধূ তিনজনের দ্বারা গণধর্ষিতা হন। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে আমগাছি গ্রামের তিন যুবক বাবলু সরেন আনন্দ সরেন এবং বাবুলাল মূর্মু গ্রেফতার হন। অভিযোগ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে মামলা তুলে নেওয়ার বারবার হুমকি দেওয়া হয়।

গত রবিবার নির্যাতিতার গ্রামে অভিযোগ তোলার জন্য এক সালিশি সভা  হয়। অভিযোগ মাঝি হারাম বুধি টুডু এবং রাম হেমরম এই দুজনের প্ররোচনায় অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে গ্রামবাসীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নির্যাতিতা ও তার পরিবারকে চাপ দিতে থাকে। তাদের মামলা তোলার দাবি না মানায় সামাজিকভাবে বয়কটের ডাক দেওয়া হয় ওই পরিবারকে। সোমবার নির্যাতিতা গৃহবধূ তার স্বামী ও তাদের এক নিকটাত্মীয় সিউড়ি জেলা শাসক এবং জেলা পুলিশ সুপারের কাছে ঘটনার সুবিচার চেয়ে দ্বারস্থ হন।

প্রসঙ্গত ৩০ বছর বয়সী এক গৃহবধূ  গ্রামের ৬ জন মহিলার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী চরিচার উদয়ডিহি  জঙ্গলে শালপাতা এবং ছাতু সংগ্রহের জন্য গিয়েছিলেন।অভিযোগ সেই সময় ওই  তিন জন তাকে ধর্ষন করে মহিলার সঙ্গীদের সামনে। যদিও মহিলার সঙ্গীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। মহিলা  জঙ্গল থেকে কোনোক্রমে পালিয়ে এসে খয়রাকুড়ি এলাকায় চলে যায় ।

স্থানীয় বাসিন্দারা ওই মহিলাকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে  মহম্মদ বাজার থানায় খবর দেন । পুলিশ তাকে উদ্ধার করে এবং সিউড়ি সুপার স্পেশালিস্ট হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। নির্যাতিতা  গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তিতে  পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে।

নির্যাতিতা গৃহবধূ বলেন, গ্রামের লোকজন ওই অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে বারবার আমাকে মামলা তোলার জন্য চাপ দিচ্ছে। গত রবিবার গ্রামে সালিশি সভা করে ফের মামলা তোলার জন্য চাপ দেওয়া হয় আমরা তাতে রাজি না হলে আমাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে।

আমাদের সঙ্গে কেউ কথা বললে তাকে দশ হাজার টাকা জরিমানা এবং আমরা কাউকে কথা বললে আমাদেরকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে বলে সালিশি সভায় নিদান দেওয়া হয়েছে। পুকুর নদীতে নামা নামা বন্ধ করে দিয়েছ এর সঙ্গে পানীয় জল  পর্যন্ত নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে জেলা শাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়েছি।