সুন্দরবনের দ্বীপগুলিই ব্যবসার আদর্শ জায়গা, সারিসারি বাঁশ ভর্তি বোটে ভেসে আসে ওরা

0
রেবাউল মন্ডল, টিডিএন বাংলা, ক্যানিং : বাড়ি থেকে ওরা কেউ বেরিয়েছে পনেরো বিশ দিন কেউবা মাসের ধাক্কা। সাথে নিজেদেরই বোট আর প্রয়োজনীয় রসদ। প্রতি বোটেই প্রায় পাঁচশ থেকে সাতশ বাঁশ। বিকিকিনি সম্পন্ন না হলে বাড়ি ফেরার জো নেই। ওদের কেউ এসেছে বনগাঁ থেকে কেউবা বসিরহাট। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার দ্বীপগুলিই ওদের ব্যবসার আদর্শ জায়গা। কেননা লবনাক্ত জমিতে এখানে বাঁশের উৎপাদন একেবারেই নেই। আর খড় বাঁশ দিয়েই ছাওয়া হয় এখানকার ঘরবাড়ি।
সুন্দরবনের কালীনগর, গোসাবা, কচুখালী, বেলতলী, আমতলী পেরিয়ে মোল্লাখালী বাজার সংলগ্ন নদীতে রবিবার সন্ধ্যায় বোট ভর্তি বাঁশ নিয়ে পৌঁছেছিলেন বনগাঁর শেখ আব্দুল আজিজ। টিডিএন বাংলাকে তিনি জানালেন, “এখানকার প্রায় সব বাড়িই কাঁচা বাঁশ-মাটির তৈরি। তাই স্বাভাবিকভাবেই বাঁশের চাহিদা এঅঞ্চলে বেশি হওয়ায় আমরা এখানেই আসি। আর এই ব্যবসার ওপরেই আমরা নির্ভরশীল।”
এক হাট শেষ হলে আবার অন্য হাটের উদ্দেশ্যে রওনা। রাতের বেলা জেটি তীরে নৌকা বেঁধেই চলে ওদের রান্না খাওয়া। এদিন জেটি ঘাটে আসা বসিরহাটের এক বাঁশ ব্যবসায়ী টুপি মাথায় মাগরিবের নামাজ বোটেই সেরে নিলেন। নামাজ শেষে রসিকতার ঢঙে বলছিলেন, “সমস্ত বাঁশ বিক্রি না করে ঘরে ফিরলে বৌয়ের ঝাঁটা খেতে হবে যে! তাই বিশ-ত্রিশ দিন এভাবে জলের উপরেই কেটে যায় আমাদের। বাঁশ পিছু খরচও বেড়েছে। তবে আগের মত আর সেই মজা নেই ব্যবসায়। অনেক সময় লোকসান করেও ফিরতে হয়।”
এদিন পুঁইজালির এক ক্রেতা এসেছিলেন বাঁশ কিনতে। তিনি বলছিলেন, ‘নদীপথে ওরা আসে বলেই আমাদের চাহিদাটা মেটে। তবে দিন দিন দামটাও বেড়ে যাচ্ছে।’ পেটের দায়ে পরিজন ছেড়ে নদীকেই আপন করে নিয়েছেন আজিজ, রহমানরা। ওদের মাথার উপর দিয়েই যায় রোদ-ঝড়-বৃষ্টি। রাত হোক বা দিন। ভাঁটার সময় ওদের বোট আটকে যায় চরে। তখন আবার কয়েক ঘন্টা কাটে জোয়ারের অপেক্ষায়। তবুও পরোয়া নেই। এভাবেই নোনা জলে কেটে যায় ওদের জীবন।