সরকারি সম্পত্তি বেআইনি ভাবে হস্তান্তর করে বিক্রির অভিযোগ গিমাগেড়্যা মাদ্রাসার পরিচালন সমিতির বিরুদ্ধে

0

নিজস্ব প্রতিনিধি, টিডিএন বাংলা, পূর্বমেদিনীপুর: গিমাগেড়্যা মাদ্রাসার পরিচালন সমিতি ও সভাপতির বিরুদ্ধে উঠা সরকারি সম্পত্তি বিক্রি ও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে মাদ্রাসা বোর্ডের সভাপতি ও মূখ্যমন্ত্রীকে আগামী ৭ই মার্চ ডেপুটেশনের ডাক দিল বেঙ্গল মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরাম ।  এ প্রসঙ্গে সংগঠনের সভাপতি ইসরারুল হক মন্ডল বলেন, “এই মাদ্রাসাটা হল দূনীর্তি  তৈরির আতুঁড় ঘর, এদের তৈরি বিষ বাষ্প  গোটা রাজ্যের মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ছে। জনমানসের ক্ষোভকে আঁচ করা উচিত দায়িত্বশীল ব্যক্তিগনের।পাড়াপাশি মাদ্রাসা বোর্ড ঐ মাদ্রাসার জালিয়াতিকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি  আইন কার্যকারী দাবি জানায় ফোরাম।

সরকারি মাদ্রাসার সম্পত্তি প্রথমে বেআইনি ভাবে হস্তান্তর করে তারপর মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করে ফায়দা তোলা। আবার বিক্রি হয়ে যাওয়া জায়গায় হস্টেল নির্মানের নামে ২ কোটি টাকা অনুদানের জন্য সরকারের কাছে আবেদন। সেই অনুদান পাইয়ে দিতে আমলাদের একাংশের মদত। বিস্ফোরক এইসব অভিযোগ উঠেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার গিম্যাগেড়া ওয়েলফেয়ার হাই মাদ্রাসার পরিচালন কমিটির বিরুদ্ধে।

গোটা ঘটনার মূল নায়ক গিম্যাগেড়া ওয়েলফেয়ার হাইমাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক আহমেদ হোসেন শাহ। যিনি ওই মাদ্রাসার পরিচালন সমিতির  সভাপতি পদেও রয়েছেন। আবার গিম্যাগেড়া ওয়েলফেয়ার প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বিএড কলেজেরও প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। তার আর একটি পরিচয়ও রয়েছে। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধে মামলার অন্যতম কান্ডারি তিনি। এলাকায় যথেষ্ট প্রভাবশালী বলে পরিচিত। স্বাভাবিক ভাবে নিজের প্রভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও, ব্যবসায়িক কারনে মাদ্রাসার তুলনায় বিএড কলেজে বেশি সময় দেন বলে অভিযোগ।


দীর্ঘদিন ধরে এই মাদ্রাসার পরিচালন কমিটির নির্বাচন হয় নি। বিগত কয়েকবছর অ্যাড-হক কমিটি পরিচালন করেছে মাদ্রাসাটি। তবে, নিয়মানুযায়ী সরকার পক্ষে স্থানীয় এডিআই কমিটির সদস্য হলেও ,তাঁকে অন্ধকারে রেখে নিজেদের প্রভাব খাটাচ্ছেন আহমেদ হোসেন শাহ। আরও অভিযোগ, চার সদস্যের অ্যাড-হক কমিটি রয়েছে তার মধ্যে তিনজন হলেন আহমেদ হোসেনের আত্মীয়। স্বাভাবিক ভাবেই যে কোনও বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আহমেদ হোসেনের কোনও অসুবিধা হয়না। এই পরিস্থিতিতে গত বছর ৪ই ফেব্রুয়ারি আহমেদ হোসেনের সভাপতিত্বে পরিচালন সমিতির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।  সেই বৈঠকে আবার সরকার পক্ষের একমাত্র প্রতিনিধি এডিআই অনুপস্থিত ছিলেন। সেদিনের বৈঠকে মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়নের জন্য স্থানীয়দের দান করা গিমাগেড়্যা মৌজার ২৫০ নম্বর দাগের প্রায় ২৩ ডেসিমেল জায়গা আহমেদ হোসেনের ব্যক্তি মালিকিনা জায়গার সঙ্গে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু মাদ্রাসা বোর্ডকে অন্ধকারে রেখে কোনও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জায়গা নিজের ব্যক্তিগত মালিকানা জায়গার সঙ্গে হস্তান্তর কি করা যায় ?

প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। কীভাবে বেআইনি কাজ সম্পন্ন করলেন নাটকের মূল নায়ক আহমেদ হোসেন। আইনের চোখে ধূলো দিতে একটু কায়দা করলেন তিনি। সরাসরি জায়গা হস্তান্তরে না গিয়ে নিজের মালিকানায় থাকা কৃষ্ণচক মৌজার ২৮৭ নম্বর দাগের ১০ ডেসিমেল জায়গা গিমাগেড়্যার বাসিন্দা হেদায়াত আলি খানকে ৫/১২/১৭ তারিখে বিক্রি করেন তিনি। পরে সেই জায়গার বদলে মাদ্রাসার ২৩ ডেসিমেল থেকে ১০ ডেসিমেল জায়গা হেদায়েত খানকে দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে কৃষ্ণচক মৌজার ওই ১০ ডেসিমেল জায়গা ফেরত পায় আহমেদ হোসেন। একই পদ্ধতিতে দ্বিতীয় ধাপে মাদ্রাসার মাদ্রাসার বাকি জায়গা হস্তান্তর করে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ। বর্তমানে মাদ্রাসার সেই জায়গা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা শুরু করেছেন হেদায়েত আলি খান । মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য যে জায়গা স্থানীয়রা দান করে গিয়েছেন,  সেই জায়গা এখন বিক্রি করে ফায়দা তুলছেন ওই মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক তথা পরিচালন সমিতির সভাপতি আহমেদ হোসেন শাহ । এই অবস্থার পুরো ঘটনা জানিয়ে মাদ্রাসা পর্ষদে অভিযোগ জানিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীরা। যদিও, সেই অভিযোগপত্র এখনও পাননি বলে জানিয়েছেন পর্ষদ সভাপতি আবু তাহের কামরুদ্দিন। তিনি বলেন,  ‘অভিযোগপত্র আমার কাছে আসলে  দ্রুত পদক্ষেপ নেব। কোনও অন্যায় আর বরদাস্ত করা হবে না।’

ঘটনার এখানেই শেষ নয়। বেআইনি ভাবে হস্তান্তরের পর বিক্রি হয়ে যাওয়া জায়গার উপর হস্টেল নির্মান করার জন্য ২ কোটি টাকা অনুদান চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছে পরিচালন সমিতি। সেই টাকা পাইয়ে দিতে আমলাদের একাংশ মদত দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ।

সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করতে ও এই বেআইনী  কার্যকলাপে যুক্ত ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে আগামী ৭ ই মার্চ মাদ্রাসা বোর্ডের সভাপতি কে ডেপুটেশনের ডাক দিল ‘বেঙ্গল মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরাম ‘। সংগঠনের সভাপতি ইসরারুল হক মন্ডল রাজ্যের সমস্ত মানুষকে উক্ত ডেপুটেশনে সামিল হয়ে সরকারি মাদ্রাসার সম্পত্তিকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন।