রেলপথের দাবিতে ২৫ মার্চ গণ কনভেনশনের ডাক করিমপুরে

0

রেবাউল মন্ডল, টিডিএন বাংলা, করিমপুর: স্বাধীনতার ৭০টি বছর কেটে গেছে। নদিয়ার সীমান্তবর্তী চাপড়া, তেহট্ট, বেতাই, নাজিরপুর, করিমপুর বাসীদের রেলগাড়ি চড়ার স্বপ্ন বহু পুরোনো। এবার সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বাসীরা গণ কনভেনশনের ডাক দিল আগামী ২৫শে মার্চ। শুরুটা হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর তা থেকেই গণ কনভেনশনের ডাক।

করিমপুর পান্নাদেবী কলেজের ঐ কনভেনশনে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসছে সকলে। ‘করিমপুর ওয়ান্টস রেলওয়ে’ নামের ঐ গ্রূপটি ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনলাইন পিটিশনে সই সংগ্রহের কাজও চলছে জোর কদমে।

রেলের দাবিকে বাস্তবায়িত করতে সম্প্রতি তারা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও জনকল্যাণকর একটি ফোরাম গঠন করেছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা তথা জমসেরপুর বিএন হাই স্কুলের শিক্ষক দূর্বাদল দত্ত। তিনি বলেন, চাপড়া থেকে তেহট্ট করিমপুর সমস্ত এলাকাতে জনমত গঠন করে রেলের দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ চলছে। পাশাপাশি রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের সমস্ত  সেক্টরে আমাদের দাবিকে তুলে ধরা হবে। সেই লক্ষেই আমাদের এই কনভেনশন।

তিনি আরো জানান, এলাকার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, ব্যাঙ্ক, হাসপাতাল, পঞ্চায়েত সহ প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী, কৃষিভিত্তিক সংগঠন বা সমিতি, সাংস্কৃতিক সংগঠন, সমাজকল্যাণ সংগঠন, ক্লাব, লাইব্রেরি, সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমকে চিঠি দিয়ে উক্ত কনভেনশনকে সফল করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

থানারপাড়ার রাজু বিশ্বাসের কথায়, আমাদের এখানে ভালো সবজি চাষ হলেও রেলের অভাবে সেগুলি শহরের বাজারে বিক্রির সুযোগ পায়না। ফলে ফসলের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত আমরা।

করিমপুরের শিক্ষক সঞ্জীব ঘোষ টিডিএন বাংলাকে বলেন, সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকায় হাজারো সম্ভবনা থাকা সত্ত্বেও শুধু রেললাইন নেই বলে এখানে কোন শিল্প কারখানা গড়ে ওঠেনি। চিকিৎসার জন্য এতদঞ্চলের মানুষকে প্রতিদিন ভয়ঙ্কর বাস যাত্রায় সামিল হতে হয়।

কবি মোকতার হোসেন মন্ডল বলেন, অর্ধেক জনতাকে অন্ধকারে রেখে জেলার উন্নয়ন কিভাবে সম্ভব? কৃষ্ণনগর টু করিমপুর আজ শুধু বঞ্চিত নয়, শোষিতও। একুশ শতকেও একটা বিস্তীর্ন এলাকায় রেল পথ হয়না-ভাবলেই মাঝে মাঝে এই রাষ্ট্রীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যারিকেড গড়তে ইচ্ছে করে। কিন্তু করিমপুর বরাবরই কলকাতার মতো নাগরিক আন্দোলনে পিছিয়ে বলে তাদের দুঃখের কথা কেউ জানতে পারেনা। আজ প্রয়োজন দুর্বার গনআন্দোলন। আজ করিমপুরের পাশে গোটা ভারতের নাগরিক আন্দোলনের কর্মীদের চাই।

প্রতিবছর রেল বাজেটের সময় আশায় বুক বাঁধেন কবি যোতিন্দ্রমোহন বাগচির জন্মভিটের মানুষেরা। ২০০৭ সালে কৃষ্ণনগর-করিমপুরে রেল সংযোগের জন্য চাপড়ার চারাতলায় একটি প্রোজেক্টও হাতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই তিমিরেই। গমাখালীর শিক্ষক সাহাবুদ্দিন মন্ডল বলছিলেন, শুধু রেলের অভাবে জেলাসদর কৃষ্ণনগর ও রাজধানী কোলকাতা যেন আমাদের কাছে বহু দূরের দেশ। এরই মাঝে ভয়ানক বাসদুর্ঘটনা খালি করে দেয় শত মায়ের কোল।

করিমপুর থেকে কোলকাতা যেতে প্রায় ২০০ কিমি বাসের পথ পাড়ি দিতে হয় এখানকার চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ী থেকে কৃষিজীবী তথা সাধারণ মানুষকে। নিকটতম রেল স্টেশন ৮০-১০০ কিমি দূরবর্তী কৃষ্ণনগরের উদ্দেশ্যে মাঝরাতে বিপদ সংকুল পথ পাড়ি দিতে হয় বলেও তাদের অভিযোগ। উচ্চ মাধ্যমিকের পর বাইরে গিয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জন থেকে বঞ্চিত এখানকার পড়ুয়ারা। সীমান্ত বাসীদের এখন একটাই দাবি- দুর্ভোগ দুর্ঘটনা আর নয়, করিমপুরে এবার রেলপথ চাই।