ভ্যান চালকের মেয়ে আয়েশা আলিমে রাজ্যে ষষ্ঠ, মেয়েদের মধ্যে প্রথম

0

হেদায়েতুল্লাহ খান, টিডিএন বাংলা, ডানকুনিঃ এবারের আলিম পরিক্ষায় ৮০২ নম্বর পেয়ে রাজ্যে ষষ্ঠ ও মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ডানকুনি সিদ্দিকীয়া সিনিয়ার মাদ্রাসার ছাত্রী আয়েশা খাতুন। হুগলী জেলার ডানকুনি থানার আকডাঙ্গার বাসিন্দা আয়েশার বাবা আওলাদ আলি পেশায় ভ্যান চালক। কোন রকমে দিন মজুরী করে সংসার চলে। অভাবের সংসার, কখনোও কখনোও সংসারের কাজে তাকেও হাত লাগাতে হয়। অভাবের তাগিদে পড়াশোনার ফাকে ছাতা বুনতে হয় আয়েশাকে।

ফাইনাল পরীক্ষার পূর্বে হঠাৎ বিয়ের সন্মন্ধ হয়ে গেলে মাদ্রাসার মিনামঞ্চের ছাত্রছাত্রীদের প্রচেষ্টায় তা বন্ধ হয়। নানান বাধা সত্বেও লেখাপড়ায় তার কোন প্রভাব ফেলতে দেননি আয়েশা। কঠিন অধ্যাবসায় থেকে রাজ্যে এক অনন্যা নজির গড়ল আয়েশা খাতুন। সে চায় ভবিষ্যৎ চিকিৎসক হতে। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অভাবের সংসার। তাদের পরিবার টিডিএন বাংলার মাধ্যমে আবেদন করেছে, আয়েশার চিকিৎসক হওয়ার পথে যাতে কোন সমস্যায় না পড়তে না হয় তার জন্য প্রশাসন উদ্যোগী হোক।

প্রধান শিক্ষক সৈয়দ সাফাকাত হোসেন টিডিএন বাংলাকে জানান, ‘পরিক্ষার পূর্বে আয়েশা বিয়ে দেওয়ার জন্য তার পরিবার প্রস্তুতি নেয়, বাল্যবিবাহ রোধ-স্বাস্থ সচেতনতা প্রভৃতির জন্য মাদ্রাসারই গড়ে তোলা মিনামঞ্চের উদ্যোগে তাদের পরিবারকে বুঝিয়ে পরিক্ষায় বসানো হয়। এতেই এই সাফল্য আয়েশার, আমরা চাই এরকম বহু আয়েশা তৈরি হোক, যারা দেশের দিকপাল হবে’। জেলা সংখ্যালঘু আধিকারিক অভিজিৎ ঘোষ বলেন ‘যে সমস্ত কৃতি ছাত্রছাত্রীরা মাদ্রাসা পর্ষদের মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছে তাদের উচ্চশিক্ষার পথ প্রসস্থের জন্য উদ্যোগ নেব’।

ডানকুনি পৌরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিক রিজওয়ান ওয়াহাব বলেন, ‘আয়েশার উচ্চশিক্ষার জন্য যেকোন রকম সহযোগিতার জন্য পৌরসভা প্রস্তুত’। এদিন ডানকুনি সিদ্দিকিয়া সিনিয়ার মাদ্রাসা ভবনে মুখ্যমুন্ত্রীর পক্ষ থেকে জেলা সংখ্যালঘু আধিকারিক কৌসিক ঘোস মানপত্র দিয়ে সংবর্ধিত করেন। উপস্থিত ছিলেন চন্ডীতলার বিধায়ক স্বাতী খন্দকর, ডানকুনি পৌরসভার পৌরপ্রধান হাসিনা সবনম, কার্যনির্বাহী আধিকারিক রিজওয়ান ওয়াহাব, জেলা সংখ্যালঘু আধিকারিক অভিজিৎ ঘোষ, শ্রীরামপুরের জয়েন্ট বিডিও, পৌরসভার কাউন্সিলর বৃন্দ মাদ্রাসার সম্পাদক, সভাপতি প্রমুখ।