এসএসসির ম্যারাথন প্রতীক্ষার অবসান, নবম-দশমে আশায় বুক বাঁধছেন চাকরিপ্রার্থীরা

0
নিজস্ব প্রতিনিধি, টিডিএন বাংলা, কোলকাতা: অবশেষে সুদীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোমবার স্কুল সার্ভিস কমিশনের নবম দশমের ফল ঘোষণাকে ঘিরে আশায় বুক বাঁধছেন লাখো চাকরিপ্রার্থী। বিগত পাঁচটি বছর কোন পরীক্ষা হয়নি এসএসসির। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে অনেকের বয়স। তাদেরও এবার দিতে হবে চূড়ান্ত অগ্নিপরীক্ষা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকরিপ্রার্থী বলছিলেন, ‘এবছরই আমার এসএসসির বয়স শেষ হচ্ছে। ফল প্রকাশ নিয়ে আমার মত অনেকেই আতঙ্কিত। এসএসসি মানেই ত্রাস, বুকে জমে আছে চাপা কষ্ট। কেননা এবার নয় তো আর কখনো নয়। কিন্তু প্রতি বছর পরীক্ষাটি হলে পাঁচ বছরে অন্তত একবার নিজেকে এম্প্যানেলড করতে পারতাম। এসএসসি বসার বয়সের  ঊর্ধসীমা বৃদ্ধি নিয়ে কিছু ভাবুক সরকার।’
একাদশ দ্বাদশে নিজেদের এমপ্যানেলড দেখার আশায় থেকেও যারা ব্যর্থ হয়েছেন  তারাও এখন শুরু করেছেন প্রহর গুনতে। সকলের আশংকা আবার কবে হবে এসএসসি! আবার সেই পাঁচ বছর!
ওয়েল ফেয়ার পার্টির যুব সংগঠন ফ্রেটারনিটি মুভমেন্টের রাজ্য সভাপতি আরাফাত আলী টিডিএন বাংলাকে বলেন, “আজ ২২ দিন ধরে মালদায় অনশনরত শতাধিক চাকরিপ্রার্থী। অনেকেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। ছিআশি লক্ষ চাকরি কোথায় দিলেন মুখ্যমন্ত্রী? তাহলে এরা কারা যারা বছরের পর বছর চাকরির পরীক্ষার পরিবর্তে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে চলেছেন।” রাজনীতি দূরে সরিয়ে রাজ্যের মাদ্রাসা ও স্কুলগুলিতে অবিলম্বে সমস্ত শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিও জানান তিনি।
নদিয়ার চাকরিপ্রার্থী সামাজুল মন্ডল জানান, ‘বাংলার এসএসসির চাকরি প্রার্থীদের যেভাবে বছরের পর বছর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে তা অত্যন্ত বেদনার। স্কুল গুলিতে পড়াশুনা লাটে উঠেছে। শিক্ষিত বেকার ও তাদের বাবা মায়ের জীবনকে গ্রাস করেছে হতাশা। শুধু প্যানেল করে আবারো ঝুলিয়ে রাখা নয়, এবার নিয়োগ চাই। নইলে ভোট নয়।’
রেজাউল মন্ডল, তার প্রতিক্রিয়ায় জানালেন, ‘আমি নবম-দশমে পাশ করেছি। জানি না সোমবার চুড়ান্ত ফলাফলে আমার নাম টা থাকবে কি না।তবে চুড়ান্ত প্যানেলে আমি স্থান পাই বা না পাই, যোগ্য মেধাবীরা পাক। তবে এটুকু বলবো যদি বছর বছর এসএসসি হতো, আরো ৫টি বার নিজেকে যাচাই করার সুযোগ পেতাম। পাঁচটি বছর অকারণে আমাদের জীবন থেকে ঝরে গেল।’
ত্রিপুরা ফ্যাক্টর বইছে রাজ্যে। তাই, নিজেদের মঙ্গলার্থে সরকার এখন যত দ্রুত সম্ভব একাদশ দ্বাদশ, নবম-দশম সহ আপারে এদের নিয়োগ করে স্কুল গুলির বেহাল দশা ফেরাতে উদ্যোগী হোক এমনটাই চাইছেন শিক্ষিত মহল।