সিএসসির আধার কেন্দ্র বন্ধ, নাকাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, টিডিএন বাংলা: কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ সংস্থা ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইণ্ডিয়ার (ইউআইডিআই) খামখেয়ালি নীতির কারণে একদিকে চরম নাকাল হতে হচ্ছে জনসাধারণকে, অন্যদিকে বেকারত্বের মুখে পড়েছেন কয়েক হাজার আধার কর্মী। বাড়ির কাছাকাছি সিএসসি সেন্টারগুলি থেকে আধার এর কাজের সুবিধা পাওয়ার কারণে জনগণের ব্যাপক সুরাহা হয়েছিল। কিন্তু এখন আধার সংশোধন করতে গিয়ে সেখান থেকে হতাশ হয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে জনসাধারণকে।

ফলে বঞ্চিত হতে হচ্ছে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার সুবিধা থেকে। সম্প্রতি এরকম বেশ কিছু ঘটনা নজরে এসেছে। আধার না থাকায় ওড়িষার এক অভুক্ত শিশুকে খাবার দেয়নি রেশন ডিলার। ফলে অনাহারে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে ওই শিশু। যে খবর নাড়িয়ে দিয়েছে আপামর ভারতবাসীর বিবেক। সম্প্রতি এক আসন্ন প্রসবা মহিলাকে আধার না থাকায় ভর্তি নেয়নি হাসপাতাল। বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বাইরে খোলা আকাশের নিচে প্রসব করতে বাধ্য হন ওই মহিলা।

ইউআইডিআই এর সঙ্গে সিএসসি-এসপিভি সহ বেশ কিছু রেজিস্টারের চুক্তি শেষ হয়েছে সম্প্রতি। কিন্তু দুর্নীতির অজুহাত তুলে সিএসসি-এসপিভির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করবে না বলে বেঁকে বসেছে ইউআইডি। কোনও আগাম নোটিস ছাড়াই একে একে অধিকাংশ আধার অপারেটরের মেসিন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে একদিকে কর্মহীন হয়ে পড়ার চিন্তা অন্যদিকে জনগনের প্রশ্নের মুখে জেরবার হচ্ছেন অপারেটররা। ইতিপূর্বে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বেসরকারী কেন্দ্রগুলি থেকে আধার সেন্টার সরকারি চত্বরে নিয়ে যেতে হবে।

অধিকাংশ সেন্টার সরকারি পরিসরে স্থানান্তরিত হওয়া সত্বেও রাতারাতি কোনও পূর্বাভাস ছাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হয় আধার পরিষেবা।

রবিবার বর্ধমান শহরে এর বিরুদ্ধে এক জমায়েত করে অল বেঙ্গল ভিলেজ লেভেল এন্টারপ্রেনিউর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশেন (এবিভিএলইডবলুএ)। জমায়েত শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক অমিতাভ জানা জানান, সেন্টারগুলি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে জনগণ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এর বিরুদ্ধে তাঁরা প্রয়োজনে দিল্লী পর্যন্ত যাবেন। আধার অপারেটররা আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কিনা এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, একথা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইউআইডি নিজেদের দোষ ঢাকতে আমাদের ঘারে দোষ চাপাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংগঠন সেই অপারেটরের পাশে থাকবে না। উল্টে তিনি অভিযোগ করেন, আমাদের কাছে মেসিন বিক্রি করা হয়েছে কিন্তু কোনও ইনভয়েস দেওয়া হয়নি। আধারের সঠিক হিসাব দেয়া হয়নি। শুধু খরচ করানো হচ্ছে, কোনও আয়ের রাস্তা নেই। আধার বিনামূল্যে প্রচার করা হলেও আধার অপারেটর ও সুপারভাইজারদের প্রাপ্য কমিশন দিতে বরাবরই অনীহা দেখিয়ে আসছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি।


তবে একথা ঠিক। দেশজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সিএসসির আধার কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে দেশের বহুলাংশের মানুষের আধার কার্ড তৈরী করা বা আধারের ভুল তথ্য সংশোধন করা সম্ভব হয়েছিল। এখন অনুমতিপ্রাপ্ত দূরবর্তী ব্যাঙ্কগুলিতে গিয়ে আধার করতে গিয়ে জনগণকে আরো বেশি হয়রানির শিকার হতে হবে একথা হলফ করে বলা যায়। ইতিমধ্যেই সেখানে আরো বেশি অঙ্কের টাকা নিয়ে আধারের কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ আসতে শুরু হয়েছে।অনেক জায়গায় বেসরকারি ক্ষেত্রেও আধারের কাজ করা হচ্ছে। সেগুলি সম্পর্কে সরকার জেনেও না জানার ভান করে বসে আছে বলে অভিযোগ।

tdn_bangla_ads