নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : ছোট্ট শিশু আসিফার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা সারা দেশ জুড়ে আলোড়ন তুলেছে। দিকে দিকে প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে – মানবাধিকার কর্মী, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পি থেকে শুরু করে সকলেই  নিন্দা জানিয়ে সুবিচারের দাবি জানিয়েছেন । বাদ যায়নি ভারতের প্রখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও। এদিন কলকাতার বুকে প্রেস্টিজিয়াস বাণিজ্যিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইএফটির ছাত্ৰরাও এই জঘন্য ঘটনার নিন্দায় প্রতিবাদে সরব হয়। কলকাতায় যাদবপুর, প্রেসিডেন্সির মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে এই ধরনের মানবিক, সামাজিক ইস্যুতে প্রতিবাদ হলেও আইআইএফটি-র মতো বাণিজ্যিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এধরনের প্রতিবাদ করতে দেখা যায় না। সেদিক থেকে দেখতে গেলে এই প্রতিবাদ খুবই তাৎপর্যপূর্ন এবং ঐতিহাসিক বললেও খুব একটা বাড়াবাড়ি হবে না। তাদের এই প্রতিবাদে ওয়াকিবহাল মহলে একটা প্রশ্ন বারে-বারেই ঘুরপাক খাচ্ছে, তাহলে কি আগামীর ব্যবসায়ীরা এবার জাগছে? তারাও কি তবে অবহেলিত মানুষের ব্যাথায় ব্যথিত হচ্ছে? ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে বড় বড় ব্যবসায়ীরায় দ্বারাই অনেকটা নিয়ন্ত্রিত। আর কর্পরেট বান্ধব সরকারের বিপক্ষে গিয়ে তারাও কোনো রকম উচ্চবাচ্য ও করেনা। তাই আগামীর ব্যাবসায়ী ছাত্রদের সুবিচারের দাবিতে প্রতিবাদে নামাটা কোনো ছোট্ট বিষয় নয় এমনই মনে করছে বুদ্ধিজিবী মহল ।

এদিনের  এই প্রতিবাদে সামিল ছিলেন ফ্রাটারনিটি মুভমেন্ট-এর রাজ্যের জেনারেল সেক্রেটারি আবু জাফর মোল্লা । তিনি বলেন, ‘ বিজেপির শাসনকালে ভারতবর্ষ ক্রমশ মধ্যযুগীয় অন্ধকারময় বর্বরতার দিকে পিছিয়ে যাচ্ছে। এখানে আজ ধর্ষকের সমর্থনে মিছিল করা হচ্ছে। ভারতের জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা হচ্ছে এধরনের ঘৃণ্য মিছিলে। ধর্ষকদেরকে বাঁচাতে ধর্মিয়করণের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিজেপির দুই মন্ত্রী চৌধুরীলাল সিং, চন্দ্রপ্রকাশ গঙ্গা যেভাবে প্রকাশ্যে ধর্ষকদের সমর্থন করলেন তার নিন্দা জানানোর কোনো ভাষা নেই ।’
সেইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “মোদি সরকার ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ইত্যাদি স্লোগান তুলে ভারতকে বিশ্বের দরবারে একটা প্রগতিশিল দেশ হিসাবে দেখানোর যে প্রয়াস করে তা আজ প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। বিশ্বের সামনে ভারত আজ ধর্ষকের দেশ হিসাবে উঠে আসছে যা অত্যন্ত লজ্জার। রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহা সচিব আন্তনিও গুতেরাসের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক আসিফার ধর্ষণ ও খুনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন যা দেশের জন্যে লজ্জা জনক। আমাদের আজ ভাবার সময় এসেছে। দেশ আজ নিরাপদ হাতে নেই।’
tdn_bangla_ads