দেশে অরাজকতা নামিয়ে আনার জন্য জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার : শরদিন্দু উদ্দীপন

0
নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : দেশে অরাজকতা নামিয়ে আনার জন্য জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে বিজেপি সরকার। এমনই অভিযোগ বহুজন সলিডারিটি মুভমেন্টসের নেতা শরদিন্দু উদ্দীপনের।
এসসি এসটি ওবিসি সংগ্রামী মঞ্চের পক্ষ থেকে শনিবার মৌলালি যুব কেন্দ্রের কাছে আম্বেদকর, পেরিয়ার, লেনিনের মূর্তি ভাঙার বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ সভা হয়। সেখানে এই কথা বলেন শরদিন্দু বাবু। এসসি এসটি ওবিসি সংগ্রামী মঞ্চের  সম্পাদক শরদিন্দু উদ্দীপন বলেন, “দেশদ্রোহী ব্রাহ্মন্যবাদী আতংকবাদ আজ সর্বগ্রাসী চেহারা নিয়ে ভারতের গণতন্ত্রকে চুরমার করে দিচ্ছে। সংগঠিত ভাবে দুর্নীতিকে ন্যায্যতা দিয়ে লুট হচ্ছে দেশের খাজানা।” তিনি টিডিএন বাংলাকে একান্তে বলেন, “একেবারে পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশে নৈরাজ্য এবং অরাজকতা নামিয়ে আনার জন্য শাসক সরাসরি ভাবে জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে। ত্রিপুরায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে যে ভাবে তাঁরা লেনিনের মূর্তি গুড়িয়ে দিল তা সম্প্রতিক কালের তালিবানী শাসনে আফগানিস্তানের বামিয়ান বুদ্ধ মূর্তি ভেঙ্গে ফেলার সমতুল। বিজেপির দেশদ্রোহী কর্মসূচী কতটা বর্বর স্তরে পৌঁছে গেছে তার প্রমান পাওয়া গেছে ভারতের সংবিধান নির্মাতা বাবা সাহেব আম্বেদকর এবং রামস্বামী পেরিয়ারের মূর্তি ভাঙ্গার মধ্য দিয়ে। এই সন্ত্রাসবাদী শক্তির হাতে চুরমার হয়েছে নেতাজী সুভাষ এবং মধুসূদনের মূর্তি; বাদ যায়নি সিধু-কানু, বীরসা, তিলকার মূর্তিও।”
ওই মঞ্চের আরেক নেতা সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস সঙ্ঘ ও বিজেপির বিভেদনীতির কঠোর সমালোচনা করেন। জামায়াতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতি মুহাম্মদ নুরুদ্দিন দলিত মুসলিমদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর কথা বলেন। সেই সাথে দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মুহাম্মদ নুরুদ্দিন বলেন, “দেশ জুড়ে এক অসহিষ্ণুতার পরিবেশ চলছে। বিরোধী মতকে কোনও ভাবে সহ্য করতে রাজি নয় শাসক দল। ত্রিপুরায় বিজয় উল্লাসে মত্ত হয়ে সাধারণ মানুষের উপরে হামলা, গরিব মানুষের ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া এক ভয়ঙ্কর ব্যাপার। লেনিনের মূর্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো, অসংখ্য জীবন্ত লেলিনদের রক্ত ঝরলো। তাদের মধ্যে বিজেপি সমর্থকও আছে। এই উগ্রতা ভয়ঙ্কর। আম্বেদকরের মূর্তি ভাঙা হলো ভারতের সংবিধানের প্রতি আক্রমনের জন্য। গণতান্ত্রিক দেশে এইসব চলতে পারেনা। দলিতদের উপরে দেশজুড়ে নির্যাতন চলছে, আর সংখ্যালঘু মুসলিমদের অস্তিত্তইতো মুছে ফেলতে চায়ছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই অবস্থার পরিপেক্ষিতে শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষদের গর্জে উঠতে হবে। সৌখিন আন্দোলন আর মোমবাতি মিছিলে কাজ হবেনা। প্রয়োজন শক্তিশালী লড়াই।”
এদিন ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ কর্মসূচি নেবার ঘোষণা দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন অনন্ত আচার্য, উত্তম সরকার, সুচেতা গোলদার, দেবাশিস গোলদার প্রমুখ।
head_ads