সাদ্দাম হোসেন, টিডিএন বাংলা, মালদা: মালদার গনিখান চৌধুরী ইনস্টিটিউট ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ দিন ধরে বিটেক কোর্সের অনুমোদন ও মান্যতার দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা। কয়েকদিন ধরে আন্দোলনের পরেও কর্তৃপক্ষের তরফে কোনো রকম  আশ্বাস না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে আবারও ছাত্রছাত্রীরা ১৮ই মে থেকে অনশনে বসেছে বলে জানা গিয়েছে। আজ তাদের অনশনের পঞ্চমদিন।

গত ১২ ই মে কলকাতার মাওলানা আবুল কালাম আজাদ উনিভার্সিটি টেকনোলজির পরিদর্শক দল গনিখান চৌধুরী ইনস্টিটিউট ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিদর্শনে আসেন এবং ১৪ ই মে তারা লিখিত ভাবে গনিখান বিশ্ববিদ্যালয় কে অনুমোদন প্রদান করলেও পুরোনো ব্যাচের ছাত্রছাত্রী যারা বিটেক পাস  করেছে অথবা যাদের সেশন দেরিতে হওয়ায় ডিপ্লোমা পাশের পর বিটেক এ গনিখানেই ভর্তি নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। তাদের ব্যাপারে  মাওলানা আবুল কালাম আজাদ উনিভার্সিটি টেকনোলজি কোনো কথা বলেনি বলে দাবি করেন ছাত্রছাত্রীরা।

এদিকে গতরাতে হটাৎ তীব্র গরম  ৪দিন ধরে অনশন করায়  তাপস মন্ডল ও ওয়াসিম হায়দার নামের দুইজন অনশনকারী অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাদের প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় মালদা মেডিক্যাল কলেজে  ভর্তি করা করা হয়।

এতকিছুর পরেও কলেজ কর্তৃপক্ষ মুখে কুলুপ এঁটেছেন। কলেজ সূত্রে জানা গেছে তিনি দিল্লি গেছেন। তবে গোপীনাথ, রুমন, আব্দুল কাইয়ুম ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ তাদের কে ডিরেক্টর ভর্তি না নেওয়ার জন্যেই টালবাহানা খেলছেন।তিনি ছাত্রছাত্রীদের দাবি পূরনে ব্যর্থ হওয়ায় নিজের গাফিলতি ঢাকতে দিল্লি যাওয়ার গল্প রচিত করছেন।

অনশনকারী ছাত্রদের মধ্যে জিএস সাইন জিহাদির  অভিযোগ,  ২০১৫ সাল থেকে তারা আন্দোলন করে আসছে বিটেক অনুমোদনের জন্যে কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদেরকেই চক্রান্ত করে বঞ্চিত করে, তাদেরকে না দিচ্ছে বৈধ সার্টিফিকেটে না নিচ্ছে তাদেরকে বিটেকের  দ্বিতীয় বর্ষে  ভর্তি। ফলে তাদের ভবিষ্যৎ বিশবাঁও জলে। কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে ভুল বুঝানোর জন্যে প্রচার করছে যে অনুমোদন হয়েছে কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনুমোদন হলেও সেটা সম্পূর্ণ নতুনভাবে ৪ বছরের বিটেক কোর্সের । ভর্তি প্রক্রিয়ার জন্যে পুরোনো নিয়ম অনুসারে সেখানে ডিপ্লোমার পর ৩ বছরের বিটেক এর কোনো জায়গা নেই। এভাবেই অনুমোদনের বিজ্ঞাপনের আড়ালে পুরোনো ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনার জীবনকে চুপিসারে খুন করছে। বিটেক কোর্সে দ্বিতীয় বর্ষে সমস্ত ব্রাঞ্চের পুরোনো ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলেও অনশনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।