চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে  উত্তেজনা ডোমকল হাসপাতালে 

0

কিবরিয়া আনসারী, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ: লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে সুপার স্পেশালিষ্ট হাসপাতাল করলেও সুচিকিৎসা পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক কড়া বার্তাতেও হুস ফিরেনি হাসপাতাল গুলির। এদিন ডোমকল সুপার স্পেশালিষ্ট হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের বিরুদ্ধে চিকিৎসা গাফিলতির অভিযোগ করলেন রোগীর আত্মীয়রা। প্রসব যন্ত্রনায় ছটফট করা জলঙ্গীর বাসিন্দা ময়না বিবি কে হাসপাতালে ভর্তি করে গত তিন আগে। বাচ্চা হতে এখনও বারো দিন সময় আছে বলে ডাক্তার ছুটি দিয়ে দেয়। তারপরি ওই মহিলা কে বাড়ি নিয়ে যেতেই হাসপাতালের গেটের কাছেই জনসম্মুখে প্রসুতি মহিলা যন্ত্রনায় পড়ে যায়। পড়ে গিয়ে সেখানেই মহিলা বাচ্চা প্রসব করেন। এই ঘটনায় ডোমকল সুপার স্পেশালিষ্ট হাসপাতালের ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

মহিলার বোন বেনুয়ারা বিবি বলেন, ‘ডাক্তার বাড়ি নিয়ে চলে যেতে বলল বোন কে। বাড়ি নিয়ে যেতে যেতেই হাসপাতালের গেটের সামনে হঠাৎ প্রসব যন্ত্রনায় কাতর হয়ে পড়েন এবং যন্ত্রনায় জ্ঞান হারাই বোন। আমরা আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে ডাক্তার ডাকতে গেলে কারো দেখা মেলেনি। বরং নার্সরা অকথ্য ভাষায় কথা বলে তাড়িয়ে দিয়েছে। সেই মুহূর্তে করণীয় কিছুই ছিল না। বোনের যন্ত্রনার কাতর কান্না সহ্য করতে না পেরে আরও মহিলাদের ডেকে এখানেই কাঁপড় টাঙ্গিয়ে বাচ্চা প্রসব করাই। প্রসব হওয়ার আধ ঘন্টা পর নার্সরা এসে বোন কে তুলে নিয়ে যায়।’

গর্ভবতী মহিলার স্বামী সাইফুল ইসলাম মন্ডল বলেন, ‘তিন দিন থেকে ভর্তি স্ত্রী। আজ ডাক্তার বলল রোগী কে বাড়ি নিয়ে যেতে। বাচ্চা হতে বারো দিন সময় আছে। বারো দিন পর আবার হাসপাতালে নিয়ে আসতে বলেন ডাক্তার। ডাক্তারের কথা মতো বাড়ি নিয়ে যেতে যেতেই গেটের কাছে এসে আবার যন্ত্রনায় ছটফট করতে লাগল স্ত্রী। দৌড়ে গিয়ে ডাক্তার, নার্সদের ডাকলে কেও আসেনি। তারপর এখানকার মেয়েরাই আমার স্ত্রী কে প্রসব করাই।’

ডোমকল হাসপাতাল সুপার প্রবীর মান্ডি এই ঘটনার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি। এই ঘটনা তিনি এড়িয়ে গিয়েছেন। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারীক নিরুপম বিশ্বাস জানিয়েছে, ‘দু:খজনক ঘটনা। ঠিক কি কারনে ঘটনাটি ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখা হবে।’