মহারাষ্ট্রের কৃষকদের মতো বাংলায় একশো দিনের কাজের শ্রমিকদের নিয়ে আন্দোলনের হুমকি কামরুজ্জামানের

0
ফাইল চিত্র

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: নির্দিষ্ট সময়ে মজুরি ও সুপারভাইজারদের স্থায়ী চাকরির দাবিতে আগামী ২২ মার্চ বারাসত জেলা শাসকের অফিসে ডেপুটেশন জমা দেবে এম জি এনআরই জি এ সুপারভাইজার এসোসিয়েশন। ওই সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আলেমুল ইসলাম বলেন,”আমরা মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীন কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ কর্মসূচীর সুপারভাইজার। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট ২০০৫’ মোতাবেক পঞ্চায়েত স্তরে কাজ করে আসছি। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ৮ অক্টোবর  ২০১৩ একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করে সুপারভাইজারের শৌচালয়, নির্মল ভারত অভিযান, সবুজ বাঁচাও অভিযান সহ বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ২৮ অক্টোবর ২০১৫ রাজ্য সরকার আমাদের কাজের সময়সীমা ষাট বছর পর্যন্ত নির্ধারিত করেছেন।
আমরা এমন বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি রূপায়ন করলেও আমাদের কোনও বেতন ধার্য করা হয়নি। আমরা মনে করি কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীন কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ কর্মসূচি’ তহবিল থেকে আমাদের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এর ফলে কেন্দ্রীয় অর্থ ফেরত যাবে না এবং রাজ্যের অন্যান্য কর্মসূচিগুলি আরো ভালো ভাবে রূপায়ণ হবে। ১ এপ্রিল ২০১১ রাজস্থান সরকার এমনই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সুপারভাইজার দের মাসিক ভাতা চালু করেছেন।”
তিনি আরও বলেন,”বিভিন্ন রাজ্য পঞ্চায়েতস্তরে একশো দিনের কাজের দায়িত্বশীল সুপারভাইজারদের কর্মী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাহলে জনগণনা, ভোটার তালিকা তৈরি এবং শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি কাজের সঙ্গে সংযুক্ত করে আমাদের সাম্মানিক ধার্য করতে অনীহা কেন?
সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মাদ কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে আন্দোলনে নামছে কর্মীরা। কামরুজ্জামান টিডিএন বাংলাকে বলেন,” মহারাষ্ট্রের কৃষক আন্দোলনের মতো শ্রমিক আন্দোলন বাংলায় হবে। কেননা, বারবার সরকারকে জানানো সত্ত্বেও একশো দিনের কাজে নানা সমস্যার কোনও সমাধান হচ্ছে না।
এদিকে জব কার্ড হোল্ডাররাও সময়মত তাদের মজুরী পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। নিয়মিত কাজের শেষে মজুরি পরিশোধের নিয়ম থাকলেও অনেক সময় মজুরী পেতে এক বছর সময় লেগে যাচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি,দেশের অন্যান্য রাজ্যের ন্যায় পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বশীল সুপারভাইজারদের স্থায়ীকরণ করতে হবে। সেই সাথে নির্দিষ্ট মাসিক সাম্মানিক ধার্য করার দাবি তুলেছেন তাঁরা।
মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলছেন,”আমরা চাই,কাজ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে জব কার্ড হোল্ডারদের মজুরী পরিশোধ করা হোক। জনগণনা, ভোটার তালিকা তৈরি এবং শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি  কাজের সঙ্গে সংযুক্ত সুপারভাইজারদের যুক্ত করা হোক। সেই সাথে পি এফ এবং স্বাস্থ্যবীমা চালু কত হোক। গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্যান্য কাজের সঙ্গেও  সুপারভাইজারদের যুক্ত করা হোক।