বিশিষ্টজনের উপস্থিতিতে উদ্বোধন হলো টিডিএন বাংলার অফিস

0

সেখ সাদ্দাম হোসেন, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : একঝাঁক সাংবাদিক ও রাজ্যের বিশিষ্ট জনদের উপস্থিতিতে উদ্বোধন হল টিডিএন বাংলার অফিস। আসলে বৃহস্পতিবার এয়ারপোর্ট গোপালপুর হাউস সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত টিডিএন বাংলার অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠান ছিল অনাড়ম্বরপূর্ণ। উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতি মুহাম্মাদ নুরুদ্দিন, সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ কামরুজ্জামান, জমিয়তে আহলে হাদিস পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আলমগীর সরদার, পীরজাদা মহেববুল্লাহ হুসাইনী, রিপাবলিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়ার রাজ্য সভাপতি মৃতঞ্জয় মল্লিক, ডিএনপির নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ মোল্লা, মার্শাল আর্টে আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক প্রাপ্ত এম.এ.আলী, বহুগ্রন্থ প্রনেতা তালিম পত্রিকার সম্পাদক আবু রিদা, বিধাননগর ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়, ওয়েলফেয়ার পার্টির রাজ্য নেতা জালালউদ্দিন আহমেদ ও মুজাফফর আলি, টিডিএন মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর সেখ ডাঃ বাসির আলি, আল-হাদী ফাউন্ডেশনের কর্নধার আহসানুল বারী সহ আরও অনেকে।

টিডিএন বাংলা বিগত বছরগুলোতে ‘সত্যের পক্ষে খবরের আওয়াজ’ তুলে অনলাইন মিডিয়ায় এক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে বলে অতিথিদের দাবি। টিডিএন বাংলার হাত ধরেই মিডিয়া জগতে যে এক বিপ্লব ঘটতে চলেছে তা উপস্থিত বিশিষ্ট জনদের বক্তব্যের মাঝেই ফুটে ওঠে।

পীরজাদা মহেব্বুল্লাহ বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘সোসাল মিডিয়ায় ভিন্নধর্মী এক বিপ্লব ঘটিয়েছে টিডিএন বাংলা। এবং আগামীতে তা আরও ব্যাপক আকার ধারন করবে।’ মৃতঞ্জয় মল্লিকের কথায়, ‘বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতিতে টিডিএন বাংলা উজ্জ্বল ভুমিকা পালন করছে’। টিডিএন মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর সেখ ডাঃ বাসির আলি টিডিএন-এর শুরুর কথা তুলে ধরে বলেন, ‘গুটিকতক সৃজনশীল মস্তিষ্কের ছেলেদের নিয়ে বিকল্প মিডিয়ার সন্ধান নিয়ে কাজে নেমে টিডিএন আজ পরিপূর্ণ এক পরিবার। গুটি গুটি পায়ে বড় হয়ে সে এখন অন্যান্য মিডিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে। টিডিএন বাংলার অনেক খবরই এখন অন্যান্য মিডিয়ার খবরে দেখা যায়। জেলা, রাজ্য-দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও টিডিএন এর পাঠক সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। আশাকরি টিডিএন তার ও সমগ্র মানব জাতির স্বপ্ন সফল করবে। দেশ ও সমাজ গঠনে টিডিএন এক অনবদ্য ভূমিকা পালন করবার।”

সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ কামরুজ্জামান বলেন, “বর্তমান সমাজের অবক্ষয়ের মূল কারন সংবাদ মাধ্যম গুলির নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশন। সেই দিক থেকে সমাজকে নতুন পথের দিশা দেখিয়েছে টিডিএন বাংলা।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে সর্বস্তরের গনমাধ্যমগুলি নিরপেক্ষতা হারিয়ে পক্ষপাতিত্ব অবলম্বন করছে। গনতান্ত্রিক দেশের গনতন্ত্রকে বলিষ্ঠ করার জন্য গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসাবে গনমাধ্যমের যে ভুমিকা পালন করার দরকার ছিল সেই ভূমিকার মূলে কুঠারাঘাত করছে বর্তমান মিডিয়াগুলি। তাই প্রয়োজন ছিল বিকল্প মিডিয়ার, যে কাজ টিডিএন করে চলেছে।”

বিভিন্ন জায়গায় বিনামূল্যে সাংবাদিক প্রশিক্ষণ শিবির করে বাংলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে সাংবাদিক তুলে আনার ক্ষেত্রে টিডিএন এর অসামান্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ওয়েলফেয়ার পার্টির রাজ্য নেতা জালালউদ্দিন আহমেদ বলেন, ”শুধুমাত্র সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে চলেছে টিডিএন বাংলা। আর সত্যের আওয়াজ তুলেই তারা নৈতিকতা ও মূল্যবোধ হারানো মিডিয়াগুলিকে আগামীতে পথ দেখাবে।”

পাশাপাশি কলকাতার আল ফালাহ ট্রাস্টের সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ মোল্লা বলেন, “পিছিয়ে পড়া মানুষের খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে আনার পথ টিডিএন বাংলায় প্রথম দেখিয়েছে।”

এপ্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতি মুহাম্মাদ নুরুদ্দীনের কথা উল্লেখ্য। তিনি বলেন, “সত্তর বছর পর ফের নতুন স্বপ্ন আর আশা জাগিয়েছে টিডিএন বাংলা। দীর্ঘদিন ধরে স্বপ্ন দেখা বিকল্প মিডিয়ার সন্ধান টিডিএন বাংলা দিয়েছে। আশাকরি সত্যের পক্ষে থেকে তারা সমাজের জন্য কাজ করে যাবে।” বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক আবু রিদা বর্তমান মিডিয়ার মিথ্যাচারের বিরোধিতা করে বলেন, “মিডিয়ার মিথ্যা প্রচারের বিরুদ্ধে লড়াই সত্য মিডিয়ার মাধ্যমেই করতে হবে, তার সূচনা বাংলায় ‘টিডিএন’ করেছে।”

 

আবার জমিয়তে আহলে হাদিসের রাজ্য সম্পাদক আলমগির সরদারের মন্তব্য, “বাংলার মানুষকে টিডিএন বাংলা সত্য খবর পৌছে দিতে পেরেছে।” মার্শাল আর্টে আন্তর্জাতিক স্তরে স্বর্ণপদক প্রাপ্ত আয়েশা নূরের প্রশিক্ষক এম এ আলি যখন বলেন, “টিডিএন বাংলার খবর আমেরিকা পর্যন্ত পৌঁছিয়েছে। টিডিএন এর খবরের ফলেই আয়েশা নুর কে নিয়ে আমেরিকায় প্রভাব পড়েছে, কিন্তু কালীঘাট পর্যন্ত আওয়াজ যাচ্ছে না।”

বিধাননগর করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায় টিডিএন বাংলার পাশে থাকার অঙ্গীকার করে বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে মাথানত করবেন না, নিরপেক্ষ খবর দিন। গ্রামবাংলার ছোট ছোট খবর তুলে আনুন।”

এদিন টিডিএন বাংলার তরুন সাংবাদিকদের নিয়ে শিক্ষন মূলক এক আলোচনার পাশাপাশি ডঃ আবু সাইদ আহমেদের লেখা “ধর্ম নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক ইসলাম” নামে এক তথ্য সমৃদ্ধ বই উদ্বোধন করা হয়। সব শেষে মহান স্রষ্টার কাছে টিডিএন বাংলা সহ সকল সত্য মিডিয়া ও সৎ সাংবাদিকদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও মঙ্গল কামনা করে দুয়া চাওয়া হয়।