বাংলায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শিশুদের কোলে নিয়ে মিষ্টি খাওয়ালেন কামরুজ্জামান

0

ইব্রাহিম মন্ডল, টিডিএন বাংলা, দক্ষিণচব্বিশ পরগনা: জেসমিন আর ফতেমা। বয়স তিন।দুইজনেরই বাবা,মা কেউ নেই। মায়ানমারে সেনাবাহিনী কর্তৃক অত্যাচারিত হয়ে ভারতে আসার সময় প্রতিবেশীরা তাদের নিয়ে এসেছে। বর্তমানে জেসমিন আর ফতেমা আছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ঘুটিয়ারী শরীফের হাড়দহে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা রাতে বেশ কিছু শিশুদের কোলে নিয়ে মিষ্টি খাওয়ালেন সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান। এদিন ফেডারেশনের এক প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গাদের সাথে দেখা করেন। কামরুজ্জামান টিডিএন বাংলাকে বলেন,”এখানে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা ভাই বোনেদের সব রকম সাহায্য করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এইসব অসহায় মানুষগুলি একটু বাঁচতে চাই,আমরা কি তাঁদের জন্য একটু হাত বাড়িয়ে দিতে পারিনা?” এদিন শিশুদের মিষ্টি মুখ করানো ছাড়াও পোশাক তুলে দেন তিনি।

মূলত দেশ বাঁচাও সামাজিক কমিটির নেতা হোসেন গাজীর প্রচেষ্টায় রোহিঙ্গাদের মুখে একটু হাসি ফুটেছে। হোসেন গাজি বলছেন, মানুষ হিসাবে সকলের উচিৎ এইসব রোহিঙ্গাদের সাহায্য করা।

সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সহ সম্পাদক আব্দুল মোমিন বলেন,”নির্যাতিত রোহিঙ্গারাদের প্রতি ভারত সরকার মানবিক হওয়া উচিত। বরং তা না করে তাদের পুশব্যাক করতে চাইছে। এটা ভারতীয় সংস্কৃতি বিরোধী। ভারত সরকারের  আশ্রিতদের শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া উচিত।”
কিন্তু কেমন করে এখানে এলো রোহিঙ্গারা? একজন  রোহিঙ্গা টিডিএন বাংলাকে বললেন,”তিনবার আমরা মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে এসেছি। বাড়ি জমি সব ছেড়ে শুধু প্রাণটুকু নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসি।সেখানে আমাদের জায়গা হয়নি। চলে আসি ভারতে। দিল্লি, হায়দ্রাবাদ, কাশ্মীর, রাজস্থান-ঘুরে ঘুরে চলছি। এখন এসেছি এখানে। বাবু আমাদের মায়ানমারে পাঠাবেন না।আর আমাদের প্রতি মায়া না থাকলে এখানে শেষ করে দিন। আমরা আরাকানে ফিরতে চাইনা।”

একজন রোহিঙ্গা টিডিএন বাংলাকে বলছিলেন, ওখানে পাঁচবার দাঙ্গা হয়েছে। নেতা হলেই খুন করা হয়েছে।মুসলিম ও হিন্দু রোহিঙ্গাদের পড়াশোনা করতে দেওয়া হচ্ছে না। লুকিয়ে লুকিয়ে পড়তে হয়। আর একটু শিক্ষিত হলেই খুন করা হয়।”

ঘুটিয়ারীতে রোহিঙ্গারা আসার পর স্থানীয় মানুষ দুহাত তুলে সাহায্য করছে।
স্থানীয় প্রশাসন এখানে এসে ছবি করেছে,ভিডিও করে নিয়েছে বলে মানুষের দাবি।
মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, অসহায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবার জন্য উগ্রহিন্দুত্ববাদী শক্তি বিরোধীতা করেছে। তারা মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে।
মায়ানমারের ভাষা বলা মানুষগুলি এখন ঠিক হিন্দি বলছেন। অনেকেই বাংলা বলছেন কিন্তু লিখতে পারেন না। কিন্তু বাংলা শেখার চেষ্টা করছেন। এক ভাষা ভুলে আরেক ভাষা শিখছে।এক ঘর ভেঙে আরেক ঘর গড়ছে।

কিন্তু কেন রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর এই অত্যাচার করা হয়েছে? ২৫ বছরের মুহাম্মদ আমানুল্লাহর ছোট্ট মন্তব্য,” আমরা দিন মজুর। কেন এইসব হচ্ছে বুঝিনা।”

শিশু ও নারীদের জন্য পোশাক দরকার। সেই সাথে খাদ্য।
কিন্তু দেশে দেশে ঘুরতে থাকা লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়া সংসারের এইসব মানুষগুলি কি আর কোনও দিন স্বভাবিক জীবন কাটাতে পারবে? এতো বড়ো দুনিয়ায় এই পৃথিবীর সন্তান হিসাবে বিশ্ব কি  তাঁদের একটু বাঁচতে দেবে? অন্য দেশ থেকে আসা কোটি কোটি শরণার্থীর মতো ভারতবর্ষ কি এইসব বাঙালি রোহিঙ্গা রিফিউজিদের বুকে টেনে নিতে পারবে আন্তরিক ভাবে? উঠছে প্রশ্ন। তবে বিতর্ক যায় থাক, অত্যাচার, ধর্ষণ আর খুনের ভয় থেকে সব ছেড়ে যারা দিকভ্রান্ত হয়ে এদেশ সেদেশ ঘুরছেন, নিরপরাধ শিশুদের কথা ভেবে হলেও বিশ্ববিবেক একটিবার  তাদের বিষয়ে ভাবুক।অন্তত মানুষের কাছে এইটুকু দাবি করতে পারে রোহিঙ্গারা।