করিমপুর-তেহট্টে রেলপথের দাবি জোরালো হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়

0

রেবাউল মন্ডল, টিডিএন বাংলা, করিমপুর: স্বাধীনতার ৭০টি বছর কেটে গেছে। নদিয়ার সীমান্তবর্তী তেহট্ট-করিমপুর বাসীদের রেলগাড়ি চড়ার স্বপ্ন বহু পুরোনো। এবার সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বাসীরা গণ আন্দোলন গড়ে তুলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ‘করিমপুর ওয়ান্টস রেলওয়ে’ নামের ঐ গ্রূপটি ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এমাসেই যাত্রা শুরু করে গ্রুপটির সদস্য সংখ্যা ইতিমধ্যেই ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। অনলাইন পিটিশনে সই সংগ্রহের কাজও চলছে জোর কদমে।

রেলের দাবিকে বাস্তবায়িত করতে সম্প্রতি তারা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও জনকল্যাণকর একটি ফোরাম গঠন করেছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা তথা জমসেরপুর বিএন হাই স্কুলের শিক্ষক দূর্বাদল দত্ত। ঐ ফেসবুক গ্রূপে তিনি লিখেছেন, চাপড়া থেকে তেহট্ট করিমপুর সমস্ত এলাকাতে জনমত গঠন করে রেলের দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের সমস্ত  সেক্টরে আমাদের দাবিকে তুলে ধরা হবে। সেই লক্ষ্যে এলাকা ভিত্তিক কমিটি গঠন করে জমায়েতের ব্যবস্থা করে আন্দোলনকে ক্রমশ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। গ্রূপের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীযুষ গয়ালকে পিটিশন দেওয়া শুরু করেছেন গ্রূপের সদস্যরা।

বিশিষ্ট সাংবাদিক মোকতার হোসেন মন্ডল এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, অর্ধেক জনতাকে অন্ধকারে রেখে জেলার উন্নয়ন কিভাবে সম্ভব? কৃষ্ণনগর টু করিমপুর আজ শুধু বঞ্চিত নয়, শোষিতও। একুশ শতকেও একটা বিস্তীর্ন এলাকায় রেল পথ হয়না-ভাবলেই মাঝে মাঝে এই রাষ্ট্রীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যারিকেড গড়তে ইচ্ছে করে। কিন্তু করিমপুর বরাবরই কলকাতার মতো নাগরিক আন্দোলনে পিছিয়ে বলে তাদের দুঃখের কথা কেউ জানতে পারেনা। আজ প্রয়োজন দুর্বার গনআন্দোলন। আজ করিমপুরের পাশে গোটা ভারতের নাগরিক আন্দোলনের কর্মীদের চাই।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী ও অধীর চৌধুরী রেলপ্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন সময়েও আশায় বুক বেঁধেছিলেন সীমান্তের মানুষরা। ২০০৭ সালে কৃষ্ণনগর-করিমপুরে রেল সংযোগের জন্য চাপড়ার চারাতলায় একটি প্রোজেক্টও হাতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই তিমিরেই।

আব্দুল গাফফার গ্রূপের সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করতে লিখেছেন, রেললাইনের জন্য লড়তে হবে লড়াই, নামতে হবে রাস্তায়, গড়তে হবে কমিটি, যেতে হবে দিল্লি।আবেগকে গতিবেগে পরিণত করো; রেলের স্বপ্ন বারুদের শক্তি ধরো- এভাবেই নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তুহিন চক্রবর্তী।

করিমপুর থেকে কোলকাতা যেতে প্রায় ২০০ কিমি বাসের পথ পাড়ি দিতে হয় এখানকার চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ী থেকে কৃষিজীবী তথা সাধারণ মানুষকে। সংখ্যাটি প্রায় ১৮ লক্ষ। কোলকাতা যেতে নিকটতম রেল স্টেশন ৯০ কিমি দূরবর্তী কৃষ্ণনগরের উদ্দেশ্যে মাঝরাতে বিপদ সংকুল পথ পাড়ি দিতে হয়। উচ্চ মাধ্যমিকের পর উচ্চ শিক্ষার জন্য দূরবর্তী কোলকাতা কল্যানীতে ছুটতে হয় এখানকার ছাত্র ছাত্রীদের। যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ। প্রতিবছর রেল বাজেটের সময় চাতক হয়ে চেয়ে থাকেন এতদঞ্চলের নাগরিক সমাজ।

জনপ্রিয় ঐ গ্রূপের অন্য এক সদস্য লিখেছেন, প্রতিদিন এক একটি মৃত্যু সংবাদ বলে দেয়- হু ইজ নেক্সট…? আমরা যারা বহরমপুর-করিমপুর-কৃষ্ণনগর রুটে যাত্রা করি তারা দেখেছি কিভাবে একটি মাল বোঝায় লরি একটি পরিবারকে বর্ষাকালের রাস্তায় পড়ে থাকা ব্যাঙের মত পিষে দিয়ে চলে যায়। আমরা দেখেছি বাস ভর্তি প্রিয়জনদের মৃতদেহ কিভাবে বাসের জানলাতে ঝুলতে থাকে। আমরা দেখেছি কিভাবে একটি দুধের শিশু দুনিয়া ছেড়ে চলে যায় মায়ের কোলেই। আর দেখতে চাই না সেই করুন দৃশ্য। এবার করিমপুরে রেলপথ চাই।