১০ হাজার মাদ্রাসা অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি পালন হয়নি, নবান্ন অভিযানের ডাক আন-এডেড মাদ্রাসা শিক্ষকদের

0
নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কোলকাতা : অনুমোদনহীন আন-এডেড মাদ্রাসা অনুমোদনের দাবীতে আগামী ২৮শে ফেব্রুয়ারি নবান্ন অভিযানের ডাক দিল শিক্ষক সংগঠন ওয়েষ্টবেঙ্গল আন-এডেড মাদ্রাসা টিচার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন। ঐদিন তারা মাদ্রাসা পর্ষদের সামনে থেকে নবান্ন পর্যন্ত মিছিল করে  সরাসরি মুখ্যমুন্ত্রীর নিকট তিন দফা দাবী সম্বলিত গন-ডেপুটেশনের কর্মসূচী নিয়েছে।
কর্মসূচীর সমর্থনে জেলায় জেলায় জরুরী আলোচনা সভা করছে সংগঠনটির জেলা কমিটিগুলি। উল্লেখ্য ২০১১ সালে মুখ্যমুন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ক্ষমতায় আসার পরই রাজ্যের ১০ হাজার বেসরকারী মাদ্রাসাকে সরকারী অনুমোদন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই মোতাবেক কয়েক হাজার মাদ্রাসার পরিচালন কমিটিগুলি অনুমোদনের জন্য যথাযথ পরিকাঠামো গড়ে তুলে মাদ্রাসা পর্ষদে আবেদন করে।
এদিকে রাজ্যের প্রতিটি জেলার জেলা পরিদর্শকের নেতৃত্বে ডিএলআই টিম তৈরি হয়ে প্রতিটি মাদ্রাসা পরিদর্শন করে তার পরিকাঠামো ও অনুমোদন পাওয়ার যোগ্য কিনা খতিয়ে দেখে। পরিদর্শনকৃত শতশত মাদ্রাসা অনুমোদনের জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে রিকমেন্ড করে জেলাগুলির ডিএলআই টিম। কিন্তু বিভাগীয় দফতরের কর্মীদের সদর্থক ভূমিকা না থাকায় মাত্র ২৩৪ টি মাদ্রাসা পেয়েছে বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে মাদ্রাসাগুলি পূর্নরায় পরিদর্শন হয়ে প্রায় ৬০০ টির ও বেশি ফাইল নবান্নে দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনের অপেক্ষায় আটকে রয়েছে।
মুখ্যমুন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এবিষয়ে বিভিন্ন সভায় ইতিবাচক বার্তা দিলেও কোনো এক অজানা কারনে বহুদিন ধরে আটকে রয়েছে শতশত অনুমোদনহীন আন-এডেড মাদ্রাসার অনুমোদন। ইতিমধ্যেই এই মাদ্রাসাগুলির অনুমোদনের দাবী আদায়ে উদ্যোগী ভূমিকা নিয়েছেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল র্ল বোর্ডের সদস্য ও ফুরফুরা শরীফ মোজাদ্দেদীয়া অনাথ ফাউন্ডেশনের কর্নধর পীরজ্বাদা ত্বহা সিদ্দিকি এবং সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক মাওঃ কামরুজ্জামান।
সংগঠনের রাজ্য সভাপতি হেদায়েতুল্লাহ খান টিডিএন বাংলাকে জানান, ‘ বিভাগীয় দফতরে বারংবার স্মারকলিপি ডেপুটেশন দিয়েও কোন সাড়া না পাওয়ায় আমরা সরাসরি দফতরের মন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নিকট মাদ্রাসাগুলির দূরাবস্থার বার্তা নিয়ে আমাদের ন্যায্য দাবীসমূহ পেশ করতে চলেছি।
সমগ্র মাদ্রাসা শিক্ষকরা চায় নির্বাচনের পূর্বে সরকার এবিষয়ে অবিলম্বে ইতিবাচক বার্তা দিক’। মুখ্যমুন্ত্রীর ঘোষনামত ঐ সংগঠনের দাবি-
১) পরিদর্শনকৃত সমস্ত আন-এডেড মাদ্রাসাগুলিকে অবিলম্বে অনুমোদন দিতে হবে।
২) আবেদনকৃত সমস্ত আন-এডেড মাদ্রাসাগুলিকে অবিলম্বে পরিদর্শন করতে হবে।
৩) আন-এডেড মাদ্রাসা অনুমোদনের সমস্ত শর্তাবলী মাদ্রাসা পরিচালন কমিটির সামর্থ্য অনুযায়ী সামঞ্জস্যপূর্ণ সরলীকরন করতে হবে।
এই তিন দফা দাবীতে সংগঠনটি দীর্ঘদিন লড়াই করলেও রাজ্য সরকার এখনোও পর্যন্ত ইতিবাচক বার্তা না দেওয়ায় সংখ্যালঘু মহলে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে কি সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্কের দিকে তাকিয়ে ১০ হাজার মাদ্রাসা অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার? মাদ্রাসাগুলির অনুমোদন কি সরকার চায় না? প্রশ্ন উঠছে বুদ্ধিজীবী মহলে।
head_ads