দিনে রাজমিস্ত্রি, রাতে পড়াশুনা করে আজ  মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসছে মুর্শিদাবাদের জাহিদ আলসাবা 

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ  : বড়ই অভাবের সংসার। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। এক বেলা খাবার জোটে আরেক বেলা কস্ট করে থাকতে হয়।বাবা আসরাফুল ইসলাম ও মা এসনুর বিবি বিড়ি শ্রমিক। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে বড় জাহিদ আলসাবা। বিড়ি বেধে যা ইনকাম হয় তাতে তাদের নয় জনের এত বড় সংসার চালানো মোটেও সম্ভব নয়। তাই পারিবারিক অস্বচ্ছলতা ও দুমুঠো অন্নের তাগিদে রাজমিস্ত্রি কাজ করেই আজ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসছেন মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের জাহিদ আলসাবা।

আজ সোমবার থেকেই শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। পরীক্ষা কে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনার ধুম পড়লেও সামশেরগঞ্জের বিড়ি শ্রমিক রাজমিস্ত্রি এলাকার ছাত্রছাত্রীদদের চিত্রটা যে সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম। এখানে কেউ বা কস্ট করে বিড়ি বাধার কাজ করে, আবার কেউ রাজমিস্ত্রি খেটে বসছেন পরীক্ষায়।  এমনই এক ছাত্র জাহিদ আলসাবা। সোমবার পরীক্ষা অথচ শনিবারের দিনেও রাজমিস্ত্রি খেটে বিকেল চারিটেয় বাড়ি ফিরলো সে! তার পরেই খাওয়াদাওয়া সেরে সন্ধ্যার পরেই শুরু হলো মাধ্যমিকের প্রস্তুতি। এভাবেই নিত্যদিন কাজ করে পড়াশুনা করে সে।  একদিন পরেই মাধ্যমিক পরীক্ষার তার পরেও কেন রাজমিস্ত্রি কাজে যাচ্ছো? জিজ্ঞেস করতেই জাহিদ আলসাবা প্রতিবেদক কে জানায়, আমাদের বড় সংসার। আব্বা মা বিড়ি বাধে। আমাকে পড়তে হলে কাজ করেই পড়তে হবে কিছু করার নেই। কিছুদিন আগে বাড়িতে বিড়ি বাধলেও পারিবারিক অস্বচ্ছলতার জন্য মাস তিনেক থেকে রাজমিস্ত্রি খাটছি। দিনে কাজ করলেও রাতে পরীক্ষার জন্য পড়ে নিচ্ছি বলেও সে জানায়।

আলসাবার মা এসনুর বিবি জানান, গরিবের সংসার। বাধ্য হয়েই ছেলে মাধ্যমিকের আগের দিন অবধি রাজমিস্ত্রি কাজ করলো। কোনোদিন কোচিং এ পড়াতে না পারলেও রাতে সে ভালো করে পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করবে বলে আশাবাদী আলসাবার মা।

শুধু ঝুমা খাতুন বা জাহিদ আলসাবায় নয় মুর্শিদাবাদের পিছিয়ে পড়া এই ব্লকে হাসিনা খাতুন, সাহিনা খাতুন, নাজমুন নাহার, অসিকুল ইসলাম

সহ অনেক ছাত্রছাত্রীই বিড়ি বেধে এবং রাজমিস্ত্রি কাজ করেই বসছেন মাধ্যমিকে।

tdn_bangla_ads