টিডিএন বাংলা ডেস্ক: রশিদ খান একা নন। ১৪ বছর তো কবেই পার, বিশ-পঁচিশ, এমনকি তিরিশ বছরেরও বেশি জেলবন্দি রয়েছেন রাজ্য। জেল কোড বা ১৯৯২-র পশ্চিমবঙ্গ সংশোধনাগার সংশোধনী আইনে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরাও ১৪ বছর কারাবাসের পর মুক্তি পেতে পারেন। বিষয়টি বিবেচনার জন্য রয়েছে স্বরাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বাধীন সেনটেন্স রিভিউ বোর্ড। বছরে চার বার মিটিং হওয়ার কথা সেই বোর্ডের। কিন্তু সেই মিটিংই অনিয়মিত বলে অভিযোগ। আইনজীবী তাপস ভঞ্জের মামলায় গত ২ নভেম্বরে কলকাতা হাইকোর্টে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্ধ্যপাধ্যায়ের  ডিভিশন বেঞ্চ ১৪ বছরের বেশি জেলবন্দিদের মুক্তির বিষয়টি রাজ্যকে ৬ মাসের মধ্যে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছিল। কেটে গিয়েছে সাড়ে চার মাস। মুক্তি এখনও আকাশকুসুমই প্রায় ৫০০ বন্দির। জেল যেখানে সংশোধনাগার, দীর্ঘ করাবাসের পর কেন স্বাভাবিক জীবনে ফেরতের সুযোগ পাবেন না বন্দিরা, সেই প্রশ্নই তোলা হয়েছিল হাইকোর্টের মামলায়।
বুধবার সন্ধ্যায় কারামন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস অবশ্য বলেন,’এমন বেশ কয়েকজন বন্দিকে আপাতত লালগোলার মুক্ত সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ তবে এপিডিআর-এর বাপি দাশগুপ্তের আরটিআই-এর জবাবে কারা দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য হল, ২০১৬-র ফেব্রুয়ারির পর রিভিউ বোর্ড এক জনেরও মুক্তির সুপারিশ করেনি।

মুক্ত আকাশের নিচে আর কি দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগরের বিজন বরুয়া? বন্দি সেই ১৯৯১ থেকে। শুধু প্রেসিডেন্সিতেই ১৪ বছর পেরোনোর বন্দির সংখ্যা ৫৬। দু’দশকের বেশি ১১ জন। টালিগঞ্জের সুব্রত সরকার ২৬ বছর, বেলদার খোকন গিরি ২৫ বছর ধরে বন্দি। এ তথ্যও সেই ১ আগস্টের। সমাজকর্মী ও  ‘জাস্টিস ফর প্রিজনার্স’ সংগঠনের প্রদীপ সিংহ ঠাকুরের আরটিআই আবেদনের জবাবে কারা দপ্তর ওই তারিখ অবধি ১৪ বছর পেরোনো বন্দি যে তালিকা দিয়েছে তাতে নাম রয়েছে ৪৫৯ জনের। বেশ কয়েক জন মহিলাও রয়েছেন। আলিপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে এমন বন্দি ৮৮ জন।সৌজন্যে-এই সময়।