তৃণমূলের রামনবমী পালনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাল আরএসএস!

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: মমতা ব্যানার্জির রামনবমী পালনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ(আর এস এস)। রাজ্যের শহরাঞ্চলের ১৫৬টি বস্তি এলাকাসহ যেখানে যেখানে সঙ্ঘের তৎপরতা গড়ে উঠেছে, সেই জায়গাগুলিতে রামনবমী পালনে যে কোনও উদ্যোগে সহযোগিতা করবে সঙ্ঘ। শুধু তাই নয়, যেখানে নিজেদের উদ্যোগে করা যাচ্ছে না, সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের রামনবমী শোভাযাত্রায় যোগ দেবেন সঙ্ঘের কর্মীরা। খবর গণশক্তির।
ওই পত্রিকার খবরে আরও বলা হয়েছে,আগামী ২৫শে মার্চ রামনবমী পালনের উদ্যোগ নিয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি এবং তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে প্রথমবার কোনও রাজনৈতিক দল, বিশেষত যে দল সরকারে আছে, তারা রামনবমীর মতো সম্পূর্ণ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিয়েছে। এই সুযোগটি পুরোপুরি ব্যবহারের কৌশল নিয়েছে সঙ্ঘ। এই সুযোগে তৃণমূল কংগ্রেসে আরও প্রভাব বিস্তার করতে পারবে বলেই সঙ্ঘ মনে করছে। মমতা-শাসনকে ‘হিন্দুত্বের’ প্রসারের কাজে ব্যবহার করে নিচ্ছে সঙ্ঘ।

তৃণমূল কংগ্রেসের শাসন কালে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের তৎপরতা অনেকটা বেড়েছে, বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্য দিয়ে তা জানিয়েছে আর এস এস। ১৯২৫-এ জন্ম এই সংগঠনটির। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে গত পাঁচ বছরে তারা যে শক্তিসঞ্চয় করেছে, তার কোনও নজির নেই। সংগঠনের দক্ষিণবঙ্গের প্রান্ত কার্যবাহ জিষ্ণু বসু এদিন জানিয়েছেন, ‘‘রাজ্যে আমাদের তাৎপর্যপূর্ণ বৃদ্ধি প্রধানত ২০১৩-থেকে। ওই বছর রাজ্যে আমাদের শাখা ছিল ৭৮০-টি। ২০১৮-র ফেব্রুয়ারিতে তা পৌঁছেছে ১২৭৯-এ। তার মধ্যে দক্ষিণবঙ্গে রয়েছে ৯১০টি শাখা। এছাড়া সপ্তাহে একদিন সদস্যরা মিলিত হয়, এমন সাপ্তাহিক মিলন এখন রাজ্যে রয়েছে ১০৯২টি।’’ কার্যবাহর দাবি, ‘‘আমরা জয়েন আর এস এস-র ডাক দিয়েছিলাম। গড়ে প্রত্যেক মাসে ৭০০-৮০০টি আবেদন আমরা পাই সঙ্ঘের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার।’’

গত ৯থেকে ১১ই মার্চ নাগপুরে সঙ্ঘের অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা হয়েছে। প্রতিটি রাজ্য গত একবছরে নিজেদের রাজ্যে সংগঠনের বিস্তার নিয়ে আলোচনা করেছে। সভায় সারা দেশের ৬৯৮জন প্রতিনিধি ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের ছিলেন তিনজন প্রতিনিধি। তাঁদের উত্থাপিত রিপোর্ট অনুসারে ২০১৭-র রামনবমী থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় একবছরে রাজ্যে সাপ্তাহিক মিলনের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩০০টি। সঙ্ঘের মুখপত্র বিপ্লব রায় এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, ‘‘গত রামনবমীতে রাজ্যে যে বিপুল সাড়া পড়েছিল, সেই সাফল্যের কথা আলোচিত হয়েছে নাগপুরে।’’
তাই এবারও রামনবমী পালনের ক্ষেত্রে সঙ্ঘ উদ্যোগ নিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ধর্মীয় শোভাযাত্রাকেও তারা ব্যবহার করতে চাইছে। জিষ্ণু বসু বুধবার জানিয়েছেন, ‘‘রামনবমীতে গতবার শাসক দলের অনেক নেতা, নির্বাচিত প্রতিনিধি অংশ নিয়েছিলেন। এবার তাঁরা রামনবমীর আয়োজক। সরকারি এই উদ্যোগ আর এস এস-রই জয়। ফলে আমরা রাজ্যের শাসক দলের এই সদর্থক ভূমিকাকে স্বাগত জানাচ্ছি। যেখানে আমাদের অনুষ্ঠান হবে না, সেখানে আমাদের স্বয়ংসেবক, সমর্থকদের তৃণমূল কংগ্রেসের শোভাযাত্রায় অংশ নিতে কোনও বাধা নেই।’’
সঙ্ঘের দাবি, সর্বক্ষেত্রেই গত কয়েক বছরে রাজ্যে সঙ্ঘের কাজ বেড়েছে। মুখপত্রের কথায়,‘‘সামাজিক নানা কাজ করছি আমরা। যেমন, রাজ্যের ১৫৬টি বস্তি এলাকায় নানা ধরনের সামাজিক কাজ চলছে।’’ সেই এলাকাগুলিতে রামনবমী পালনে উদ্যোগ নিচ্ছে সঙ্ঘ।
রামনবমী পালনের মুখ্য আয়োজক বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। পরিষদের রাজ্য সভাপতি শচীন্দ্রনাথ সিংহ এদিন বলেছেন,‘‘আমরাও রাজ্যের শাসক দলের রামভক্ত হিসাবে আবির্ভূত হওয়াকে স্বাগত জানাচ্ছি। যদিও রাজ্যে কোনও রাজনৈতিক দলের এক ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন আমরা আগে দেখিনি। আমরা রাজ্যের গ্রামাঞ্চলে সেদিন পূজা করবো। হনুমান চালিশা পাঠ হবে। তারপর আরতি হবে। একে আমরা মহাআরতি বলছি। আর শহর এবং মফস্বলের প্রায় ৮০০টি জায়গায় আমরা শোভাযাত্রা করবো। থানাগুলিকে তা জানানো হচ্ছে। তবে কোথাও অস্ত্র বহন করতে আমরা এবার উৎসাহিত করছি না।’’