দারিদ্রতাকে জয় করে এখন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ মুর্শিদাবাদের রাজিব আনসারি    

0

আসাদুল্লা আল গালিব, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : দারিদ্রতাকে জয় করে এখন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ মুর্শিদাবাদের প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে মোহাম্মাদ  রাজিব আনসারি  ।

জেলার এক পিছিয়ে পড়া গ্রাম হরিহরপাড়ার তরতিপুর। সেই তরতিপুর গ্রাম যে ভারতের বুকে এক বিশেষ শিরোনামে উঠে আসবে, তা কিন্তু কারো জানা ছিলনা। এখন জেলা, রাজ্য এবং জাতীয় স্তরে তরতিপুরের সন্তান মোহাম্মদ রাজিব হোসেন আনসারী কে নিয়ে আলোচনা। 

Advertisement
head_ads

এই বারে জেনে নেওয়া যাক যে কে এই রাজিব আনসারী ? সাইদুল ইসলাম আনসারী এবং সুরাইয়া বিবির বড় ছেলে রাজিব আনসারী। শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিক। টাকার অভাবে আর বেশি দূর যেতে পারেন নি। তবে ছোট বেলা থেকেই তার ইচ্ছে ছিল যে জীবনে কিছু করে দেখাবো। বছর ৩৬ এর যুবক রাজিবের নাম এখন সবার মুখে। ১৪ বছর বয়স থেকে লুকিয়ে ক্যারাটে প্যাকটিস করতেন। অর্থনৈতিক দুর্বলতা থাকার কারনে সেই বসত গ্রাম থেকে বহরমপুর এ সাইকেলে করে এসে টাউন ক্লাবে প্রশিক্ষণ নিতেন শিক্ষক অজয় রায় চৌধুরীর কাছে।  প্রশিক্ষণ নিতে নিতে নিজের মনের মধ্যে ইচ্ছে এবং জেদ দুটোই সৃস্টি হল, কিছু রেকর্ড করে দেখাব। আস্তে আস্তে প্রতিযোগী হিসাবে খেলা শুরু করলেন জাতীয় স্তর থেকে আন্তর্জাতিক স্তরে। তিনি ইন্টারন্যাশনাল শতকন সবুকন ক্যারাটে আসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে ক্যারাটে খেলার সবচেয়ে বড় ডিগ্রি ব্লাক বেল্ড পান।  তিনি কিছুদিন আগে বেঙ্গল চাম্পিয়ন ও হন। জীবনের প্রথম ইচ্ছা পূরণ করতে ভারতের হয়ে ওয়াল্ড কাপে খেলতে নামেন। ২০১৬ সালে মুম্বাই এর প্রিয়দর্শিনী স্পোর্টস কমপ্লেক্সে এই বিশ্বকাপ  অনুষ্ঠিত হয়। রাশিয়া, লন্ডন, আমেরিকা, কোরিয়া, জাপান, নেদারল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, কেনিয়া, সাউথ আফ্রিকা, আজার বাইজান সহ ৩০ টি দেশের কেরাটে খেলোয়াড় রা এই খেলায় অংশগ্রহণ করেছিল। সেসময় জীবনের প্রথম বিশ্বকাপে জয়ী হয়ে ব্রোঞ্জ পেয়েছিলেন তিনি।


২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু টাকার অভাবে রাজিব আনসারী ইংল্যান্ডে গিয়ে খেলে আসতে পারেন নি । সম্প্রতি  বিখ্যাত ক্যারাটে মাস্টার ১ মিনিটে ৫৫৪ টি পাঞ্চ করে সারা ভারতবর্ষ কে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এই কর্মের জন্য তার নাম স্থান পেয়েছে  ইন্ডিয়ান বুক অফ রেকর্ড এ । প্রথম দিকে ৫ সেকেন্ডে ৫৫ টি পাঞ্চ মারতে মারতে হঠাৎ ১ মিনিটে ৫৫৪ টি পাঞ্চ মেরে হৈ চৈ ফেলেদিয়েছে সারা পৃথিবীর ক্রীড়া মহলে। সেসময় তার এই অসামান্য অবদানে রাজ্য তথা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুভেচ্ছার জোয়ার নেমে আসে। এমনকি তার এই অবদানে খুশি হয়ে  মুর্শিদাবাদের এসপি শ্রী মুকেশ তাকে একটা মোবাইল ও উপহার দেন।

রাজিবের এখন একটায় ইচ্ছা  গিনেস বুক অফ রেকর্ড নাম তোলা। তার এই স্বপ্ন পুরণে সকলের সহযোগীতা কামনা করছেন রাজিব।

head_ads