রমজান মাসে লাগাতার বিদ্যুৎ সমস্যা, তীব্র গরমে বন্ধ ঘুম : মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিচ্ছে সামশেরগঞ্জবাসী

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : গরম পড়তেই এলাকায় শুরু লোডশেডিং। তীব্র ভ্যাপসা গরমে কোনোরকমে রাতের ঘুম হলেও রমজান মাস পড়তেই মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান বিদ্যুৎ বন্টন দপ্তরের চিরাচরিত প্রথা, ঐতিহ্যমতো শুরু হয়েছে লোডশেডিং। দুদিন থেকে সারারাত বিদ্যুৎ নেই। দিনের বেলা থাকলেও এই মুহুর্তে দিনে কমপক্ষে ১৫-২০ বার পালাচ্ছে কারেন্ট! অথচ সামশেরগঞ্জের ২০ কিমির মধ্যেই রয়েছে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র( এনটিপিসি )। যা নিয়ে ক্ষিপ্ত সামশেরগঞ্জ এলাকার সাধারন মানুষ। এমনিতেই রমজান মাস, আবার অন্যদিকে এই মুহুর্তে তীব্র ভ্যাপসা গরম। রমজান মাসেও বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকরা সুপরিকল্পিত ভাবে বিদ্যুৎ সমস্যাকে জিইয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ করছে সামশেরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দারা। তাই আজ সোমবার সামশেরগঞ্জের এই বিদ্যুৎ পরিষেবা বেহালের করার চক্রান্ত এর প্রতিবাদে ও বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়ে ব্লকের বিদ্যুৎ আধিকারিক এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের বিরুদ্ধে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিদ্যুৎ মন্ত্রীকে চিঠি পাঠাচ্ছে সামশেরগঞ্জ ব্লকের সাধারণ মানুষ। অবিলম্বে সমস্যা সমাধান না হলে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও য়েরও হুমকি দিয়েছে তারা।

উল্লেখ্য, লোডশেডিং আর লো ভোল্টেজে রাজ্যে কার্যত রেকর্ড রয়েছে ধুলিয়ান বিদ্যুৎ বন্টন দপ্তরের। বহু অভিযোগ, আন্দোলন সত্বেও পরিষেবা দিতে ব্যর্থ বিদ্যুৎ বণ্টন দপ্তর। গরম পড়ার সময় হোক কিংবা অতি গরম, টানা দু ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়া একপ্রকার ভাগ্যেরই ব্যাপার। ক্লান্তির সময়ে মানুষ ফ্যানের তলায় একটু আরাম করতে চাই কিন্তু বেশিরভাগ দিনই দুপুর অথবা সন্ধ্যায় থাকে না কারেন্ট। রাতে তো পাখা ঘুরবে এ কল্পনায় করা যায় না। সেই একই পথ ধরে এবছরও ঘনঘন লোডশেডিং শুরু হয়েছে এই ব্লকে। গরমকালে তো বটেই শীতকালেও লোডশেডিং এর কবলে পড়তে হয় এই এলাকার সাধারণ মানুষকে।শুক্রবারের দিন নামাজ, তারাবীর নামাজের সময়ও পালিয়ে যাচ্ছে কারেন্ট। যার ফলে চরম সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে ছাত্রছাত্রী,স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে।

আবার গত পাচ ছয়দিন থেকে আগে থেকে মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র গরম প্রবাহিত হচ্ছে। যেমন রোদ, তেমনি ঝাপসা ঝলকানো গরম হাওয়ায় হাসফাস করছে মানুষ। এই কঠিন অবস্থায় লোডশেডিং এ বিধ্যস্ত ধুলিয়ান বাসি । রাতে পাখা ঘুরছে না। ভোল্টেজ নেই বললেই চলে।
ধুলিয়ান থেকে ২০ কিলোমিটার দুরত্বে এনটিপিসি থাকায় সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক কারনেই কারেন্ট একটু বেশি আশা করে বিদ্যুৎ দপ্তরের কাছ থেকে।কিন্তু প্রদীপের তলা যেন আলো পায় না! সেই হালই হচ্ছে সামশেরগঞ্জে। কারেন্ট সমস্যা নিয়ে ক্ষুব্ধ ঘোষপাড়ার এক বাসিন্দা অসিকুল ইসলামের কথায়, “এখনই যদি এই হাল হয় তাহলে কদিন পর তো কারেন্টের দেখাই মিলবে না। মানুষ এই হাসফাস করা গরমে একটু স্বস্থিতে থাকতে চাইলেও লো ভোল্টেজ আর লোডশেডিং এর জ্বালায় ঘুমাতে পারছেন না। “বাসুদেবপুর এলাকার আরেক বাসিন্দা ফারুক সেখের বক্তব্য, বাড়ির কাছে এনটিপিসি, অথচ দিনে ২০ বার কারেন্ট পালাচ্ছে। রাতে ফ্যানের পাখা ঘুরছে না। সারারাত বিদ্যুৎ নেই! রমজান মাসে কাজ করতে ভীষন সমস্যা হচ্ছে। “এদিকে সামশেরগঞ্জের আলমশাহি, জয়কৃষ্নপুর, কাকুড়িয়া, বাসুদেবপুর,চাচন্ড, নিমতিতা, প্রভৃতি এলাকায় কারেন্টের সবচেয়ে বেশি সমস্যা পরিলক্ষিত হচ্ছে। স্থানীয় গ্রামবাসিদের বক্তব্য, বিগত বছরের মতো এবছরও শুরুতেই যেভাবে কারেন্ট সমস্যা হচ্ছে তার শীঘ্রই সমাধান না হলে আগামিতে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার বিকল্প নাই। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃত ভাবে কারেন্টের এই সমস্যাকে জিইয়ে রাখছে।