মাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট আর দেখা হল না গলসির স্বপন খাঁনের

0

আজিজুর রহমান, টিডিএন বাংলা, গলসিঃ মাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট আর দেখা হল না স্বপন খাঁনের। এবারে মাধ্যমিকের সব পরীক্ষা দিয়েছিল সে। গলসির পুরসার ডিভিসি লকগেটে পার হতে গিয়ে নিচে পড়ে গতকাল রাতে নিখোঁজ হয় স্বপন খাঁন ওরফে মিলন (১৬)। তার বাড়ি গলসি ১ নং ব্লকের কোলকোল গ্রামে। অবশেষে তার দেহ পাওয়া গেল বুধবার বেলা নয়টায়।

সারারাত লক গেট বন্ধ রেখে জল কম করা পর তাকে দেখতে পায় এলাকার মানুষ। জল কম হওয়ার পর লক গেটের একশত মিটার দুরে বালিতে আটকে থাকতে দেখে উদ্ধারকারীরা। পুলিশ ঘটনার দিন রাতে লকগেটে আসেন ও খোঁজাখুজি শুরু করেন। পরের দিন সকালে তার দেহ পাওয়া গেলে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজে পাঠায়। সে উচ্চগ্রাম হাই স্কুলের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী।

মৃতের  বন্ধু সেখ রহিত জানান, গত কাল রাতে গলসি ১ নং ব্লকের পুরসা গ্রামে কয়েক জন বন্ধু মিলে জলসা শুনতে গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে রাত্রি সাড়ে নটা নাগাদ বাথরুম করতে যাবার সময় পুরসার লক গেট পার হয়। সরু ও ভাঁঙা ব্রীজ পেরিয়ে বাথরুম সেরে আসার পথে তার বন্ধু স্বপন খান আচমকা ডান দিকে হেলে গেলে জলে পড়ে যায়। রহিত বাবু আরও বলেন তারা স্বপনকে বাঁশ ধরিয়ে বাঁচানোর চেষ্ঠা করলেও জলের তোড়ের জন্য তাকে বাঁচাতে পারেনি। ব্রীজ ও লক গেট ভাঁঙা থাকার জন্যই ওই দুর্ঘটনা বলে জানান তিনি।

দীর্ঘ দশ বছর ওই ব্রীজ মেরামত হয়নি বলে দাবী এলাকার বাসিন্দাদের। ব্রীজ ভাঁঙা থাকার কারনে ওই বিপত্তি বলে জানান স্থানীয়রা। বীজের গাড ওয়াল দীর্ঘদিন ধরে ওই অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বাঁশের গাড ওয়াল বানিয়ে দিয়ে দায় সেরেছে। আর ওই রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত পুরসা গ্রামের চাষিরা দক্ষিন মাঠে চাষ করতে যান। তাছাড়া ওই ভগ্ন ব্রীজ পার হয়ে গ্রামের ছেলে মেয়েরা ফুটবল খেলার মাঠে যাতায়াত করেন।

এদিনের ওই মৃত্যুর জন্য এলাকার বাসীরা ডিভিসি কর্তৃপক্ষকেই দায়ি করেছেন। স্বপন পড়াশোনার সাথে সাথে টোটো চালিয়ে বাবাকে টাকা দিত। বাড়িতে সে, তার ভাই, মা ও বাবা একত্রে থাকতো। বাবা হাটের পেসেন্ট বলে জানা গেছে। দিন আনা দিন খাওয়া ওই পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল স্বপনের এভাবে চলে যাওয়ায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।