দেশবাসীকে  সংখ্যাগুরু- সংখ্যালঘু এই দুই ভাগে ভাগ করা হয় কোন যুক্তিতে : ডঃ মীরাতুন নাহার 

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: ধর্মনিরপেক্ষ দেশে দেশবাসীকে  সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু এই দুই ভাগে ভাগ করা হয় কোন যুক্তিতে। এমনই প্রশ্ন তুললেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডঃ মীরাতুন নাহার। টিডিএন বাংলাকে দেশের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি এই কথা বলেন। তাঁর মন্তব্য,”সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু কী কথা? আমরা কি শুধু সংখ্যালঘু? কোন দিক থেকে সংখ্যালঘু? যদি পিছিয়ে পড়ার মধ্য দিয়ে সংখ্যালঘু হই তবে আমরা পিছিয়ে পড়াদের মধ্যে সংখ্যাগুরু। আর ধর্ম বিশ্বাসের নিরিখে যদি সংখ্যালঘু হই তবে একটা প্রশ্ন, যে দেশ ধর্মনিরপেক্ষ সেই দেশের মানুষজনকে সংখ্যাগুরু আর সংখ্যালঘু এই দুই ভাগে ভাগ করা হয় কোন যুক্তিতে? এই বিভাজনের ফলে বৈষম্য বাড়ছে,
সংখ্যালঘু নির্যাতন বাড়ছে, বঞ্চনা বাড়ছে এবং সেটাকেই স্বভাবিক বলে মনে করা হচ্ছে। এটা দেশের একটা বিরাট সমস্যা।” মীরাতুন নাহার আরও বলেন,”শোষণ,বঞ্চনা,নির্যাতন সব কিছুর মূলে এই বিভাজন। এই বিভাজন ক্রিয়াশীল। মুসলিমদের আজ আর মুসলিম বলা হয়না, বলা হয় সংখ্যালঘু। মুসলিম ছাড়া ভারতে আর সংখ্যালঘু নেই?”
তিনি রাজনৈতিক নেতা নেত্রীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদান করার বিরোধীতা করে বলেন,”ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করা সংবিধান সম্মত নয়। কারণ আমাদের ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ।” তাঁর প্রশ্ন-“যেসব দল ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে বা সরাসরি বিশেষ ধর্ম বিশ্বাসী মানুষদের অপরে নির্যাতন নামিয়ে আনে সেই দল দেশের মাথার উপরে কর্তৃত্ব করে কী করে? সেই দল নিষিদ্ধ বলে ঘোষিত হয়না কেন?”
সংহতি নিয়ে বলতে গিয়ে মীরাতুন নাহার বলেন,”হিন্দু মুসলিম এই দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরাট ফারাক রয়ে গেছে।
কোনও রকম সম্পর্ক তৈরি হয়নি। এই দুরত্ব ঘোচানোর কোনও চেষ্টা হচ্ছে কি?”

tdn_bangla_ads